জিতেন্দ্র ইস্যুতে বাবুলকে ডেকে কথা বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের

363

বিধাননগর: আসানসোলের প্রাক্তন মেয়র জিতেন্দ্র তিওয়ারিকে দলে শামিল করার ব্যাপারে বদ্ধপরিকর বিজেপির একটা বড় অংশ। আর ওই ব্যাপারে প্রকাশ্যে মন্তব্য করে তাদের বিপাকে ফেলে দিয়েছেন বাবুল সুপ্রিয়। আর সেকারণেই বাবুলকে বুঝিয়ে-শুঝিয়ে জিতেন্দ্রর দলে যোগদানের ব্যাপারে রাজি করানোর জন্যই মঙ্গলবার বাবুলকে তাঁর কইখালির বাড়িতে ডেকে পাঠিয়েছিলেন বিজেপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক শিব প্রকাশ। সেই বৈঠকে হাজির ছিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা এরাজ্যের পর্যবেক্ষক কৈলাশ বিজয়বর্গীয়, অরবিন্দ মেনন প্রমুখরা।

বৈঠক শেষে বেরিয়ে যাওয়ার পথে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বাবুল সুপ্রিয় জানান, এদিন দলীয় কাজকর্মের ব্যাপারে আলোচনার জন্যই তাঁকে ডেকে পাঠানো হয়েছিল। যেটা প্রায়ই সেই দলের তরফে করা হয়ে থাকে। তাই এদিনের বৈঠক কোনও নতুন ব্যাপার ছিল না। তিনি জানান, তিনি এদিনই আসানসোলে ফিরে যাচ্ছেন। তবে শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে তাঁর একটি পদযাত্রায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। সেই পদযাত্রায় অংশগ্রহণ করার পরই তিনি আসানসোলে ফিরে যাবেন।

- Advertisement -

প্রসঙ্গত, আসানসোলের মেয়র জিতেন্দ্র তিওয়ারির সেখানকার সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়র প্রতি বৈরী মনোভাবের বিষয়টি কারোরই অজানা নয়। বিভিন্ন ক্ষেত্রে জিতেন্দ্র তিওয়ারির সাগরেদদের হাতে নিগৃহীত হতে হয়েছিল বাবুলকে। শুধু তাই নয়, আসানসোলের উন্নয়নের জন্য বাবুল যেসব পরিকল্পনা করেছিলেন সেগুলিকেও কার্যকর করতে দেননি জিতেন্দ্র তিওয়ারি। তবে অতসব করেও বাবুলের জয়কে আটকানো যায়নি। আর মূলত সেসব কারণেই সেই জিতেন্দ্র তিওয়ারিকে দলে শামিল করার উদ্যোগকে মেনে নিতে না পেরে প্রকাশ্যে তাঁর ক্ষোভ ব্যক্ত করেছিলেন বাবুল সুপ্রিয়। তাঁকে সমর্থন জানিয়েছিলেন দলের রাজ্য কমিটির অন্যতম সাধারণ সম্পাদক সায়ন্তন বসু ও মহিলা মোর্চার সভানেত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। আর তাঁদের সেই প্রকাশ্যে বিক্ষোভ প্রদর্শনের দরুণ শেষ মুহূর্তে জিতেন্দ্র তিওয়ারির বিজেপিতে যোগদান স্থগিত হয়ে যায়।

বিজেপিতে যোগদানের জন্য তিনি মেয়র পদে ইস্তফা দেওয়ার পাশাপাশি তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু শেষমেশ বিজেপিতে শামিল হতে না পেরে তাঁকে আবার মাথা নীচু করেই তৃণমূলে ফিরে যেতে হয়। সোমবারই তিনি সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, তিনি তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করে ওই ব্যাপারে ক্ষমা চেয়ে নিয়েছেন। তবে ক্ষমা চাইলেও ওই দলের তরফে তাঁর পুরোনো পদে ফেরত দেওয়ার ব্যাপারে কোনও আশ্বাস এখনও পর্যন্ত দেওয়া হয়নি।

জিতেন্দ্র তিওয়ারিকে দলে শামিল করার ব্যাপারে উদ্যোগী ছিলেন দলের সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি মুকুল রায়, সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক কৈলাস বিজয়বর্গীয় ও সদ্য বিজেপিতে যোগ দেওয়া জননেতা শুভেন্দু অধিকারী। জিতেন্দ্রকে দলের তরফে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল দলে শামিল করার ব্যাপারে। কিন্তু তারপরে বিষয়টি আটকে যাওয়ায় বিপাকে পড়ে যান বিজেপির সেইসব নেতারা যাঁরা তাঁকে দলে নেওয়ার জন্য উদ্যোগী হয়েছিলেন।

দলের শীর্ষ নেতৃত্বের তরফে ইতিমধ্যেই বাবুল সুপ্রিয়, সায়ন্তন বসু, অগ্নিমিত্রা পালকে সতর্ক করে দেওয়া হয়। তাঁদের বুঝিয়ে দেওয়া হয় দলের কোনও সিদ্ধান্তের ব্যাপারে কারোর যদি কোনও ক্ষোভ থাকে, তবে তাঁরা তা দলের মধ্যেই ব্যক্ত করেন। দলের বাইরে প্রকাশ্যে বা সংবাদমাধ্যমের কাছে কোনওমতেই সেই ক্ষোভ ব্যক্ত করা যাবে না। যদি কেউ তা করেন তবে তাঁর সেই কাজকে দল বিরোধী কাজ বলে গণ্য করে দলের তরফে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিষয়টি ওই পর্যায়ে মিটে গেলেও দলের যে পক্ষটি জিতেন্দ্র তিওয়ারিকে দলে শামিল করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন তাঁরা আবার নতুন করে চাপ সৃষ্টি করা শুরু করেন। তাঁদের মতে, দলে যোগদানের ব্যাপারে জিতেন্দ্রকে যখন সবুজ সংকেত দেওয়া হয়েছিল তখন তা থেকে সরে আসলে যাঁরা তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে শামিল হতে চাইছেন, সেইসব নেতাদের কাছে একটা ভুল বার্তা যাবে। দলের তরফে ওই ব্যাপারে কিছু না বললেও বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গিয়েছে, মূলত জিতেন্দ্রকে দলে নেওয়ার ব্যাপারে বাবুল সুপ্রিয়কে রাজি করানোর উদ্দেশ্যই তাঁকে এদিন শিব প্রকাশ জি’র বাড়িতে সকালে বৈঠক ডাকা হয়েছিল।

ওই ব্যাপারে বাবুল সুপ্রিয় দলকে কি জানিয়েছেন, তা অবশ্য সঠিকভাবে জানা যায়নি। তবে বিশ্বস্ত সূত্রে পাওয়া খবরে জানা যায়, বাবুল সুপ্রিয় দলীয় নেতাদের জানিয়ে দিয়েছেন ওই ব্যাপারে তাঁর কোনও আপত্তি না থাকলেও দলীয় কর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করে তিনি যা জানাবার দলকে জানিয়ে দেবেন।

তবে মুখে জিতেন্দ্র তিওয়ারি তৃণমূলে ফিরে যাওয়ার ব্যাপারে যাই বলুন না কেন, এখনও যে তিনি বিজেপির দিকে তাকিয়ে রয়েছেন তার প্রমাণ বিগত কয়েকদিনে তাঁর কার্যকলাপ থেকে পরিষ্কার। তিনি গোপনে বিজেপি নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখেই চলেছেন বলে তাঁর ঘনিষ্ঠ মহল সূত্রে জানা গিয়েছে।