করোনা আক্রান্ত তৃণমূল নেতার অনুষ্ঠানে সম্বর্ধিতদের কোয়ারান্টিনে পাঠানোর দাবি, বিধাননগরে বিক্ষোভ বিজেপির

249

ফাঁসিদেওয়া, ৮ জুলাইঃ করোনা সংক্রমিত শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের বিরোধী দলনেতা কাজল ঘোষের আয়োজিত অনুষ্ঠানে সম্বর্ধিত বিধাননগর প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রের মেডিকেল অফিসারকে কোয়ারান্টিনে পাঠানোর দাবি তুলে বিক্ষোভে সামিল হল বিজেপি। বুধবার বিকেল নাগাদ বিজেপির বিধাননগর মন্ডল কমিটির পক্ষ থেকে ওই স্বাস্থ্য কেন্দ্রের মেডিকেল অফিসার ইন চার্জ বিশ্বজিৎ দত্তকে কোয়ারান্টিনে পাঠানোর দাবি তোলা হয়। পাশাপাশি, করোনা সংক্রমিত তৃণমূল কংগ্রেস নেতা কাজল ঘোষের সংস্পর্শে আসা ওই চিকিৎসককে স্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসা সংক্রান্ত কাজ থেকে আগামী ১৪ দিন অব্যাহতি নেওয়ার দাবি তোলা হয়েছে। অন্যদিকে, গত ৫ জুলাই বিধাননগরের হোটেলে করোনা পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য বিধি না মেনে সরকারি আধিকারিক, স্বাস্থ্য কর্মী, পুলিশ কর্তা সহ প্রায় দেড় শতাধিক মানুষকে নিয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে হাজির হওয়া সকলকে কোয়ারান্টিন পাঠানোর দাবি তোলা হয়েছে। এর কারণ হিসেবে নেতা-কর্মীরা দাবি করেন, ওই স্বাস্থ্য কেন্দ্রে গ্রামীণ এলাকা সহ প্রায় পাঁচশো রোগী দৈনিক চিকিৎসার জন্য স্বাস্থ্য কেন্দ্রে আসেন। সংক্রমণ শুরু হলে, ঠেকানো মুশকিল হয়ে পড়বে। এদিন সন্ধ্যা প্রায় ৬টা পর্যন্ত বিজেপির এই বিক্ষোভ কর্মসূচি চলে। এদিনের কর্মসূচিতে ফাঁসিদেওয়া পঞ্চায়েত সমিতির প্রাক্তণ সভাপতি তথা বিজেপি নেতা প্রণবেশ মন্ডল (আপলু), বিজেপি বিধাননগর মন্ডল কমিটির সভাপতি কুমুদ রঞ্জন মজুমদার সহ স্থানীয় বিশিষ্ট নেতা-কর্মীরা উপস্থিত হয়েছিলেন। প্রণবেশ মন্ডল জানিয়েছেন, কাজল ঘোষ রবিবারের অনুষ্ঠানের ৫ দিন আগে থেকে জ্বরে ভুগছিলেন। যিনি বিধাননগর তথা তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষস্থানে থেকে গুরুদায়িত্ব পালনের কথা বলেন, সেই মানুষটির এই রকম মূর্খের মতন কাজ একেবারেই মেনে নেওয়া যায় না। ওই তৃণমূল নেতার এই কার্যকলাপে প্রশাসনের আধিকারিকদের মধ্যে যেমন করোনা সংক্রমণের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। শুধু তাই নয়, বিধাননগর, শিলিগুড়ি মহকুমা, ইসলামপুর, চোপড়া সহ একাধিক এলাকাতে মারণ ভাইরাস সংক্রমণের প্রবল আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তিনি আরও জানান, কাজল ঘোষের সংস্পর্শে আসা সকলকে অবিলম্বে ১৪ দিনের কোয়ারান্টিন পাঠানোর ব্যবস্থা করতে হবে। বিশ্বজিৎ দত্ত জানিয়েছেন, মাত্র ১ মিনিট সম্বর্ধনা নেওয়ার জন্য কাজল ঘোষের কাছে তিনি গিয়েছিলেন। তবে, মাস্ক পড়ে, শারিরীক দূরত্ব বজায় রেখেই সম্বর্ধনা নিয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন। এদিকে, মঙ্গলবার কাজল ঘোষের শরীরে করোনা সংক্রমণ ধরা পড়তেই, ফাঁসিদেওয়ার বিডিও সঞ্জু গুহ মজুমদার, ফাঁসিদেওয়া ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক অরুণাভ দাস, ফাঁসিদেওয়ার ওসি সুজিত লামা, বিধাননগর তদন্ত কেন্দ্রের ওসি মানস দাস, ঘোষপুকুর ফাঁড়ির ওসি অভিজিৎ বিশ্বাস, বিধাননগর ১ এবং ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান টুলটুলি সরকার, সুজয় মজুমদার সহ অনেকেই নিজেদের কোয়ারান্টিন করে ফেলেছেন। এদিন ফাঁসিদেওয়া বিডিও অফিসের তরফে থেকে সমষ্টি উন্নয়ন কার্যালয় থেকে শুরু করে বিধাননগরের ১ এবং ২ গ্রাম পঞ্চায়েত কার্যালয় স্যানিটাইজ করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ফাঁসিদেওয়ার বিডিও বিজেপির এদিনের দাবি প্রসঙ্গে কোনও মন্তব্য করেননি। ফাঁসিদেওয়ার বিএমওএইচ অরুণাভ দাস জানিয়েছেন, বিশ্বজিৎ বাবু কোনও ভাবেই আক্রান্তের প্রাইমারী কন্টাক্টে ছিলেন না। পাশাপাশি, মাত্র ১ মিনিটের জন্য সমস্ত সাবধানতা অবলম্বন করে তিনি সম্বর্ধনা নিয়েছেন। সরকারি নির্দেশানুযায়ী নুন্যতম ৬ ঘণ্টা আক্রান্তের সংস্পর্শে না থাকলে তাঁকে কোয়ারান্টিন করা হবে না। এছাড়া তিনি আরও জানান, ওই চিকিৎসকের কোনও উপসর্গ নেই। জরুরিভিত্তিক কাজে যুক্ত থাকার জন্য তাঁকে কাজ করতে হচ্ছে। তবে, মাস্ক পড়া সহ সমস্তরকম সাবধানতা অনুসরণ করে চিকিৎসার কাজ চালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে। আগামীতে কোনও রকমের উপসর্গ দেখা দিলে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে তিনি জানান।