ভিন জেলার মৃৎশিল্পীদের পাশে বিজেপির মেডিকেল টিম

323

দীপঙ্কর মিত্র, রায়গঞ্জ: ভিন জেলা থেকে প্রতিমা তৈরির কাজ করতে এসে লকডাউনের কারণে রায়গঞ্জে আটকে পড়েছেন বেশ কয়েকজন মৃৎশিল্পী। কবে বাড়ি ফিরতে পারবেন তাঁরা কেউই জানেন না।

রায়গঞ্জের বেশ কয়েকটি ক্লাব দুর্গা পুজোর প্রতিমা অর্ডার দিয়েও পরে বাতিল করে দেওয়ায় রায়গঞ্জের কুমোরটুলিতে কাজ বন্ধ হয়ে গিয়েছে। স্বাভাবিক কারণেই সমস্যায় পড়েছেন নদিয়া জেলার নাকাশিপাড়ার বেথুয়াডহরী গ্রামের মৃৎশিল্পীরা। কাজ বন্ধ থাকায় মিলছে না মজুরি। ফলে নিজেদের খাবারের সংস্থান করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন তাঁরা। এবার এই অসহায় মৃৎশিল্পীদের পাশে গিয়ে দাঁড়ালেন বিজেপির মেডিকেল টিমের সদস্যরা। টিমের সদস্যরা শিল্পীদের খাবারের ব্যবস্থা করলেন। চাল, ডাল, আলু সহ অন্যান্য সামগ্রী তাঁদের হাতে তুলে দিলেন।

- Advertisement -

এক মাসের বেশি সময় হল লকডাউন চলছে। তাই তাঁদের হাতে যে অর্থ ছিল তাও শেষ। এখন দুবেলা খাওয়ার যোগাড় করাটাই চ্যালেঞ্জ তাঁদের কাছে। ইতিমধ্যে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন করছেন শিল্পীরা। বিজেপির মেডিকেল টিমের আহ্বায়ক আনন্দ দত্ত বলেন, আমাদের কাছে খবর আসে রায়গঞ্জের কুমোরটুলিতে বেশ কয়েকজন ভিন জেলার মৃৎশিল্পী কষ্টের মধ্যে আছেন। কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মজুরী মিলছে না তাঁদের। এরপরেই আমাদের টিমের সদস্যরা তাদের কাছে পৌঁছে গিয়ে খাদ্যসামগ্রী তুলে দেন।

নদীয়া জেলার নাকাশিপাড়ার বেথুয়াডহরী গ্রামের মৃৎশিল্পী শ্যামল পাল, কামাখ্যা পাল, তপন পাল, সুকুমার সরকার ও রনজিৎ দে প্রতিবছরে মতো এবছরেও মার্চ মাস নাগাদ রায়গঞ্জে দুর্গা প্রতিমা তৈরি করতে আসেন। দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে রায়গঞ্জে প্রতিমা তৈরি করতে আসছেন তাঁরা। সেই মতো এবছরও মার্চ মাস নাগাদ তাঁরা রায়গঞ্জে চলে আসেন। প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু করতেই দেশ জুড়ে শুরু হয় লকডাউন। কতদিন লকডাউন চলবে এবং স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসবে তা কেউই জানে না। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি ক্লাব তাঁদের প্রতিমার অর্ডার বাতিল করে দিয়েছে। ফলে তাদের মাথায় হাত পড়েছে শিল্পীদের । এই অবস্থায় তারা অনিশ্চয়তার মধ্যে মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। নিজেদের খাবারের সংকট তৈরি হয়েছে।

মৃৎশিল্পী শ্যামল পাল জানান, লকডাউনের ফলে তাঁদের কাজ বন্ধ হয়ে গিয়েছে। করোনা আতঙ্কে যেসব ক্লাব দুর্গা প্রতিমা বানানোর অর্ডার দিয়েছিলেন, তাঁরা এখন বাতিল করে দিয়েছেন। প্রশাসন যদি বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করে তাহলে বেঁচে যাই। কামাখ্যা পাল নামে আরো এক মৃৎশিল্পী বলেন, ১৫ দিন ধরে আমরা বসে আছি, কোনও কাজ নেই। দুটো পয়সা বাড়তি উপার্জনের জন্য বাইরে থেকে এখানে কাজ করতে এসেছি। পয়সা রোজগারও বন্ধ হয়ে গেল। কীভাবে সংসার চলবে তা ভাবতে পারছি না। তার মধ্যে এই লকডাউনের কারনে বাড়িও যেতে পারছি না। পরিবার নিয়েও দুশ্চিন্তায় পড়েছি। কিভাবে আগামীদিনগুলি চলবে বুঝতে পারছি না। চাল, ডাল, আলু পেয়ে নিশ্চিন্ত হলাম।

বিজেপির জেলা সভাপতি বিশ্বজিৎ লাহিড়ী বলেন, মৃৎশিল্পীরা যাতে বাড়ি যেতে পারেন, সেই চেষ্টা আমরা করব।যতদিন পর্যন্ত না তাঁরা বাড়ি যেতে পারছেন ততদিন আমাদের মেডিকেল টিমের সদস্যরা খাবারের ব্যবস্থা করবেন।