আর মরতে চাই না, এবার মারতে চাই, হুঁশিয়ারি বিজেপির জেলা সভাপতির

373

বর্ধমান: ‘আমরা শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীর দলের সৈনিক। তাই আমরা প্রতিরোধ করতে ও প্রতিশোধ নিতে জানি। আজ বাংলার যা পরিস্থিতি তাতে হয় মারো, নয়তো মরো।’ দলের কর্মী ও সমর্থকদের উদ্দেশ্যে শুক্রবার এই বার্তাই দিলেন বিজেপির পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়ার সাংগাঠনিক জেলা সভাপতি কৃষ্ণ ঘোষ। তার এমন বক্তব্য ঘিরে কাটোয়ার রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। শাসক দলের নেতৃত্বের বক্তব্য, বিজেপি এই বাংলায় খুনের রাজনীতি শুরু করতে চাইছে।

পশ্চিমবঙ্গ বাঁচাও-গণতন্ত্র বাঁচাও কর্মসূচির ডাক দিয়েছে বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব। সেই কর্মসূচিকে সামনে রেখে শুক্রবার বেলা ১১টা থেকে কাটোয়া মহকুমা শাসকের অফিসের সামনে গণ অবস্থানে বসে বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। সেই অবস্থান কর্মসূচী চলে বিকাল পর্যন্ত। অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখতে উঠে কৃষ্ণ ঘোষ আগাগোড়াই রাজ্যের শাসক দলের বিরুদ্ধে সুর চড়ান।

- Advertisement -

তিনি দলের কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আর আমরা মরতে চাইনা। এবার মারতে চাই। মনে রাখতে হবে আমরা শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীর দলের সৈনিক। তাই আমরা প্রতিরোধ গড়ার পাশাপাশি প্রতিশোধও নিতে জানি।’ তাঁর দাবি, বিগত পঞ্চায়েত নির্বাচন থেকে এই পর্যন্ত রাজ্যে ১০৬ জন বিজেপি কর্মী নিহত হয়েছেন। সেই তালিকায় পূর্ব বর্ধমান জেলার কেতুগ্রাম ও মন্তেশ্বর বিধানসভা এলাকার বিজেপি দুই কার্যকর্তাও রয়েছেন। তৃণমুলের গুন্ডারাই তাদের প্রাণে মেরেছিল৷ ওই সমস্ত সৈনিকদের জীবন বলিদান ব্যর্থ যাবে না। ২০২১ সালে বিজেপি রাজ্যে ক্ষমতায় আসছেই।

কাটোয়ার বিজেপি সভাপতি কৃষ্ণ ঘোষের এই বক্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করেছেন তৃণমূলের রাজ্যের মুখপত্র তথা পূর্ব বর্ধমান জেলাপরিষদের সহসভাধিপতি দেবু টুডু। পালটা বক্তব্যে তিনি বলেন, এই বাংলাতেও বিজেপি খুনের রাজনীতি শুরু করতে চাইছে। তাই বলছে এবার মারবে। পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে দেবু টুডু বলেন, এটা উত্তরপ্রদেশ কিংবা গুজরাত নয়। বিজেপি মারধোর, হামলা, সন্ত্রাসের পথ নিলে তৃণমূলের কর্মীরা হাতগুটিয়ে বসে থাকবে না। ওদের যোগ্য জবাব দেওয়া হবে।