করোনা মোকাবিলায় রাজ্যের চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন সাংসদ

75
ফাঁসিদেওয়াতে ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিকের কক্ষে বিজেপি নেতৃত্ব। - সংবাদচিত্র

ফাঁসিদেওয়া, ৩০ মেঃ রাজ্য সরকার করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যার্থ। সরকারি হাসপতালগুলিতে সঠিক চিকিৎসা ব্যবস্থা নেই। আক্রান্তরা ভগবান ভরসায় সুস্থ হয়ে উঠছেন। আর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রতিদিন সাংবাদিক বৈঠক করে চলেছেন। রবিবার ফাঁসিদেওয়াতে এসে দার্জিলিংয়ের বিজেপি সাংসদ এভাবেই মুখ্যমন্ত্রীকে তোপ দেগেছেন। সাংসদ আরও বলেন, তৃণমূল নেতারা নিজেদের কাজ ঠিক গুছিয়ে নিচ্ছেন। তবে, সাধারণ মানুষ সঠিক চিকিৎসা পরিষেবা না পেয়ে মারা যাচ্ছেন। এদিকে, বেসরকারি হাসপাতালে করোনা চিকিৎসায় প্রচুর খরচ। তাই, গরীব মানুষ সেখানে চিকিৎসা করাতে পাচ্ছেন না। রাজ্যের মানুষ করোনা অতিমারির এই পরিস্থিতিতে রীতিমতো বিপন্ন হয়ে পড়েছেন। রাজু বিস্টার দাবি, দেশে করোনা পরিস্থিতি এখন অনেকটাই ভালো রয়েছে। তবে, রাজ্য করোনা ভাইরাস এখনও চিন্তার কারণ হয়ে রয়েছে।

বিজেপি সাংসদ এদিন ফাঁসিদেওয়া গ্রামীণ হাসপাতালে ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক অরুণাভ দাসের সঙ্গে দেখা করেন। হাসপাতালের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন৷ বেশকিছু পরামর্শ দেন। একইসঙ্গে হাসপাতালে অক্সিজেন সিলিন্ডার পরিষেবা নেই বলে তিনি অভিযোগ করেছেন। কেন্দ্রে বিজেপি সরকারের ৭ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে হাসপাতালে ১০ লিটার ক্ষমতা সম্পন্ন অক্সিজেন কনসেনট্রেটর মেশিন, মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরণ করেছেন। এদিনের কর্মসূচিতে মাটিগাড়া-নকশালবাড়ির বিজেপি বিধায়ক আনন্দময় বর্মন, শিলিগুড়ির বিজেপি বিধায়ক শংকর ঘোষ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও বিজেপি শিলিগুড়ি সাংগঠনিক জেলা সাধারণ সম্পাদক রাজু সাহা, ফাঁসিদেওয়া বিজেপির মণ্ডল সভাপতি অনিল ঘোষ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। সাংসদ বলেন, বেশকিছু বিষয়ে চিকিৎসকদের নজর দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। পাশাপাশি, রাজু বিস্টা রাজ্য সরকারকে করোনা নিয়ে চিকিৎসা পরিষেবা উন্নত করার আর্জি জানান।

- Advertisement -

অন্যদিকে, ব্লকের বিধাননগর সংলগ্ন ভীমবারে দৃষ্টিহীন বিদ্যালয়ে খাদ্য সামগ্রী সহ অর্থ তুলে দিয়েছেন সাংসদ। বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের হাতে বিশেষ ক্ষমতা সম্পন্ন পড়ুয়াদের জন্য ১ কুইন্টাল চাল, আলু তুলে দিয়েছেন। একইসঙ্গে নগদ ৫০ হাজার টাকাও তুলে দিয়েছেন। রাজু বিস্টা বলেন, এই বিদ্যালয়ের কথা আমার জানা ছিল না। বিষয়টি জানতেই এখানে আসি। দলের সকল কর্মীরাই এদিন সাহায্য করছেন। এই বিশেষ দিনে এর থেকে ভালো সহায়তা, তাঁর কাছে আর কিছু হতে পারে না বলে তিনি দাবি করেন। তিনি আরও বলেন, আমি এমপি ল্যান্ড ফান্ড থেকে ১০ লক্ষ টাকা সেংশন করছি। ভবিষ্যতেও আমি বিদ্যালয়ের পাশেই থাকব। ভীমবার দৃষ্টিহীন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আশিষ সরকার বলেন, এই প্রথম কোনও সাংসদ আমাদের এখানে এসেছেন। তিনি এসে আমাদের খাদ্য সামগ্রী ও নগদ অর্থ তুলে দিয়েছেন। ভবিষ্যতেও আমাদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। আমরা সরকারি সুবিধা ছাড়াই, বিদ্যালয়টি চালিয়ে যাচ্ছি। সাংসদের এই সহযোগীতা অত্যন্ত জরুরি ছিল। রাজু বিস্টা তা পূরণ করেছেন।