মমতার লজিস্টিক পার্কের প্রতিশ্রুতিকে ‘ভাওতাবাজি’ বলে কটাক্ষ বিজেপির

143

গৌতম সরকার, মেখলিগঞ্জ: কোচবিহার জেলার মেখলিগঞ্জ ব্লকে জয়ী সেতু সংলগ্ন তিনশ একর জমির উপর বৃহৎ শিল্প এবং লজিস্টিক পার্ক তৈরি করা হবে।বিধানসভা ভোট ঘোষণা হবার কিছুদিন আগে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একথা ঘোষণা করেছেন। আর এটাকেও হাতিয়ার করে বিধানসভা নির্বাচনে ভোট প্রচার করছেন তৃণমূল কংগ্রেস। তাঁরা ভোটারদেরকে বোঝানোর চেষ্টা করছেন, তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম লক্ষ্যই হচ্ছে উন্নয়ন। তিস্তার পাড়ে মেগা ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক গড়ে উঠলে এই এলাকার অর্থনৈতিক উন্নয়ন হবে। ভোট প্রচারে এই ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করেছে বলেও তাঁরা দাবি করেন।

তবে এটাকে অবশ্য ভোটের আগে ভাওতা বলে দাবি করেছেন বিরোধী রাজনৈতিক দল বিজেপি।তাঁরাও এটা নিয়ে পালটা প্রচারে ময়দানে নেমেছেন। তিস্তা পাড়ের এই শিল্পের বিষয়টি যখন বিরোধী এবং শাসকদলের ভোট প্রচারের আলোচনায় উঠে আসছে তখন কিন্তু এটা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। তাদের একটি অংশের জিজ্ঞাসা এই শিল্পের বাস্তবায়ন নিয়ে। আরেকটি অংশ আবার বলছেন, প্রকল্পের কথা ঘোষণা এবং বাস্তবায়ন দুটি আলাদা বিষয় তাই কাজ পুরোদমে শুরু না হলে এসম্পর্কে ধারণা করাই মুশকিল। আর ভোটের আগে এক শ্রেণীর নেতা কর্তাদের প্রতিশ্রুতির ঘটনাও নতুন কিছু নয়। সবমিলিয়ে তিস্তার পাড়ের প্রস্তাবিত শিল্পও ভোট প্রচারে জায়গা করে নিয়েছে রাজ্যের এক নম্বর এই মেখলিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রে।

- Advertisement -

এই কেন্দ্রের এবারের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী পরেশ চন্দ্র অধিকারী বলেন, ‘তিস্তা নদী সংলগ্ন এলাকায় বৃহৎ শিল্প এবং লজিস্টিক হাব নিয়ে মানুষ দারুণ খুশি। কারণ এটা হলে এলাকার কৃষকসহ অনেক মানুষ উপকৃত হবেন। ভোট প্রচারে গিয়েও এনিয়ে মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া মিলছে। তাঁরা যে খুশি সেটাও বোঝা যাচ্ছে।’

বিজেপির মেখলিগঞ্জ দক্ষিণ মণ্ডল কমিটির সভাপতি তথা এই কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী দধিরাম রায় অবশ্য বলেন, ‘তিস্তা নদী সংলগ্ন এলাকায় যে বৃহৎ শিল্প ও লজিস্টিক হাবের কথা বলা হচ্ছে সেটা ভাওতা ছাড়া আর কিছুই নয়।তৃণমূল কংগ্রেস শিল্প তাড়ানোর দল।মেখলিগঞ্জ বিধানসভা এলাকার মানুষও তৃণমূলের ভাওতাবাজী বুঝে গেছেন।তাই মানুষ বিজেপির সাথে রয়েছেন।বিজেপির সাফল্যও শুধু সময়ের অপেক্ষা।’

প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছিল তিস্তার চরে ইন্ডাস্ট্রিয়াল হাব হলে এখানে ভবিষ্যতে চা, টমেটো, জুট প্রভৃতি বিভিন্ন শিল্প গড়ে উঠবে। স্বাভাবিকভাবেই এনিয়ে আশার আলো দেখতে পাচ্ছিলেন এই এলাকার বিভিন্ন মানুষজন।কারণ তাঁরা মনে করেন এখানে কৃষিনির্ভর এই শিল্প গড়ে উঠলে এই এলাকার প্রচুর মানুষ দারুণভাবে উপকৃত হবেন। কৃষিনির্ভর এই এলাকায় নেই তেমনকোনও কর্মসংস্থানের সুযোগ নেই। পাশাপাশি এই মহকুমায় আলু, টম্যাটো, লঙ্কা ইত্যাদি ব্যাপক চাষ হয়। কিন্তু কৃষিপণ্যের সঠিক দাম না মেলায় কৃষকদের প্রায়ই সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। তাই এখানে কৃষি নির্ভর এইসব শিল্প গড়ে উঠলে কৃষকদেরও যথেষ্ট লাভের সম্ভাবনা রয়েছে।