রাজ্য প্রশাসনের নিরপেক্ষতা একেবারে তলানিতে এসে ঠেকেছে: জগদীপ ধনকর

491
ফাইল ছবি।

কলকাতা: ফের রাজ্য প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে তোপ দাগলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকর। সম্প্রতি কাশ্মীরে পাক সেনার গুলিতে নিহত জওয়ান সুবোধ ঘোষের শেষকৃত্যে বিজেপি সাংসদকে আটকানো নিয়ে টুইটারে সরব হলেন তিনি। পরপর তিনটি টুইটে রাজ্য সরকারকে আক্রমণ করে রাজ্যপাল প্রশ্ন তুলেছেন, এমন একটি অনুষ্ঠানে যেখানে শাসকদলের সাংসদ অতিথি সেখানে বিরোধীদলের সাংসদকে চোখ রাঙানো হচ্ছে।

রবিবার রাতে সুবোধ ঘোষের নিথর দেহ নিয়ে আসা হয় নদিয়ার রঘুনাথপুরের বাড়িতে। বাড়ি থেকে ১ কিমি দূরে স্কুলমাঠে অস্থায়ী মঞ্চে শ্রদ্ধা জানান পরিবারের সদস্য, গ্রামবাসী থেকে শুরু করে এলাকার বিধায়ক, সাংসদ, উর্দীধারী প্রশাসনের লোকজন। আর সেখানে তাঁকে শ্রদ্ধা জানাতে এলে পুলিশের বাধার সম্মুখীন হন রানাঘাটের সাংসদ জগন্নাথ সরকার।

- Advertisement -

তাঁর অভিযোগ, ‘পুলিশ দলদাসে পরিণত হয়েছে। এই ঘটনা তারই নিদর্শন। রাজ্যে এক অগণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। সংবিধানকে সর্বত্র লঙ্ঘন করা হচ্ছে। এক সাংসদ সসম্মানে অনুষ্ঠানে রয়েছেন কিন্তু আর এক সাংসদকে ঢুকতেও দেওয়া হচ্ছে না।’

এরপরই মঙ্গলবার সকালে এ ঘটনায় সরব হতে দেখা যায় রাজ্যপাল জগদীপ ধনকরকে। রাজ্যপালের টুইট, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন এই প্রশাসনে পুলিশের রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা বলে কিছুই নেই। পলাশি শ্মশানে নিহত জওয়ান সুবোধ ঘোষের শেষকৃত্যে সাংসদ জগন্নাথ সরকারের সঙ্গে পুলিশ যে আচরণ করেছে সে সম্পর্কে রাজ্য পুলিশের ডিজি ও স্বরাষ্ট্র দফতর থেকে রিপোর্ট চাইছি। এতে নদিয়ার পুলিশ সুপার ও জেলাশাসকের কর্তব্যে গাফিলতি সামনে এসেছে।’‌

তাঁর আরও অভিযোগ, ‘গণতন্ত্রকে লজ্জিত করেছে ‌মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশাসন। ওই অনুষ্ঠানে যেখানে শাসকদলের সাংসদ অতিথি, সেখানেই বিরোধীদলের সাংসদকে বাধা দেওয়া হচ্ছে। গণতন্ত্রকে বাঁচানোর স্বার্থে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের এই অপরাধের দৃষ্ঠান্তমূলক পরিণতি হওয়া উচিত। সরকারি কর্মচারীরা যদি রাজনৈতিকভাবে কাজ করে তবে তাদের আইনের কোপে পড়তেই হবে।’‌