প্রার্থী পছন্দ না হওয়ায় বিজেপি অফিস ভাঙচুর কর্মীদের

214

হরিশ্চন্দ্রপুর ও রায়গঞ্জ: প্রার্থী পছন্দ না হওয়ায় হরিশ্চন্দ্রপুরে বিজেপির অফিসে ভাঙচুর চালালেন কর্মীরা। বৃহস্পতিবার ৪৬ হরিশ্চন্দ্রপুর বিধানসভায় বিজেপির বিধায়ক পদপ্রার্থী হিসেবে মহম্মদ মতিউর রহমানের নাম ঘোষণা হতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন হরিশ্চন্দ্রপুর এলাকার বিজেপির কর্মী-সমর্থকরা। পার্টি অফিসে ভেতরে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন তাঁরা। বিক্ষোভে শামিল হন জেলা ও ব্লক স্তরের নেতারাও। বিক্ষোভ দেখানোর পাশাপাশি তাঁরা পার্টি অফিসে ভাঙচুর শুরু করেন। পার্টি অফিসের ছাদ থেকে খুলে নেওয়া হয় বিজেপির পতাকা।

বিজেপি কর্মীরা জানান, আগামী বিধানসভা নির্বাচনে এলাকার দলীয় কর্মীরা কেউ অংশগ্রহণ করবেন না। প্রয়োজনে ভোট বয়কট করবেন। প্রয়োজনে বিজেপির বিরুদ্ধে এলাকায় নির্দল প্রার্থী দেওয়ার ঘোষণা করলেন এলাকার বিজেপি নেতারা। এদিকে এই ঘটনায় এদিন উত্তেজনা ছড়ায় হরিশ্চন্দ্রপুরে। বিজেপির হরিশ্চন্দ্রপুর মণ্ডল সভাপতি রুপেশ আগরওয়াল জানান, হরিশ্চন্দ্রপুর বিধানসভায় প্রচুর যোগ্য কর্মী রয়েছেন যাঁরা বিজেপির বিধানসভা পদপ্রার্থীর দাবিদার। বিজেপি করতে গিয়ে অনেক গণ্ডগোলে জড়িয়ে পড়েছেন বিভিন্ন সময়। অভিযোগ, এখন দেখা যাচ্ছে বিজেপির ঊর্ধ্বতন নেতারা এলাকার এক ক্রিমিনালকে টাকার বিনিময় বিধানসভার টিকিট বিক্রি করে দিলেন, যে দলের কোনও সক্রিয় সদস্য নন।

- Advertisement -

প্রসঙ্গত, মহম্মদ মতিউর রহমান হরিশ্চন্দ্রপুর থানা এলাকার কমলাবাড়ির বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে দিল্লিতে থাকেন। তাঁর সেখানে কারখানা রয়েছে। হরিশ্চন্দ্রপুরে বেশ কয়েক মাস ধরে তিনি এসেছেন। সম্প্রতি তিনি সাংসদ খগেন মুর্মুর হাত ধরে বিজেপির মুসলিম মোর্চার ভাইস প্রেসিডেন্ট হয়েছেন। এমন একজনকে হরিশ্চন্দ্রপুর এলাকায় প্রার্থী হিসেবে বেছে নেওয়ায় স্বভাবতই ক্ষোভের সঞ্চার করেছে বিজেপির পার্টিকর্মীদের মধ্যে।

উত্তর মালদার সংসদ খগেন মুর্মু টাকা নিয়ে টিকিট বিক্রি প্রসঙ্গে জানান, এগুলো ভিত্তিহীন কথা। দলের প্রার্থী নির্ধারণ করেন দলের কেন্দ্রীয় কমিটি। তাছাড়া পার্টিকর্মীদের মধ্যে যে ক্ষোভ বিক্ষোভ হয়েছে তা আলোচনা করে মিটিয়ে নেওয়া হবে। ভোট বয়কটের সিদ্ধান্ত কখনই ঠিক নয়। বিজেপি জেলা সভাপতি গোবিন্দচন্দ্র মণ্ডল জানান, বিজেপির প্রার্থী তালিকা ঠিক করেন কেন্দ্রীয় নির্বাচনি কমিটি। এই কমিটিতে অমিত শা-র মতো সর্বভারতীয় নেতারা রয়েছেন। স্থানীয় নেতাকর্মীরা টাকার বিনিময় টিকিট বিক্রির যে অভিযোগ তুলেছেন তা ঠিক নয়। হরিশ্চন্দ্রপুরের বিজেপি প্রার্থী মহম্মদ মতিউর রহমান জানান, তিনি কোনও টাকা দিয়ে টিকিট কেনেননি। বর্তমানে তিনি জেলার মুসলিম মোর্চার ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে আছেন। টাকা কামানোর জন্য রাজনীতিতে আসেননি। মানুষের সেবা করতে চান তিনি। যদি এলাকার জনগণের সমর্থনে জয়লাভ করতে পারেন তাহলে হরিশ্চন্দ্রপুরবাসীর সেবা করবেন। দিল্লি ফিরে যাবেন না বলেও জানিয়েছেন তিনি।

প্রার্থী পছন্দ না হওয়ায় বিজেপি অফিস ভাঙচুর কর্মীদের| Uttarbanga Sambad | Latest Bengali News | বাংলা সংবাদ, বাংলা খবর | Live Breaking News North Bengal | COVID-19 Latest Report From Northbengal West Bengal India

পাশাপাশি পুরাতন মালদা সাহাপুরের বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপির মুখ্য নির্বাচনী কার্যালয়ে ভাঙচুর এবং টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখান বিজেপি কর্মীরা। কর্মীদের অভিযোগ, বিজেপির পক্ষ থেকে গোপাল সাহাকে প্রাথী করা হয়েছে। তিনি একজন দূর্নীতি পরায়ন লোক। তিনি বেআইনিভাবে এসসি, ওবিসি সার্টিফিকেট বের করেছেন। স্বচ্ছ প্রার্থীর দাবিতে বিক্ষোভ দেখান তাঁরা।

অন্যদিকে, এদিন জেলা বিজেপির প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পর থেকেই উত্তর দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জে জেলা পার্টি অফিসে বিক্ষোভ দেখান বিজেপি কর্মী ও যুব মোর্চার সদস্যরা। কর্মীদের বক্তব্য, পরিযায়ী পাখির মতো দলে যোগ দিয়ে প্রার্থীপদ নিয়েছেন। যাঁরা দিনের পর দিন মার খেয়ে বিজেপি করেছে তাঁরা প্রার্থী হতে পারেননি। তাঁদের বক্তব্য, ইটাহারে সদ্য তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়ে প্রার্থী পদ পাবেন অমল আচার্য। করণদিঘিতে সদ্য তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন মনোদেব সিংহ। তাদের প্রার্থী করার জন্যই এদিন ইটাহার করণদিঘি কেন্দ্রের বিজেপির প্রার্থী চূড়ান্ত হয়নি। ২৪ ঘন্টার মধ্যে ইটাহার ও করণদিঘির প্রার্থী পদ ঘোষণা করতে হবে। এদিকে রায়গঞ্জে প্রার্থী হয়েছেন সদ্য তৃণমূল ছেড়ে আসা শিল্পপতি কৃষ্ণ কল্যাণী। হেমতাবাদে প্রার্থী হয়েছেন প্রয়াত বিধায়ক দেবেন্দ্রনাথ রায়ের স্ত্রী চাঁদিমা রায়। ফলে এদিন হেমতাবাদেও পার্টি অফিসের দলীয় নেতা-কর্মীরা নাম ঘোষণা হতেই বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন। এদিন রায়গঞ্জ ও হেমতাবাদের প্রার্থীর নাম ঘোষণা হতেই হতাশায় গেরুয়া শিবিরের নীচু তলার কর্মীদের সাফ জবাব, দলের প্রচারে তাঁরা থাকবেন না। এই প্রসঙ্গে বিজেপির জেলা সভাপতি বিশ্বজিৎ লাহিড়ি জানান, কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ও রাজ্য নেতৃত্ব যা বলবে সেটা করতে বাধ্য।