কাটমানি কাঁটায় বিদ্ধ বিজেপির পঞ্চায়েত সদস্যা

145

রায়গঞ্জ: ঘর ও ভাতা পাইয়ে দেওয়ার নাম করে কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ উঠল বিজেপির গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্যা ও তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে। শনিবার রায়গঞ্জের বরুয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের সিজগ্রামে আটিয়াকুণ্ডি প্রাথমিক বিদ্যালয় চত্বরে ভ্যারিফিকেশন ক্যাম্পে এসে এই অভিযোগে বিক্ষোভ দেখালেন গ্রামের বিধবা মহিলাদের একাংশ। অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার ঘর পাইয়ে দেওয়ার নাম করে কারও থেকে ১০০০ টাকা, আবার কারও থেকে ৫০০ টাকা কাটমানি নিয়েছেন পঞ্চায়েত সদস্যা লক্ষ্মী বর্মন ও তাঁর স্বামী। শুধু তাই নয়, বিধবা ভাতা পাইয়ে দেওয়ার নাম করেও ১০০-৫০০ টাকা নিয়েছেন তাঁরা। তারপরেও লিস্টে অনেকের নাম আসেনি। টাকা ফেরত চাইলে হুমকি দেওয়া হয়। আবার কখনও লিস্ট থেকে নাম কেটে দেওয়ারও হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ।

যদিও এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন বিজেপির গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্যা লক্ষ্মী বর্মন। তাঁর দাবি, বিরোধীরা তাঁর বিরুদ্ধে চক্রান্ত করছে। এই ধরনের অভিযোগ মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন। বিষয়টি অবশ্য স্বীকার করেছেন বিজেপির প্রাক্তন গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান ধনেশ্বর বর্মন। তাঁর কথায়, এর আগে তাঁর কাছেও গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্যার বিরুদ্ধে কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ জানিয়েছিলেন বেশ কয়েকজন গ্রামবাসী। বিষয়টি নিয়ে বলতে গেলে সেসময় অস্বীকার করে যান পঞ্চায়েত সদস্যা।

- Advertisement -

বিষয়টি নিয়ে কটাক্ষ করেছেন তৃণমূল নেতৃত্ব। রায়গঞ্জ ব্লক তৃণমূল সভাপতি তথা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি মানস কুমার ঘোষ জানান, যাঁরা টাকা নিচ্ছেন এবং যাঁরা টাকা দিচ্ছেন তাঁরা সমানভাবে দায়ী। তাঁদের কাছে লিখিত অভিযোগ জানালে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান মানসবাবু।

বিজেপির প্রাক্তন জেলা সভাপতি তথা রাজ্য কমিটির সদস্য শংকর চক্রবর্তী জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। বিষয়টি তদন্তের জন্য জেলা ও ব্লক নেতৃত্বকে জানানো হবে। গরিব মানুষের থেকে এভাবে টাকা নেওয়া দল কখনও সমর্থন করে না। প্রতারিতদের ওই পঞ্চায়েত সদস্যা ও তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করার পরামর্শ দেন শংকরবাবু।