বিজেপির পরিবর্তন যাত্রা র‌্যালি এলাকা পেরোতেই, পুরোহিত ডেকে মন্ত্রোচ্চারণ করে শুদ্ধিকরণে নামলেন তৃণমূল নেতা

51

ফাঁসিদেওয়া, ২২ ফেব্রুয়ারিঃ বিজেপির পরিবর্তন যাত্রা র‌্যালি বিধাননগর ছাড়তেই তৃণমূল কংগ্রেস এলাকায় শুদ্ধিকরণ করল। সোমবার বিজেপির ‌র‌্যালি বিধাননগর সন্তোষিণী বিদ্যাচক্রের মাঠ থেকে শুরু হয়ে সহদরগছ, ভীমবার, স্থানীয় বাজার, মুরালীগঞ্জ পরিক্রমা করে। এরপর পরিবর্তন যাত্রা উত্তর দিনাজপুর জেলার চোপড়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয়। বিজেপির রাজ্যের সহসভাপতি দীপেন প্রামানিক, শিলিগুড়ি সাংগঠনিক জেলা বিজেপি সভাপতি প্রবীণ আগরওয়াল, দলের শিলিগুড়ি সাংগঠনিক জেলার পর্যবেক্ষক দীপ্তিমান সেনগুপ্ত সহ স্থানীয় বিশিষ্ট নেতৃত্ব কর্মসূচিতে হাজির হয়েছিলেন। এদিন সন্ধ্যায় স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেস নেতা কাজল ঘোষ তাঁর দলীয় কর্মীদের নিয়ে স্কুলের মাঠে যান। সেখানে পুরোহিত ডেকে মন্ত্রোচ্চারণ করে, গঙ্গাজল ছিটিয়ে শুদ্ধ করেছেন। এমনকি নেতাজির যে মূর্তিতে মাল্যদান করে, বিজেপি রথযাত্রার সুচনা হয়েছিল, সেখানেও শুদ্ধিকরণ প্রক্রিয়া করা হয়েছে।

ফাঁসিদেওয়া সাংগঠনিক ২ নম্বর ব্লক সভাপতি কাজল ঘোষ বলেন, বিজেপি খলনায়ক, মীরজাফর এবং গুজরাটি ভাইদের ছবি লাগানো একটি লরিতে করে বিধানগরে রথযাত্রা করেছে। এটা কোনও দেবতার রথ ছিল না। এই রথ পবিত্র বিধাননগরকে অপবিত্র করেছে। তাই আমরা গোটা এলাকা গঙ্গাজল দিয়ে শুদ্ধ করে দিলাম। যাতে বিজেপি এখানে ধর্মের নামে রাজনীতি করতে না পারে। এই প্রসঙ্গে শিলিগুড়ি সাংগঠনিক জেলা বিজেপির উদ্বাস্তু সেলের কনভেনর প্রণবেশ মণ্ডল বলেন, তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্যে আর থাকছে না। তাই, এখন ভীমরতিতে ধরেছে। ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার আগে নাটক করছে। ধর্ম নিয়ে তৃণমূল নেতাদের জ্ঞান নেই। তৃণমূল থেকে সাধারণ মানুষ মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। গঙ্গাজলের বদলে কিছুদিন পর নকল মদের আতুড়ঘর বিধাননগরে এই নেতারাই স্পিরিট ছেঁটাবেন বলে তিনি মন্তব্য করেন। কত জায়গা তৃণমূল নেতারা এভাবে শুদ্ধিকরণ করবেন সেটাই এখন দেখার, ফাঁসিদেওয়ার আরেক বিজেপি নেতা প্রাণ গৌরাঙ্গ দেবনাথ এমনই মন্তব্য করেছেন।

- Advertisement -

চলতি মাসের ১১ তারিখ কোচবিহারের রাসমেলা ময়দান থেকে শুরু হয়ে রবিবার শিলিগুড়ি মহকুমার একাধিক জায়গায় র‌্যালি পরিক্রমা করে। রবিবার রাতে বিজেপির ওই র‌্যালি ঘোষপুকুর, লিচুবাগান, গোয়ালটুলি, ফাঁসিদেওয়া, লিউসিপাকড়ি হয়ে র‌্যালি ওই রাতেই বিধাননগর পৌঁছায়। রবিবার ঘোষপুকুরে পরিবর্তন যাত্রায় উপস্থিত ছিলেন দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্টা, বিজেপির রাজ্য সভানেত্রী ভারতী ঘোষ, বিজেপির রাজ্য সাধারন সম্পাদক সায়ন্তন বসু, শিলিগুড়ি সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সভাপতি প্রবীণ আগরওয়াল প্রমুখ। যদিও, পরবর্তীতে ফাঁসিদেওয়াতে র‌্যালি পৌঁছানোর আগেই রাজু বিস্টা, সায়ন্তন বসু, কর্মসূচি থেকে চলে যান। ফাঁসিদেওয়া ব্লকের দুইদিনের এই কর্মসূচিতে অপ্রীতিকর ঘটনা রুখতে বিভিন্ন এলাকায় বিশাল পুলিশবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল।

ওই রাতেই ফাঁসিদেওয়া থানা মোড়ে একটি পথসভার আয়োজন করা হয়। তবে, সেই সভায় হাজির না হয়ে, মাঝপথে নেমে পড়েছিলেন বিজেপির রাজ্য সভানেত্রী। পরে, তিনি কালিম্পংয়ের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন বলে খবর। সোমবার পাহাড়ে একই কর্মসূচি হয়েছে। ফাঁসিদেওয়ার পথসভা থেকে আলিপুরদুয়ারের প্রাক্তন সাংসদ দশরথ তিরকি রাজ্যের শাসকদলকে রীতিমতো তুলনা করেন। দশরথ তিরকি বলেন, ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রীর ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘরের সিবিআই হানা দিয়েছে। গোরু পাচার, বালি পাচারসহ একাধিক অবৈধ কর্মকাণ্ডের এবারে পর্দা ফাঁস হতে চলেছে। সাংসদ আরও মন্তব্য করেন, সাধারণ মানুষ এখন আর তৃণমূলকে চাইছেন না। মানুষ পরিবর্তনকে সমর্থন জানিয়ে ফাঁসিদেওয়াতে রাতেও পথসভাতে হাজির হয়েছিলেন। এ রাজ্যে বিজেপিই ক্ষমতায় আসতে চলেছে বলে তিনি দাবি করেন।

অন্যদিকে, ফাঁসিদেওয়া বিধানসভা এলাকায় বিজেপির পরিবর্তন যাত্রা সুপার ফ্লপ হয়েছে বলে দাবি করেছেন তৃণমূল নেতা কাজল ঘোষ। তাঁর মন্তব্য, এই বিধানসভা এলাকায় সাধারণ মানুষ বিজেপিকে ঝেঁটিয়ে বিদায় করবেন। যারা তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন তাঁদের মীরজাফর বলে সম্বর্ধিত করেন ওই তৃণমূল নেতা। পালটা প্রণবেশ মণ্ডল বলেন, বিধাননগরে এত বড় উৎসব এই প্রথম হল। হাজারে হাজারে মানুষ এই পরিবর্তন যাত্রা র‌্যালিতে যোগ দিয়েছিলেন। যে তৃণমূল নেতা সুপার ফ্লপ বলেছেন, অতিসত্বর তাঁর চক্ষু চিকিৎসক দেখানোর প্রয়োজন রয়েছে। ওনার চোখে নিশ্চিত ছানি পড়েছে। কারা কাকে ঝেঁটিয়ে বিদায় করবে, সেটি মে মাসেই দেখা যাবে। সাধারণ মানুষ বিজেপির পাশেই রয়েছে।