ভোটের প্রত্যাশায় সম্মাননীয়দের সম্মান জানাচ্ছে তৃণমূল, কটাক্ষ বিজেপির

288

ফালাকাটা: বছর ফুরোলোই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। তাই নতুন বছরের শুরুতে একাধিক কর্মসূচি নিয়ে দলের ভোট কৌশলী প্রশান্ত কিশোরের নির্দেশে ব্লু প্রিন্ট তৈরি করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। এক্ষেত্রে ফালাকাটাতেও নতুন কর্মসূচি নিয়ে ছক কষে নিয়েছে শাসকদল। সূত্রের খবর, নতুন বছরের শুরুতেই অঞ্চলে অঞ্চলে ও ব্লক স্তরে সমাজে প্রতিষ্ঠিত সম্মানীয় ব্যক্তিদের তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে নানাভাবে সম্মান জানানো হবে। এজন্য কোন এলাকায় কতজন সম্মানীয় ব্যক্তি রয়েছেন তাঁদের নামের তালিকা তৈরি হচ্ছে ফালাকাটায়।

গত কয়েক বছরে সাধারণ ভোটারদের একাংশের পাশাপাশি সমাজে প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিদের অনেকেই তৃণমূল কংগ্রেস থেকে দূরে সরে গিয়েছেন। এবার তাঁদেরকেই কাছে টানার কৌশল নিয়েছে তৃণমূল। তবে বিজেপির দাবি, ভোটের প্রত্যাশায় মানুষকে সম্মান জানানোটা হল লোক দেখানো। সম্মাননীয় ব্যক্তিরা এখন গেরুয়া শিবিরের সঙ্গে আছেন বলে জানিয়েছেন বিজেপির নেতারা।

- Advertisement -

ফালাকাটায় বিভিন্ন পেশায় কর্মরত সমাজে প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিদের সঙ্গে সুপরিচিত ছিলেন প্রয়াত বিধায়ক অনিল অধিকারী। কিন্তু এখন তৃণমূলের পুরোনো নেতারা নেই। দল পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে নতুন মুখরা। এই নতুন নেতাদের উপরই এবার ভরসা করতে হচ্ছে তৃণমূলকে। আলিপুরদুয়ার জেলার পাঁচটি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে ফালাকাটাতেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তাই তৃণমূলের ব্লক সভাপতির দায়িত্ব পেয়েই রোজ বিভিন্ন এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন সুভাষ রায়। নতুন যুব তৃণমূলের ব্লক সভাপতি শুভব্রত দে’কেও রোজ গ্রামে গ্রামে ছুটতে হচ্ছে। এভাবে নেতাদের পরিচিতি বাড়ছে। এই নতুন মুখের কারণেই পিকে ও দলের রাজ্য নেতৃত্ব চাইছেন যে, ফালাকাটায় যেন পাড়ায় পাড়ায় সম্মাননীয় ব্যক্তিদের খুঁজে বের করে তৃণমূলের তরফে সম্মান জানানো হয়। রাজ্য স্তর থেকে সেই নির্দেশও ফালাকাটায় পৌঁছেছে। তাই এই কর্মসূচি নিয়ে তৎপর হয়ে উঠেছেন তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা।

এদিকে, ফালাকাটা কেন্দ্রকে এবার পাখির চোখ করে নিয়েছে বিজেপি। গেরুয়া শিবিরের শক্তিও এখানে বেড়েছে। সক্রিয় হয়ে উঠেছে সংঘ পরিবার। এই পদ্ম শিবির থেকে অনেক আগেই সম্মাননীয় ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন হয়েছে।

সূত্রের খবর, ফালাকাটায় সাড়ে ন’বছরে তৃণমূলের একাংশ দুর্নীতিগ্রস্ত ও ধান্দাবাজ নেতাদের কারণে এখন সম্মাননীয় ব্যক্তিদের অনেকেই গেরুয়া শিবিরের দিকে ঝুঁকেছেন। গ্রামে এখনও এই প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিদের অনুগামী বা সমর্থক ভোটার আছেন। এই মহলে বিজেপি যাতে কোনওভাবে থাবা বসাতে না পারে সেজন্য তৃণমূল কংগ্রেস পালটা কৌশল নিচ্ছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, পাড়ায় বা গ্রামে কিংবা অঞ্চল স্তরে সম্মাননীয় ও প্রবীণ ব্যক্তিদের প্রাথমিকভাবে নামের তালিকা তৈরি করছেন দলের নেতা-কর্মীরা। নতুন বছরে এই ব্যক্তিদের বাড়ি বাড়ি পৌঁছে উত্তরীয় পরিয়ে ফুলের তোড়া দিয়ে সম্মান জানাবে তৃণমূল কংগ্রেস। তাঁদের কোনও মান, অভিমান থাকলেও নেতাদের শুনতে হবে। এর পাশাপাশি রাজ্য সরকারের উন্নয়নমূলক প্রকল্পের কথা তুলে ধরতে বলা হয়েছে।

দলের ব্লক সভাপতি সুভাষ রায় বলেন, ‘সম্মাননীয় ও প্রবীণ ব্যক্তিদের আমরা সব সময় শ্রদ্ধা করি। অঞ্চল ও ব্লক স্তরে এইসব ব্যক্তিদের নতুন বছরে নানাভাবে সম্মান জানানো হবে। মা, মাটি, মানুষের সরকারের উন্নয়নের বার্তা তাঁদের সামনে তুলে ধরা হবে। তাঁদের কোনও মান, অভিমান থাকলে সেকথাও শোনা হবে। এই কর্মসূচি নিয়ে আমাদের প্রস্তুতি চলছে।’

তবে বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক দীপক বর্মন বলেন, ‘আমরাই আগে সম্মাননীয় ব্যক্তিদের সম্মান জানিয়ে সম্পর্ক স্থাপন করেছি। সেটা দেখেই তৃণমূল এখন নকল করছে। তবে ভোটের প্রত্যাশায় মানুষকে এভাবে সম্মান জানানোটা হল লোক দেখানো। ওরা তো সারা বছর এইসব মানুষের খোঁজ রাখে না। তাই এই কৌশলেও তৃণমূলের কোনও লাভ হবে না।’