কাটমানি বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণেই কৃষি আইনের বিরোধিতা করছে তৃণমূল, তোপ অর্জুনের

430

আসানসোল: ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে বঙ্গ বিজেপির সবচেয়ে বড় ইস্যু হবে মমতা বন্দোপাধ্যায়ের সরকারের দুর্নীতি। তৃণমূল কংগ্রেসের সব স্তরের নেতা ও মন্ত্রী দুর্নীতিতে জড়িয়ে রয়েছে। বাংলার মানুষেরা এইসবের বিরুদ্ধেই ভোট দেবেন। শুক্রবার সকালে আসানসোলে জেলা বিজেপির ডাকে কৃষি আইনের সমর্থনে একটি মিছিলে অংশ নিতে এসে এভাবেই রাজ্যের শাসক দলকে আক্রমণ করলেন ব্যারাকপুরের বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিং৷

আসানসোল স্টেশন থেকে এদিন মিছিল শুরু হয়। সেই মিছিল বিএনআর মোড়ে এসে শেষ হয়। সেখানে একটি ছোট সভাও হয়। আসানসোল শিল্পাঞ্চল তথা জেলার বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা করোনা সংকট উপেক্ষা করেই এই মিছিলে যোগ দেন। মিছিলে অন্যদের মধ্যে ছিলেন জেলা সভাপতি লক্ষণ ঘোড়ুই, উপাসনা উপাধ্যায়, সুব্রত মিশ্র, শিবরাম বর্মন, কাউন্সিলর আশা শর্মা, ভৃগু ঠাকুর প্রমুখ।

- Advertisement -

সাংবাদিকদের অর্জুন সিং বলেন, কেন্দ্র সরকারের আনা কৃষি বিল, যা আইনে পরিণত হয়েছে তা বাংলায় তৃণমূল কংগ্রেসের নেতাদের কাটমানি নেওয়া বন্ধ করবে। তাঁদের কোটি টাকার ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবে। তাই তাঁরা এই বিলের বিরোধিতা করছেন। কংগ্রেস ও সিপিএমের নেতারাও এই আইন নিয়ে সাধারণ মানুষ ও কৃষকদের বিভ্রান্ত করছেন ও ভুল বোঝাচ্ছেন। এই আইনে কৃষক ও সাধারণ মানুষ কতটা উপকৃত ও লাভবান হবেন, তা বোঝাতেই বাংলাজুড়ে মিছিল ও সভা করছি আমরা।

বিজেপির এই হেভিওয়েট নেতা আরও বলেন, গোটা বাংলা জুড়ে সিন্ডিকেটরাজ চলছে। যা পুলিশের সাহায্য নিয়ে চালাচ্ছেন তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারা। এখানে সরকারি সন্ত্রাস চলছে। জোর করে বাংলায় তৃণমূল কংগ্রেস করানো হচ্ছে। না করলে তাঁদের নামে মিথ্যা মামলা দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে বিজেপি করলে তো আর কথাই নেই। রাজ্যের প্রশাসন ও পুলিশের সন্ত্রাসবাদ আটকানো ও অপরাধের কমানোর দিকে কোনও নজর নেই। পুলিশ এখানে তৃণমূলের ক্যাডার হিসাবে কাজ করছে।

অর্জুন সিং বলেন, বিরোধী দলগুলি কৃষকদের বিভ্রান্ত করছে। লোকসভা ও রাজ্যসভায় কৃষি বিলটি পাস হয়েছে। দেশের রাষ্ট্রপতি তাতে সই করেছেন। স্বামীনাথন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী কৃষকদের আয় দ্বিগুণ করার চেষ্টা করা হয়েছে। যে কোনও শিল্পপতি তাঁর পণ্য দেশের যে কোনও জায়গায় পাঠাতে পারেন। কিন্তু কৃষকদের এই স্বাধীনতা ছিল না। কৃষকদের স্বাধীনতার ৭০ বছর পরেও তাঁদের জিনিস দালাল বা ফড়েদের কাছে বিক্রি করতে হত। মোদী সরকার কৃষকদের দাসত্ব থেকে মুক্ত করার কাজটি করে দেখিয়েছে।