অন্য দলের কর্মীও চলবে, শহিদের খোঁজে হন্যে বিজেপি

127
প্রতীকী ছবি

সানি সরকার, শিলিগুড়ি : ভোটে কদর বাড়ছে মৃতদেহেরও! ভোটের বাক্সে বাঙালি আবেগের প্রতিফলন ঘটাতে শহিদদের খুঁজে বেড়াচ্ছে গেরুয়া শিবির। মনীষীদের পর এবার রাজ্যের প্রতিটি জেলায় শহিদদের জন্ম-মৃত্যুদিবস উদযাপনের প্রস্তুতি শুরু করে দিল বিজেপি। স্বাধীনতা সংগ্রামী তো বটেই, রাজনৈতিক সংঘর্ষে যাঁরা মারা গিয়েছেন, তাঁদেরও নতুন করে সামনে নিয়ে এসে এলাকায় পদ্ম ফোটাতে এই সিদ্ধান্ত। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, এই শহিদ খুঁজতে কোনও বাছবিচার করছে না গেরুয়া বাহিনী। যে কোনও দলের রাজনৈতিক সংঘর্ষে নিহতদেরই সম্মান জানাতে প্রস্তুত বিজেপি। তবে আপাতত সমস্ত কিছুই করা হচ্ছে গোপনে। কেন্দ্রীয় পর্যটন এবং সাংস্কৃতিক প্রতিমন্ত্রী প্রহ্লাদ সিং প্যাটেল বলেন, হাজার শহিদ বাংলার পুণ্যভমিতে জন্ম নিয়েছেন। তাঁদের আমরা সম্মান এবং প্রতিষ্ঠা দেব।

যথারীতি বিজেপির এই সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করেছে সিপিএম এবং তৃণমূল। সিপিএমের দার্জিলিং জেলা কমিটির সম্পাদক জীবেশ সরকার বলেন, মানুষের গণতন্ত্র এবং সংবিধানকে হত্যা করার মূল নায়ক হচ্ছে বিজেপি। বিজেপির হাতে তো আমাদের সংবিধানই শহিদ হয়ে গিয়েছে। বিজেপি কি শহিদ দিবস পালন করবে? জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি রঞ্জন সরকারের বক্তব্য, ওরা তো মৃত্যু নিয়ে রাজনীতি করছে। কিন্তু বাংলার মানুষ তা বরদাস্ত করবে না।

- Advertisement -

শহিদের রক্ত, হবে নাকো ব্যর্থ- মিছিল থেকে সভা-সমাবেশ, সাতের দশক থেকে এই স্লোগান দিতে অভ্যস্ত বামেরা। বাম জমানায় কংগ্রেসিদের মুখেও এই স্লোগান শোনা গিয়েছিল। এখনও বাম-কংগ্রেস নেতা-কর্মীদের মুখে এই আওয়াজ শোনা যায়। এবার গেরুয়া বাহিনীও এই স্লোগান দিতে তৎপর হয়ে উঠেছে। বিধানসভা নির্বাচনের কথা মাথায় রেখেই যে শহিদদের নতুন করে সামনে নিয়ে আসার পরিকল্পনা নিয়েছে বিজেপি। জানা গিয়েছে, প্রাথমিকভাবে আগামী মে মাস পর্যন্ত প্রতিটি জেলায় শহিদদের জন্ম এবং মৃত্যুদিন উদযাপন করবে বিজেপি। এর জন্য কোন জেলায় রাজনৈতিক সংঘর্ষে কতজন মারা গিয়েছেন, সেই সংক্রান্ত তালিকা সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলিকে তৈরি করতে বলা হয়েছে ৬, মুরলিধর সেন লেন থেকে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, রাজনৈতিক সংঘর্ষে তাঁদের কর্মীদের খুন নিয়ে দিলীপ ঘোষরা আগাগোড়া সরব হলেও, এক্ষেত্রে কোনও ছুঁতমার্গ রাখছে না বিজেপি। রাজনৈতিক সংঘর্ষে তৃণমূল এবং সিপিএম নেতা-কর্মীদের মৃত্যু হলেও শ্রদ্ধা জানাবে গেরুয়া শিবির। বিরোধী শহিদদের মর্যাদা দিয়ে তাঁদের পরিবারে এবং ওই এলাকায় নিজেদের প্রভাব বিস্তার করতে চাইছে বিজেপি। বাঙালি আবেগকে উসকে দিতে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, ঋষি অরবিন্দ, রাজা রামমোহন রায়, সত্যজিৎ রায়  এবং প্রভুপাদের জন্মদিন উদযাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।