বিজেপির গোষ্ঠী সংঘর্ষের ঘটনায় ১৪ জনকে শোকজ দলের

108

বর্ধমান: বিজেপির পূর্ব বর্ধমান জেলা পার্টি অফিসে ভাঙচুর ও গোষ্ঠী সংঘর্ষের ঘটনায় শোকজ কারা হল জেলা সভাপতি সহ দুই গোষ্ঠীর ১৪ জনকে। দলের সংবিধানের ২৫ (এ) ও ২৫(সি) ধারায় শনিবার শোকজের চিঠি পাঠিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সহ সভাপতি প্রতাপ বন্দ্যোপাধ্যায়। সাত দিনের মধ্যে শোকজের উত্তর দিতে বলা হয়েছে। যথা সময়ে শোকজের জবাব না পাওয়া গেলে শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে দল থেকে বহিষ্কারের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।

বিজেপি সূত্রে খবর, রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের নির্দেশে জেলায় বিবাদমান দুই গোষ্ঠীকে শোকজ করা হয়েছে। রাজ্য নেতৃত্বের পাঠানো শোকজ চিঠির কথা স্বীকার করে নিয়েছেন জেলা বিজেপি সভাপতি সন্দীপ নন্দি। তবে তিনি শোকজের চিঠির বিষয়ে আর কোনও মন্তব্য করতে চাননি।

- Advertisement -

২০১৯ লোকসভা ভোটে অপ্রত্যাশিত ফল করে বিজেপি। বর্ধমান-দুর্গাপুর লোকসভা আসনটি বিজেপি তৃণমূলের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয়। এর পর থেকে পূর্ব বর্ধমান জেলাতেও তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগদানের হিড়িক পড়ে যায়। সব নিয়ে বিজেপির অন্দরে নব্য ও আদিদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। দলে পুরোনোদের গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠতে শুরু করে। জেলা সভাপতি বিভিন্ন মণ্ডলে নিজের পছন্দের লোকজনকে সভাপতি ও অন্যান্য পদে বসিয়েছেন বলে পুরোনোরা অভিযোগ করেন।

ক্ষোভ-বিক্ষোভের আগুনে গত বৃহস্পতিবার ঘৃতাহুতি পড়ে। জেলার বিভিন্ন জায়গা থেকে দলের পুরোনো কর্মীরা জেলা পার্টি অফিসের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। আলোচনার জন্য কয়েকজন পুরোনো কর্মীকে পার্টি অফিসের ভিতরে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে তাঁদের মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। মারধরের খবর চাউর হতেই বাইরে অপেক্ষমান পুরোনো কর্মীরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। এরপরেই শুরু হয়ে যায় দু’পক্ষের ইট ছোঁড়াছুড়ি। পার্টি অফিসেও ভাঙচুর চলে। পার্টি অফিসের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা একাধিক বাইক ও দু’টি ম্যাটাডরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। খবর পেয়ে বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। উভয়পক্ষই থানায় অভিযোগ দায়ের করে। জেলা সভাপতি সহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টার অভিযোগে মামলা রুজু করা হয়। পুলিশ ৭ জনকে গ্রেপ্তার করে পারদিন আদালতে পেশ করে।

বিধানসভা ভোটের আগে দলে এই কোন্দল মেনে নিতে পারেননি কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। ঘটনার বিষয়ে রাজ্য নেতৃত্বের কাছ থেকে রিপোর্ট তলব করা হয়। এইধরণের ঘটনা যে কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না তা স্পষ্ট করে দেন কেন্দ্রীয় নেতারা। চাপে পড়ে রাজ্য নেতৃত্ব জোন পর্যবেক্ষক ও জেলা সভাপতির কাছ থেকে রিপোর্ট চান। কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব নিজস্ব নেটওয়ার্ক কাজে লাগিয়ে ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজ নেয়। তাতে ঘটনার পিছনে উভয় পক্ষের দোষ রয়েছে বলে জানা যায়। এরপরই রাজ্য নেতৃত্বকে উভয় পক্ষকে শোকজ করতে বলা হয়। এই প্রসঙ্গে বিক্ষুব্ধ বিজেপি নেতা স্মৃতিকান্ত মণ্ডল বলেন, ‘শোকজ করে দল তাঁদের স্বীকৃতি দিল।’ স্মৃতিকান্তবাবুর দাবি, গত বৃহস্পতিবার পরিকল্পনা করে তাঁদের মারধর করা হয়েছিল।

রাজ্য তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র দেবু টুডু জানান, তৃণমূলের তরফে পরিকল্পনা করে বিজেপির পার্টি অফিসে হামলা, ভাঙচুর চালানো হয়েছিল বলে বিজেপির তরফে অভিযোগ করা হয়েছিল। নিজেদের গোষ্ঠী দ্বন্দ্বের কথা মানতে চায়নি বিজেপি নেতারা। আর এখন বিজেপির দুই পক্ষের ১৪ জনকে শোকজের চিঠি ধরিয়ে নিজেরাই কার্যত স্বীকার করে নিলেন তৃণমূল ঠিক কথাই বলেছিল। গোষ্ঠী দ্বন্দ্বের জেরেই বিজেপির জেলা পার্টি অফিস ভাঙচুরের পাশাপাশি বর্ধমান অগ্নিগর্ভ হয়ে পড়ে।