পুলিশ সরাসরি শাসকদলের সঙ্গে মিলেমিশে কাজ করছে: সায়ন্তন বসু

375

রায়গঞ্জ: বিধায়কের পর এবার বিজেপির যুব নেতা খুনের ঘটনায় সিবিআই তদন্তের দাবিতে আদালতের দ্বারস্থ হচ্ছে বিজেপি। তৃণমূলের হয়ে তাঁবেদারি করতে দেখা গেল রায়গঞ্জ থানার পুলিশের একাংশকে। রীতিমতো এইসব খুনের ঘটনাকে অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেওয়ার পিছনে পুলিশ সরাসরি শাসকদলের সঙ্গে মিলেমিশে কাজ করছে। এই সকল পুলিশদের চিহ্নিত করা হচ্ছে। রীতিমতো এমনই সুরে হুঁশিয়ারি দিলেন বিজেপির রাজ্য সম্পাদক সায়ন্তন বসু। তিনি বলেন, ‘যাঁরা এই অন্যায়ের সঙ্গে আপোষ করে চলেছেন, সেইসব পুলিশ অফিসারেরা ২০২১ সালের পর কেউ পার পাবেন না।’

এদিন বিজেপির যুব নেতা খুনের প্রতিবাদে রায়গঞ্জ শহরজুড়ে ধিক্কার মিছিল বের করে বিজেপি। এরপর থানায় গিয়েও বিজেপির কর্মকর্তারা প্রতিবাদ মিছিলে সামিল হন। এদিনের মিছিলে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির রাজ্য সম্পাদক সায়ন্তন বসু। তিনি এদিন বলেন, ‘উত্তর দিনাজপুর জেলায় তৃণমূলের পায়ের তলার মাটি সরে গিয়েছে। তাই পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে এখানে একের পর এক বিজেপির নেতা-কর্মীদের খুন করা হচ্ছে। আর সেই খুনের ঘটনাকে ঘুরিয়ে কখনও আত্মহত্যা সাজানো হচ্ছে, কখনও বা ডাকাতের আক্রমণ বলে মিথ্যে গল্পের ফাঁদ তৈরি করছে খোদ পুলিশই। উত্তর দিনাজপুর জেলার মানুষ এইসব নোংরা রাজনীতি এবং পুলিশের ভূমিকার প্রতিবাদে জবাব দেবেন ২০২১-এর আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে।’

- Advertisement -

উল্লেখ্য, হেমতাবাদের বিধায়ক খুনের ঘটনাকেও পুলিশ প্রথমে আত্মহত্যার ঘটনা বলেই সাজানোর চেষ্টা করেছিল বলে অভিযোগ। পরবর্তীতে সিআইডি ওই খুনের মামলা তদন্ত শুরু করে। যদিও সিআইডি তদন্তেও আশ্বস্ত নন মৃত বিধায়কের পরিবারের লোকজন এবং বিজেপি নেতৃত্ব। সিবিআই তদন্তের দাবিতে সরব হয়েছেন তাঁরা। ইসলামপুরের চোপড়ায় বিজেপি পরিবারের এক মেয়েকে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছিল। সম্প্রতি বছর ২২-এর বিজেপির এক যুব নেতাকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে দুষ্কৃতীরা খুন করে বলে অভিযোগ পরিবারের। এরপর পুলিশ ওই খুনের মামলাকে ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে ডাকাতের গল্প সাজানোর চেষ্টা করে, এমনটাই অভিযোগ পরিবারের।

বিজেপির জেলা এবং রাজ্য নেতৃত্বদের বক্তব্য, ‘ওই যুবককে খুন করার পর দুষ্কৃতীরা পুলিশের শরণাপন্ন হয়ে বিষয়টিকে অন্যদিকে ঘোরানোর চেষ্টা করেছে। এটা উচ্চপর্যায়ে তদন্ত হলে, বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যাবে।’ বিজেপির যুব নেতা খুনের ঘটনায় রাজ্য পুলিশের ওপর আর আস্থা নয় এমনটাই দাবি জানিয়ে এদিন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সায়ন্তন বসু বলেন, ‘আমরা বিজেপির যুব নেতা খুনের ঘটনায় সিবিআই তদন্তের দাবিতে আদালতের দ্বারস্থ হব। এভাবে একের পর এক নেতা-কর্মীকে খুন করে তৃণমূল বিজেপিকে যতই কোণঠাসা করার চেষ্টা করুক না কেন, তারা নিজেরাই শেষ হয়ে যাবে চার মাসের মধ্যে। গর্জে উঠবে উত্তর দিনাজপুরের মানুষ।’