বিজেপির পাখির চোখ উত্তরবঙ্গ, ভোট সামলাবেন মেনন

466

সানি সরকার  শিলিগুড়ি : কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের পাখির চোখ উত্তরবঙ্গ। লোকসভার নিরিখে উত্তরের একটি বিধানসভাও যাতে হাতছাড়া না হয়, তার জন্য বিশেষভাবে সতর্ক বিজেপি। ১৯-এর ভোটের পরিকল্পনায় ২১-এর নির্বাচনে বাজিমাত করার লক্ষ্যে শিলিগুড়িতে উত্তরবঙ্গের ওয়াররুম করছে গেরুয়া শিবির। দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক (সাংগঠনিক) অরবিন্দ মেননকে। তিনি এখানে থেকেই ৫৪টি আসনের ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করবেন। বিজেপির শিলিগুড়ি সাংগঠনিক জেলা সভাপতি প্রবীণ আগরওয়াল বলেন, প্রত্যেকটি আসন দখলের লক্ষ্যেই আমরা এগোচ্ছি। অরবিন্দ মেনন মালদা থেকে কোচবিহার পর্যন্ত দেখবেন। ফলে দলের কার্যকর্তারা ভীষণভাবে উদ্বুদ্ধ হবেন। এর ফলে বুথ থেকে মণ্ডলস্তর পর্যন্ত দল শক্তিশালী হবে বলে মনে করছেন জলপাইগুড়ির জেলা সভাপতি বাপি গোস্বামী। তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় নেতারা থাকলে কর্মীরাও দলের কাজে উদ্বুদ্ধ হবেন এবং সাহস পাবেন। আমরাও ভালো ফল করতে পারব। দলের কোচবিহার জেলা সভাপতি মালতী রাভা বলেন, লোকসভা নির্বাচনে মেননজির নেতত্বে আমরা অভূতপূর্ব সাফল্য পেয়েছি। বিধানসভা ভোটেও সাফল্য পাব বলে আমরা আশাবাদী।

বঙ্গে বিজেপির পতাকা তুলে ধরতে লোকসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ পরিকল্পনা নিয়েছিলেন দলের তত্কালীন সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শা। দিল্লি থেকে রাজ্যে উড়িয়ে আনা হয়েছিল কৈলাস বিজয়বর্গীয়, অরবিন্দ মেননদের। ৪২টি আসনের মধ্যে ১৮টি দখলের মধ্যে দিয়ে ফসল ঘরে তুলেছিল গেরুয়া শিবির। প্রাক্তনীর পথে হেঁটে একই পরিকল্পনা নিলেন বিজেপির বর্তমান সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডা। উত্তরবঙ্গের সর্বত্র পদ্মফুলের জন্য মাটি উর্বর করতে তিনি বিশেষ দায়িত্ব দিলেন কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সাধারণ সম্পাদক অরবিন্দ মেননকে। উত্তরবঙ্গে দলের বর্তমান সাংগঠনিক পরিস্থিতি সংক্রান্ত একটি রিপোর্ট নিয়ে গত দুদিন ধরে দিল্লিতে আলোচনা হয়েছে। এরপরেই মেননকে বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। দলীয় সূত্রে খবর, মেননের জন্য পাঞ্জাবিপাড়ায় একটি ভাড়াবাড়ি দেখা হয়েছে। পাশাপাশি, কলেজপাড়াতেও একটি ভবন বাছাই করে রাখা হয়েছে। কয়েকদিনের মধ্যে শিলিগুড়িতে এসে মেনন নিজের ওয়াররুম নির্বাচন করবেন। এখান থেকেই তিনি প্রয়োজনভিত্তিক মালদা থেকে কোচবিহার, উত্তরবঙ্গের প্রত্যেকটি জায়গায় দলের কাজে নজরদারি করবেন। তাঁর নির্দেশ মোতাবেক দলের উত্তরবঙ্গের নেতৃত্ব পদক্ষেপ করবেন। লোকসভা নির্বাচনের আগেও কয়েক দফায় উত্তরবঙ্গে এসেছিলেন মেনন। নীরবে তিনি দলের সাংগঠনিক শক্তির বিস্তার ঘটান এবং সংগঠনকে কাজে লাগিয়ে জনতাকে বিজেপিমুখী করেন। রাজ্যের ক্ষমতায় থেকেও যা টের পায়নি তৃণমূল। ফলে দক্ষিণ মালদা বাদ দিয়ে উত্তরবঙ্গের প্রত্যেকটি (৭) লোকসভা কেন্দ্র দখল করে বিজেপি। বিজেপির রাজ্যস্তরের এক নেতা বলেন, লোকসভা নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে উত্তরবঙ্গের পালস বুঝতে পারেন মেননজি। তাছাড়া সাংগঠনিক শক্তিকে কীভাবে ভোটের কাজে লাগাতে হয়, তা তিনি দেখিয়ে দিয়েছেন বিভিন্ন রাজ্যের ভোটে। তাই তাঁকে দায়িত্ব দিয়েছে দিল্লি। উত্তর দিনাজপুর জেলা সভাপতি বিশ্বজিত্ লাহিড়ি বলেন, উনি আমাদের অভিভাবক। সাংগঠনিক ক্ষেত্রে ওঁর দক্ষতা কাজে লাগিয়ে আমরা লোকসভা ভোটের থেকেও ভালো ফল করতে পারব।

- Advertisement -