উত্তরের তিন তৃণমূল বিধায়ককে পেতে মরিয়া মুকুল

290

দীপ্তিমান মুখোপাধ্যায় ও স্বরূপ বিশ্বাস, কলকাতা : রাজ্যে সভা করতে আসছেন অমিত শা ৩০ জানুয়ারি। পরের দিন ৩১ জানুয়ারি হাওড়ার ডুমুরজলা স্টেডিয়ামে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শার সভায় বিজেপিতে একঝাঁক তৃণমূল বিধায়ক ও সাংসদের যোগ দেওয়ার কথা চলছে। বিজেপি সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই অন্তত আট বিধায়ক ও দুই সাংসদ তাঁদের দলে যোগ দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। এছাড়া দুই সাংসদ ও উত্তরবঙ্গের তিন বিধায়কের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সহ সভাপতি মুকুল রায়। এঁদের দুজনের সঙ্গে কথা অনেকদূর এগোলেও একজনের মতিগতি এখনও বিজেপি নেতত্ব বুঝতে পারছেন না।
অন্যদিকে, তৃণমূল নেতত্ব এই খবর জানতে পেরে ওই নেতাদের ওপরে কড়া নজর রেখেছেন। তৃণমূল এখন বিক্ষুব্ধদের সঙ্গে কোনও রকম আপসে যেতে রাজি নয়। তৃণমূল সূত্রে খবর, যে নেতারা তলায় তলায় বিজেপির সঙ্গে এখন যোগাযোগ রাখছেন, আগামী বিধানসভা ভোটে তাঁদের টিকিট পাওয়ার সম্ভাবনা একপ্রকার নেই বললেই চলে। বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেছেন, অনেকের ৩১ জানুয়ারি অমিত শার সভায় যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা আছে। কথাবার্তা চলছে। তালিকা লম্বা হতে পারে।
ডিসেম্বরের শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শার হাত ধরে মেদিনীপুর কলেজ মাঠে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী, বর্ধমান (পূর্ব) সাংসদ সুনীল মণ্ডল সহ ৯ জন বিধায়ক। এবারও হাওড়ায় অমিত শার সভা যাতে মেগা যোগদান মেলা করা যায় সেদিকে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব চেষ্টা করছেন। অমিত শা কলকাতায় আসার আগেই রাজ্যে আসছেন বিজেপির সাংগঠনিক সম্পাদক বিএল সন্তোষ। যাঁরা দলবদল করতে চলেছেন তাঁদের সঙ্গে সন্তোষ দূত মারফত কথা বলবেন। তারপরই ওই তৃণমূল বিধায়ক ও সাংসদরা যোগ দেওয়ার ব্যাপারে বিজেপি নেতৃত্বকে সবুজ সংকেত দেবেন বলে বিজেপির অন্দরে খবর। এদিকে, রবিবার কুলতলিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ে সভায় গরহাজির ছিলেন জয়নগরের তৃণমূল সাংসদ প্রতিমা মণ্ডল। কয়েকদিন আগেই বনমন্ত্রী থেকে ইস্তফা দিয়েছেন রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। বালির বিধায়ক বৈশালী ডালমিয়াকে তৃণমূল বহিষ্কার করেছে। এছাড়া আরও কয়েকজন বিধায়কের সঙ্গে বিজেপি নেতা মুকুল রায় ও কৈলাস বিজয়বর্গীয়র কথা হয়েছে। রাজীববাবু এখনই বিজেপিতে যোগ দেবেন কি না সে ব্যাপারে নিশ্চিত করে কিছু বলতে চাইছেন না। তিনি বলেন, মন্ত্রীসভা থেকে কেন পদত্যাগ করেছি তা আমি আগেই বলেছি। আমার পরবর্তী সিদ্ধান্ত কী হবে তা নিয়ে আমার শুভানুধ্যাযীদের সঙ্গে কথা বলছি। আমার সিদ্ধান্ত সঠিক সময়ে মানুষকে জানিয়ে দেব। তবে এটুকু বলতে পারি মানুষের জন্য কাজ করব বলেই আমি রাজনীতিতে এসেছি। সেই কাজ আমি করে যাব। বৈশালী এব্যাপারে এখনও খোলসা না করলেও তিনি যে সেই সিদ্ধান্ত নিতে পারেন সেরকম ইঙ্গিত তাঁর কথায় মিলেছে। তিনি বলেন, তৃণমূলে অপমানিত হয়েছিলাম। তাই আমি দল ছাড়তে চেয়েছিলাম। এখন আমি মুক্ত। আমার সিদ্ধান্ত মানুষের পক্ষে হবে।
তৃণমূল সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই উত্তরবঙ্গের তিন বিধায়ক সম্পর্কে খোদ দলনেত্রীর কাছে খবর পৌঁছেছে। তাঁরা একসময় মুকুল রায়ের হাত ধরেই তৃণমূলে এসেছিলেন। তাঁদের সঙ্গে মুকুলবাবুর এখনও ভালো সম্পর্ক রয়েছে। মুকুলবাবুই তাঁদের বিজেপিতে আনার জন্য উদ্যোগ নিয়েছেন। তবে এখনই মুকুলবাবুকে কোনও কথা দেননি। অন্যদিকে, বিজেপিও হাল ছাড়তে রাজি নয়। সূত্রের খবর, ওই তিন নেতা কার কার সঙ্গে দেখা করছেন তৃণমূল সেদিকে নজর রাখছে। তৃণমূল নেতৃত্ব মনে করছেন, এখনই দলবদলুদের চলে যাওয়া দলের পক্ষে মঙ্গলজনক হবে। তাই তাঁদের ধরে রাখার ব্যাপারে তৃণমূল নেতৃত্ব বেশি আগ্রহ দেখাবেন না।