তৃণমূল-বিজেপি সংঘর্ষে রণক্ষেত্র বারাবনি, বোমা-গুলি চালানোর অভিযোগ

374

আসানসোল: তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল আসানসোলের বারাবনি থানার জামগ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা। শনিবার সকাল থেকে দু’পক্ষের সংঘর্ষের জেরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। ঘটনায় আহত হয়েছেন কমপক্ষে ১২ জন। এরমধ্যে একজন স্কুল পড়ুয়াও রয়েছে।

দু’পক্ষের দাবি, অন্য পক্ষ তাদের ওপর বোমা, বন্দুক, লোহার রড, লাঠি নিয়ে হামলা চালায়। বিজেপির জেলা সভাপতি লক্ষ্মণ ঘোরুই ও রাজ্য নেতা কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায় এদিন দুপুরে আসানসোল জেলা হাসপাতালে দাবি করেন, তাঁদের পাঁচজন কার্যকর্তা আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে একজনের গুলি লেগেছে। আহতদের নাম কালিচরণ দাস, নিত্যানন্দ অধিকারী, প্রকাশ বাউরি, চন্দন বাউরি ও সাধন রাউত।

- Advertisement -

বিজেপির জেলা সভাপতি বলেন, ‘আমরা এদিন ‘আর নয় অন্যায়’ নিয়ে বারাবনির জামগ্রামে প্রচার চালাচ্ছিলাম। সেই সময় তৃণমূল কংগ্রেসের দুষ্কৃতীরা বোমা ও গুলি নিয়ে হামলা চালায়। বোমা বিস্ফোরণে গোটা এলাকা কেঁপে উঠে।’ এদিকে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি একে অপরের দিকে বোমাবাজি ও গুলি চালানোর অভিযোগ তুলছে। এই ঘটনায় পাঁচটি মোটরবাইকে ভাঙচুর করে, তাতে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনার পর এলাকাজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। খবর পেয়ে এলাকায় পৌঁছেছে বিশাল পুলিশ বাহিনী। নামানো হয় কমব্যাট ফোর্স। বিজেপির অভিযোগ, ‘আর নয় অন্যায়’-এর প্রচারে বিজেপি মিছিল বার করেছিল। তখন তাদের মিছিলটিতে হামলা চালানো হয়। একই সঙ্গে, তৃণমূল কংগ্রেস অভিযোগ করেছে, বিজেপির লোকেরা ‘দুয়ারে সরকার’-এর সরকারি শিবিরে হামলা করেছে।

তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতি জিতেন্দ্র তেওয়ারি বলেন, ‘বিজেপি এইভাবে রাজ্যজুড়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। আজকের ঘটনা তার প্রমাণ। যাঁদের জেলে থাকা উচিত তাঁরা এখন বিজেপিতে রয়েছেন। বিজেপির মিছিল থেকে বারাবনিতে বিশৃঙ্খলা করা হয়েছে। যারা বোমা হামলা ও গুলি চালিয়েছে পুলিশের উচিত তাদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করা।’

অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের মাফিয়ারাই হামলা করছে বলে অভিযোগ করেন আসানসোলের সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় প্রতি মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়র আরও অভিযোগ করে বলেন, ‘তৃণমূল কংগ্রেসের ব্লক সভাপতি অসিত সিং মাফিয়াদের সুরক্ষা দিয়েছেন। তার নেতৃত্বেই বিজেপির মিছিলে হামলা ও গুলি চালানো হয়। তৃণমূল কংগ্রেস জেনে গিয়েছে যে তারা আর ক্ষমতায় ফিরছে না। বাংলার মানুষেরা ২০২১ সালে তাদের উপড়ে ফেলবে। সুতরাং তারা এই সব করছেন।’

তৃণমূল কংগ্রেসের ব্লক সভাপতি পালটা অভিযোগ করে বলেন, ‘বিজেপির যুব মোর্চার সভাপতি অরিজিৎ রায়ের নেতৃত্বে এলাকায় বোমা ও বন্দুক নিয়ে হামলা করা হয়। তাতে উস্কানি দিয়েছেন জেলা সভাপতি। সাধারণ মানুষেরা ‘দুয়ারে সরকার’-এর শিবিরে পরিষেবা নিতে এলাকায় ছিলেন। তখন এই হামলা হয়। আমরা পুলিশের কাছে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করার দাবি জানিয়েছি। এই মুহূর্তে আসানসোল জেলা হাসপাতালে চারজন ভর্তি রয়েছেন। কালিচরণ দাসকে দূর্গাপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, আপাতত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কারও তরফে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।