দেওয়াল লিখন ঘিরে বিতণ্ডার জেরে বিজেপি কর্মীর বাড়িতে ভাঙচুর, বৃদ্ধাকে মারধরের অভিযোগ

54

আসানসোল: নির্বাচন হতে এখনো একমাসেরও বেশি সময় বাকি। কিন্তু,  তার আগে দুই দল তৃনমুল কংগ্রেস ও বিজেপির দেওয়াল লিখনকে কেন্দ্র করে প্রথমে পারিবারিক বিবাদ ও পরে রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়ালো আসানসোল পুরনিগমের ৫০ নং ওয়ার্ডের চেলিডাঙা এলাকায়। এক বিজেপি কর্মীর বাড়িতে চড়াও হয়ে জিনিসপত্র ভাঙচুর ও তার ৮০ বছরের বৃদ্ধা মাকে মারধরের অভিযোগ উঠলো তৃনমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে। যদিও শাসক দলের তরফে হামলা ও মারধর করার অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। আসানসোল উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে পড়ে এই ৫০ নং ওয়ার্ডটি। এই কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন রাজ্যের মন্ত্রী মলয় ঘটক। বিজেপির প্রার্থী হয়েছেন রাজ্য কমিটির সদস্য কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায়।গন্ডগোলের সূত্রপাত হয়েছিলো রবিবার থেকে। তারপর গত দুদিনে কয়েক দফায় তা আবার হয়।

অভিযোগ চেলিডাঙ্গার বাসিন্দা বিনোদ দুবে নামে এক বিজেপি নেতার বাড়ির দেওয়ালে বিজেপি প্রার্থী কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায়ের সমর্থনে দেওয়াল লিখন করা হয়। অভিযোগ, সেই দেওয়াল লেখাতেই আপত্তি জানায় তৃণমূল কংগ্রেস। বিনোদ দাবি করে বলেন,  নিজের বাড়িতে দেওয়াল লেখা হয়েছে। তাতে কারোর অনুমতি নেওয়ার কোন প্রয়োজন নেই। পাল্টা অভিযোগ করেন বিনোদের ভাইপো তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী অভিরূপ দুবের। তার দাবি বাড়িটি তাদেরও। এটা পারিবারিক সম্পত্তি। আমার অনুমতি না নিয়ে বিজেপির দেওয়াল লেখা হয়েছে। এই নিয়ে বিবাদে জড়িয়ে পড়েন তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির নেতা ও কর্মীরা। এই নিয়ে তৃনমুল কংগ্রেসের প্রার্থী মন্ত্রী মলয় ঘটকের ভাই এই ওয়ার্ডের বিদায়ী কাউন্সিলর অভিজিৎ ঘটক ও বিজেপি প্রার্থী কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায়ের দলবলের মধ্যে বিবাদ চরমে ওঠে। সোমবার বিকেল থেকেই দু-পক্ষ এই দেওয়াল লেখাকে নিয়ে বিবাদে জড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ রাতে,  তৃনমূল কংগ্রেসের কর্মী ও সমর্থকরা ঐ বাড়িতে চড়াও হয়ে ভাঙচুর চালায়। আরো অভিযোগ, বিনোদের ৮০ বছরের বৃদ্ধা মা তারামনি দেবীকে টেনে বাইরে বের করে মারা হয়। সেই খবর পেয়ে এদিন সকালে এলাকায় পৌঁছয় বিজেপি প্রার্থী কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘ভয় পেয়ে তৃনমূল কংগ্রেসের কর্মীরা এই ঘটনা ঘটিয়েছে।’ যদিও তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা অভিজিৎ ঘটক সমস্ত অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, ‘আমি বা আমার দলের কর্মীরা কেউ ঐ বাড়িতে হামলা করেছে বলে প্রমাণ দিতে পারে, তাহলে আমি রাজনীতি ছেড়ে দেবো।’

- Advertisement -

গন্ডগোলের খবর পেয়ে ছুটে আসে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে জেলা প্রশাসনের তৈরি করা ফ্লাইং স্কোয়াড। ফ্লাইং স্কোয়াডের সদস্য বিবেক চৌধুরি বলেন,  ‘আসানসোল দক্ষিণ থানার পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। ঐ বাড়ির  দেওয়ালে দুই দলের দেওয়াল লিখন মুছে ফেলার নির্দেশ দেয় নির্বাচন কমিশন। সেই মতো দেওয়াল লেখা মুছে দেওয়া হয়েছে।’