কোচবিহার, ১৯ মার্চঃ পরেশচন্দ্র অধিকারীকে তৃণমূল লোকসভা ভোটের টিকিট দেওয়ার পর থেকেই জেলা বিজেপি কোমর বেঁধে নেমে পড়েছে কোচবিহার লোকসভা কেন্দ্র দখল করতে। ইতিমধ্যে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় অন্য দলের বহু নেতা ও কর্মী বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন। কোচবিহারেও তৃণমূল যুব থেকে বহিষ্কৃত নেতা নিশীথ প্রামাণিক মুকুল রায়ের হাত ধরে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। এই জেলার আরও অনেক তৃণমূল নেতা তাঁদের দলে যোগ দিতে পারেন বলে বিজেপি নেতৃত্বের ধারণা। আপাতত জেলাপরিষদের এক সদস্যকে টার্গেট করেছে বিজেপি। তাঁর সঙ্গে কথাবার্তাও অনেকদূর এগিয়েছে।

এর মধ্যে  আগামী ২২ থেকে ২৪ মার্চের মধ্যে কোচবিহারে আসছেন দলের রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। বিজেপি সূত্রে খবর, সেদিন জেলার বিভিন্ন জায়গায় রাজ্য সভাপতির হাত ধরে তৃণমূলের একাধিক নেতানেত্রী সহ বহু কর্মী বিজেপিতে যোগ দেবেন। পুরসভার এক কাউন্সিলারও বিজেপিতে যোগ দেওয়ার ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। সেদিন তাঁদেরও বিজেপিতে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এবার গোড়া থেকেই বিজেপি কোচবিহারের আসনটিকে পাখির চোখ করলেও দলের জেলা ও রাজ্য নেতৃত্ব আঁচ করতে পেরেছে শুধু সংগঠনকে শক্তিশালী করেই তৃণমূলের বিরুদ্ধে জয় পাওয়া সম্ভব নয়। যে কারণে এবার কোচবিহারেও রাজ্যের শাসকদলকে ভাঙার কাজে পরিকল্পনামাফিক এগোনো শুরু করেছে তারা। এর আগে তৃণমূলের বিদায়ি সাংসদ পার্থপ্রতিম রায়ের দলত্যাগ নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছিল। যদিও তিনি তৃণমূল প্রার্থী পরেশ অধিকারীর পক্ষে প্রচার শুরু করেছেন। তৃণমূল নেতত্বের একাংশের এখনও ধারণা যে কোনো সময় পার্থপ্রতিম রায় মন বদলাতে পারেন।

অন্যদিকে, বিজেপির জেলা সভাপতি মালতী রাভা বলেন, আমাদের দলে এমনিতে প্রতিদিনই শাসকদলের বিভিন্ন কর্মী যোগ দিচ্ছেন। আরও প্রচুর নেতা-কর্মী যোগ দেওয়ার ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, আগামী ২২ মার্চ দলের রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ কোচবিহারে আসবেন। সেই সময় জেলার বিভিন্ন জায়গায় তাঁদের সকলকে বিজেপিতে নেওয়া হবে। মালতী রাভা বলেছেন, এর মধ্যে শাসকদলের বেশকিছু বড়ো মাপের নেতা-নেত্রীও রয়েছেন।

অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সহসভাপতি আব্দুল জলিল আহমেদ বলেন, বিজেপিতে গেলে কিছু চোর, ডাকাত যেতে পারে। কিন্তু আমাদের দলের কেউ বিজেপিতে যোগ দেবেন না। তিনি জানান, বিজেপি যত চেষ্টাই করুক না কেন, কোচবিহারে তৃণমূল প্রার্থী কম করেও ৫ লক্ষ ভোটে জয়লাভ করবেন।