ফালাকাটায় প্রার্থীর সঙ্গে প্রচারে দুই বিজেপি নেতা

85

ফালাকাটা: প্রার্থীর সঙ্গে প্রচারে নামলেন জেলা স্তরের দুই বিজেপি নেতা নারায়ণ মণ্ডল ও রঞ্জিৎ বর্মন। ফালাকাটায় দলের এই ঐক্যবদ্ধ ছবি দেখে উচ্ছ্বসিত গেরুয়া শিবিরের কর্মীরা। বুধবার ফালাকাটা শহর ও সংলগ্ন বহু এলাকায় এই সংঘবদ্ধ প্রচারের পর প্রার্থী নিয়ে বিজেপির অস্বস্তি দূর হল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

২০১৬ সালে ফালাকাটা কেন্দ্রে বিজেপির প্রার্থী ছিলেন বর্তমান দলের আলিপুরদুয়ার জেলা কমিটির সহ সভাপতি নারায়ণ মণ্ডল। তিনি এবারও প্রার্থীর অন্যতম দাবিদার ছিলেন। এদিকে বামফ্রন্ট আমলে প্রয়াত মন্ত্রী যোগেশচন্দ্র বর্মনের ছায়াসঙ্গী হিসেবে পরিচিত গুয়াবরনগরের রঞ্জিৎ বর্মনও কয়েক বছর আগেই বিজেপিতে যোগ দেন। তিনিও এখন বিজেপির জেলা কমিটির সদস্য। সূত্রের খবর, গত লোকসভা নির্বাচনে বাম ভোট পেয়েই ফালাকাটায় বাজিমাত করেছিল বিজেপি। সেই নিরিখে এবার দলেরই একটি মহল রঞ্জিৎ বর্মনকে প্রার্থী হিসেবে চেয়েছিল। রঞ্জিৎ বাবু নিজেও প্রার্থী হওয়ার জন্য আবেদন করেছিলেন। কিন্তু শেষে দেওগাঁও হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক দীপক বর্মনকে প্রার্থী করে বিজেপি। জানা গিয়েছে, তারপর থেকেই জেলা স্তরের ওই দুই নেতা ও অনুগামীদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ ছড়ায়। এমনকি রঞ্জিৎ বর্মন নির্দলে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তও নেন। দলের এই দ্বন্দ্ব মেটাতে জেলা সভাপতি গঙ্গাপ্রসাদ শর্মাও রঞ্জিৎবাবুর বাড়িতে গিয়ে আলোচনা করেন। এদিকে নাম ঘোষণার পর থেকেই রোজ একটি করে গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় প্রচার চালিয়ে গেলেও এতদিন প্রার্থী দীপক বর্মনের সঙ্গে ওই দুই নেতাকে দেখা যায়নি। অবশেষে এদিন বিভিন্ন এলাকার প্রচারে প্রার্থীর সঙ্গে দুই নেতাকেই প্রচার চালাতে দেখা যায়।

- Advertisement -

বুধবার বিজেপির তরফে দিনভর ফালাকাটা শহরের রবীন্দ্রনগর, আশুতোষপল্লী, গ্যাস গোডাউন, কাঠমিল, দুইমাইল, চুয়াখোলা, বাবুর দোকান, কৃষক বাজার, ঠাকুরপাড়া, সাইনবোর্ড,দু লাল দোকান, দেশবন্ধুপাড়া, অরবিন্দপাড়া, গোপনগর এবং শহর সংলগ্ন বাবুরহাট, বংশীধরপুর, শিশাগোড় এলাকায় প্রচার চালানো হয়। বেশকিছু এলাকায় প্রার্থীর সঙ্গে প্রচারের সঙ্গী ছিলেন নারায়ণ মণ্ডল ও রঞ্জিৎ বর্মন। তবে এই প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে নারায়ণ বাবু জানান, তিনি প্রার্থীর নির্বাচনি এজেন্ট। তাই এতদিন নির্বাচন সংক্রান্ত কাজেই ব্যস্ত ছিলেন। তবে যতক্ষণ পর্যন্ত প্রার্থীর নাম ঘোষণা হয়নি, ততক্ষণ যে যার মতো প্রার্থী পদ পাওয়ার চেষ্টা করেছেন। এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু দলের তরফে প্রার্থীর নাম ঘোষণার পরদিন থেকেই কাজে নেমেছেন বলেও জানান তিনি। কারণ, তাঁদের কাছে দলের প্রতীকই বড় ব্যাপার। রঞ্জিৎ বর্মন জানান, তাঁদের মধ্যে কোনও দ্বন্দ্ব নেই। প্রার্থীর হয়ে সবরকমের প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক তথা প্রার্থী দীপক বর্মন জানান, তাঁদের প্রার্থী নির্বাচন করেন কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। এই নিয়ে মান, অভিমানের কিছু নেই।