রাজ্যে ক্ষমতা দখলে কানে কানে প্রচারের নির্দেশ বিজেপি নেতৃত্বের

212

দীপ্তিমান মুখোপাধ্যায়, কলকাতা : রাজ্যে ক্ষমতা দখলে বিজেপি যে নির্দিষ্ট ছকে এগোচ্ছে, তা ক্রমশ প্রকাশ্যে আসছে। এর আগে বিহার এবং উত্তরপ্রদেশে বিজেপি যে এই ছকেই এগিয়েছিল, তা দলীয় নেতাদের কথাতেই স্পষ্ট। শনিবার সন্ধ্যায় দক্ষিণ কলকাতার একটি পাঁচতারা হোটেলে বিশিষ্ট শিল্পপতি, ব্যবসায়ী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে আলাপচারিতায় বিজেপি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কথাতেই তা প্রকাশ্যে এল। এদিন কেন্দ্রীয় জলশক্তিমন্ত্রী গজেন্দ্র সিং শেখাওয়াত ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা নিজেরাই একটি প্রতিষ্ঠান। আপনাদের সঙ্গে ডিলার, ডিস্ট্রিবিউটার, সাধারণ মানুষ এবং প্রশাসনিক মহলে যথেষ্ট যোগাযোগ আছে। আপনাদের ফোনে অন্তত দেড় থেকে দুহাজার মানুষের ফোন নম্বর আছে, যাঁদের সমাজে প্রভাব আছে। তাঁদের সঙ্গে কথাবার্তার সময় বারবার বলুন, এবার রাজ্যে পরিবর্তন আসছেই। বিজেপি ক্ষমতায় আসছেই। এইভাবেই সমাজের উঁচু স্তর থেকে নীচু স্তর পর্যন্ত প্রচার চালানো গেলেই সাধারণ মানুষের মধ্যে এই বিশ্বাস আসবে যে বিজেপি ক্ষমতায় আসবে।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এদিন উদাহরণ হিসেবে বলেন, আপনাদের কেউ কেউ ডাক্তার। আপনাদের কাছে অনেক রোগী আসেন। তাঁদের সঙ্গে কথা বলার সময় তাঁদের মনে এটি ঢুকিয়ে দিন যে বিজেপি সত্যিই ক্ষমতায় আসছে। এইভাবেই আমরা প্রচার চালাব। একই সঙ্গে বাংলাকে পুনরুজ্জীবনে কী করা হবে? এই প্রশ্নে আপনারা বলতে পারেন, স্বাধীনতার সময় গোটা দেশ বাংলাকে অন্য চোখে দেখত। বাংলার সম্মান অনেক উঁচুতে ছিল। কিন্তু বাম জমানা ও তারপর দিদির জমানায় তা শেষ। এদিনের বক্তা, কৈলাস বিজয়বর্গীয় স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে তৃণমূলকে কটাক্ষ করে বলেন, সোনার বাংলা এখন কয়লার বাংলা। আগে গুন্ডারা রাজনৈতিক নেতাদের পিছনে থাকতেন। এখন গুন্ডারা রাজনৈতিক নেতা ও মন্ত্রী হয়ে গিয়েছেন। অথচ বাংলায় কাঁচামাল, বিদ্যুৎ, সুলভ শ্রমিকের অভাব নেই। ফলে পুঁজিপতিদের জন্য বাংলায় ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল। কিন্তু তার জন্য বাংলায় বিজেপিকে ক্ষমতায় আনতে হবে।

- Advertisement -

একদিকে, মাঠেঘাটে সভা করে সাধারণ মানুষের মধ্যে যেমন বিজেপি প্রচার চালিয়ে যাবে, তেমনই সমাজের বিশিষ্টদের সঙ্গে সম্পর্ক ক্রমশ নিবিড় করে রাজ্যে পরিবর্তন আসছে, এই প্রচার সর্বত্র পেঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এদিন বিজেপি নেতাদের উদ্দেশ্যে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব তাঁদের বার্তায় বলেছেন, বাংলায় গত ১০ বছরে কোনও উন্নয়নমূলক কাজ হয়নি। এখন সরকার দুয়ারে যাচ্ছে। অথচ গত ১০ বছরে কাজ করার যথেষ্ট সময় ছিল। সরকারের যে আত্মবিশ্বাসের অভাব হয়েছে, তা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। আর বিজেপির ক্ষমতায় আসা সম্ভব তখনই, যখন ব্যবসায়ীদের ভোট আমাদের সঙ্গে আসবে। এদিন ভাষণের মধ্যেই কৈলাস বিজয়বর্গীয় বলেন, ব্যবসায়ীরা আমাদের নির্বাচনের সময় নোট দিতেন। কিন্তু ভোটের সময় তাঁরা কোথায় চলে যেতেন, তা জানি না। কিন্তু আমার বিশ্বাস, এবার ব্যবসায়ীদের নোটও আসবে, ভোটও আসবে। কৈলাস বিজয়বর্গীয়ের এই বক্তব্য নিয়ে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন মহলে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

এদিন বক্তব্য রাখতে গিয়ে গজেন্দ্র সিং শেখাওয়াত বলেন, বাংলায় খনিজ সম্পদ প্রচুর, এখানে প্রচুর শিল্প গড়ে তোলা সম্ভব। কিন্তু তার জন্য সঠিক দিশা দরকার। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, কেন্দ্রের সরকার নির্দিষ্ট দিশা নিয়ে এগোচ্ছে। চলতি বছর কোভিড পরিস্থিতির জন্য অবস্থা সত্যিই খুব খারাপ। তবু আমরা আশা ছাড়িনি। আমরা জানি, এই মন্দা আমরা কাটিয়ে উঠব। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তার দিশা দেখিয়েছেন। বাংলার জন্যও আমাদের নির্দিষ্ট শিল্প পলিসি আছে। আমরা দেখেছি বাংলায় একদিকে যেমন সস্তায় বিদ্যুৎ পাওয়া যায়, তেমনই কাঁচামালের জন্য হয়রানি পোহাতে হয় না। তাই আমরা এখানে শিল্পে অগ্রসর হতে পারব। এদিন প্রতি মুহূর্তেই বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতারা রাজ্যের নেতা-কর্মীদের বুঝিয়ে দিয়েছেন, মূলত কানে কানে প্রচারও বিশেষভাবে ভোটে গুরুত্ব পাবে। তাই ব্যবসায়ী, চিকিৎসক, শিল্পপতি, যাঁর সঙ্গেই আপনাদের কথা হবে, তখনই আপনারা তাঁদের বলুন, বিজেপি এবার ক্ষমতায় আসবেই। কেউ আটকাতে পারবে না। এইভাবে গোটা রাজ্যে যদি ১০ হাজার বিশিষ্ট ব্যক্তি থাকেন, তাঁদের মাধ্যমে অন্তত আমরা পাঁচ কোটি মানুষের কাছে পৌঁছে যাব। কারণ তাঁরা সমাজের মূল ভিত্তি।