ভোট হিংসার জেরে অসমে ঠাঁই বিজেপি সমর্থকদের, সাহায্যের হাত প্রশাসনের

174

তুফানগঞ্জ: ভোট পরবর্তী হিংসায় কোচবিহারের তুফানগঞ্জ থেকে ঘর ছাড়াদের অনেকেই আশ্রয় নিয়েছেন সীমান্ত সংলগ্ন অসমের বিভিন্ন এলাকায়। অসমের রনপাগলি ও হালাকুড়ায় পৃথক তিনটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঘরছাড়াদের আশ্রয় দেওয়ার পাশাপাশি তাদের খাবার এবং ওষুধের বন্দোবস্ত করেছে অসম প্রশাসন। ব্যবস্থা করা হয়েছে করোনা পরীক্ষারও। এক্ষেত্রে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরাও। ধুবরির পুলিশ সুপার আনন্দ মিশ্র জানান, চারশোরও মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন বাংলা থেকে।

বুধবার সকালে এমন পৃথক তিনটি ক্যাম্প পরিদর্শন করেন পুলিশ সুপার। ভোট হিংসার জেরে ঘরছাড়াদের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন তিনি। তিনি জানান, মানবিকতা ও কর্তব্যবোধ থেকে আমরা ঘরছাড়াদের আশ্রয় দিয়েছি। পুলিশ সুপারের কথায়, তারা যতদিন থাকতে চাইবেন ততদিন তাদের আশ্রয় দেওয়া হবে। একইসঙ্গে বিষয়টি বাংলার প্রশাসনকে জানানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।

- Advertisement -

ভোটের ফল প্রকাশের পরেই ভোট পরবর্তী হিংসা বাড়তে শুরু করে। প্রাণ বাঁচাতে সীমান্ত পেড়িয়ে অসমে আশ্রয় নেন তুফানগঞ্জ বিধানসভা এলাকার ঝাউকুঠি, বড়লাউকুঠি, মানসাই, বালাকুঠি, ফলিমারি, মহিষকুচি সহ বিভিন্ন এলাকার বিজেপির কর্মী-সমর্থকরা। জানা গিয়েছে, বিগত তিনদিন ধরে তারা সেখানেই রয়েছেন। তাদের কথায়, ভোটের ফল ঘোষণার পর তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা বাড়িতে হানা দেয়। ঘরবাড়ি ভাংচুর করার পাশাপাশি লুঠপাট চালায়। প্রাণ বাঁচাতেই বাড়িঘর ছেড়ে অসমে পাড়ি জমাতে হয়েছে বলে অভিযোগ। বিজেপির অসম রাজ্য সভাপতি রঞ্জিত কুমার দাস জানান, সমগ্র বিষয়টি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে জানানো হবে। বাংলা থেকে অসমে পাড়ি দেওয়া বিজেপি কর্মীদের আশ্বস্ত করে ফিরে আসার আবেদন জানিয়ে তুফানগঞ্জ-২ এর তৃণমূল কংগ্রেসের ব্লক সভাপতি ধনেশ্বর বর্মন জানান, বিজেপির কর্মীদের কেউ ভয় দেখায়নি বা অত্যাচার করেনি। নিজেদের কাজে ভয় পেয়ে তারা অসমে গিয়েছেন।