শুভেন্দুদের হাততালি দিয়ে মনোবল বাড়াবেন বিজেপি কর্মীরা

133

জ্যোতি সরকার, জলপাইগুড়ি : শুভেন্দু অধিকারী বা শোভন চট্টোপাধ্যায়রা কিছুদিন আগেও বিজেপির বিরুদ্ধে সরব ছিলেন। এখন তাঁরাই গেরুয়া শিবিরের পক্ষে সরব হয়েছেন। তৃণমূল কংগ্রেস থেকে আসা এই নেতারা যাতে প্রচারে মূল ভমিকা পান তা দেখতে হবে। পিছন থেকে বিজেপি নেতা-কর্মীরা হাততালি দিয়ে তাঁদের মনোবল বাড়াবেন। সোমবার জলপাইগুড়িতে বিজেপির এক গোপন বৈঠকে জেলার আটটি বিধানসভা ক্ষেত্রের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে দলের সর্বভারতীয় নেতা তথা উত্তরবঙ্গের দায়িত্বপ্রাপ্ত অরবিন্দ মেনন একথা বলেন। তিনি জানান, এবারের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি ক্ষমতায় না আসতে পারলে ভবিষ্যতে ক্ষমতায় আসার সুযোগ খুবই কম। গোষ্ঠীকোন্দল কোনওমতেই বরদাস্ত করা হবে না বলে মেনন এদিন কড়াভাবে হুঁশিয়ারি দেন। জয় শ্রীরাম প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, যে সমস্ত তৃণমূল নেতা আমাদের দলে যোগ দিয়েছেন তাঁদের দিয়ে এই ধ্বনি বলিয়ে প্রমাণ করতে হবে এটি কোনও অপমান নয়, সাধুবাদ জানানোর মাধ্যম। এদিকে সূত্রের খবর, দলের উত্তরবঙ্গের সাত সাংগঠনিক জেলার মধ্যে ছয় জেলা সভাপতি আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান বলে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে জানানো হয়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে বিধানসভা কেন্দ্রগুলিতে প্রার্থী হিসাবে জলপাইগুড়ি সাংগঠনিক কমিটি থেকে দলের রাজ্য সহ সভাপতি তথা প্রাক্তন জেলা সভাপতি দীপেন প্রামাণিকের পাশাপাশি ঘাসফুল ছেড়ে গেরুয়া শিবিরে যোগ দেওয়া শুক্রা মুন্ডার নাম সুপারিশ করা হয়নি। দীপেনবাবু অবশ্য জলপাইগুড়ি, ধূপগুড়ি বা মেখলিগঞ্জ আসনের কোনও একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চেয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে আর্জি জানিয়েছেন।
রবিবার শিলিগুড়িতে বিজেপির পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্বপ্রাপ্ত কৈলাস বিজয়বর্গীয়ের উপস্থিতিতে শীর্ষ নেতারা একটি বৈঠকে বসেন। তাঁরা বিধানসভা নির্বাচনে লড়তে রাজি কি না বলে নেতারা উত্তরবঙ্গের দলের জেলা সভাপতিদের কাছে প্রশ্ন করেছিলেন। উত্তরে তাঁরা প্রার্থী হতে রাজি বলে কোচবিহারের মালতী রাভা, আলিপুরদুয়ারের গঙ্গাপ্রসাদ শর্মা, শিলিগুড়ির প্রবীণ আগরওয়াল, মালদার গোবিন্দ মণ্ডল, উত্তর দিনাজপুরের বিশ্বজিৎ লাহিড়ি ও দক্ষিণ দিনাজপুরের বিনয় বর্মন জানান। জলপাইগুড়ির জেলা সভাপতি বাপি গোস্বামী ব্যতিক্রম। তিনি সাংগঠনিক দায়িত্ব নিয়ে থাকতে চান বলে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে জানান। অন্যদিকে সূত্রের খবর, দলের জলপাইগুড়ি সাংগঠনিক কমিটি জলপাইগুড়ি সদর আসনের জন্য জলপাইগুড়ি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের প্রাক্তন চেয়ারম্যান ধর্তিমোহন রায়, প্রাথমিক শিক্ষক চন্দন বর্মন ও আইনজীবী সৌম্যজিৎ সিংহের নাম সুপারিশ করেছে। মাল কেন্দ্রটির জন্য শংকর ওরাওঁ এবং দুই চা শ্রমিক রবীন খালকো ও মঙ্গল ওরাওঁয়ের নাম সুপারিশ করা হয়েছে। ধূপগুড়ি কেন্দ্রের জন্য জলপাইগুড়ি জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিষ্ণুপদ রায়, জেলা সম্পাদক মাধব রায় এবং ধূপগুড়ি ব্লক সম্পাদক দীপু রায়ের নাম সুপারিশ করা হয়েছে। গত বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির পরাজিত প্রার্থী আগুন রায় এই কেন্দ্রের অন্যতম দাবিদার হলেও তাঁর নাম সুপারিশ করা হয়নি। ময়নাগুড়ির জন্য দলের সর্বক্ষণের কর্মী শ্যামল রায়, প্রাথমিক শিক্ষক বিকাশ ডাকুয়া ও কৃষিজীবী দেবাশিস রায়ের নাম সুপারিশ করা হয়েছে। নাগরাকাটা বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য প্রাক্তন সেনাকর্মী পুনা ভাংরা, আইসিডিএস কর্মী পুনীতা ওরাওঁ এবং প্রাক্তন গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান সীমা কেরকেট্টাকে বাছা হয়েছে। রাজগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য রাজগঞ্জ পঞ্চায়েত সমিতির বিরোধী দলনেতা তথা দলের জেলা সহ সভাপতি সুপেন রায়, ব্লক সাধারণ সম্পাদক মন্টু বর্মন এবং পাহাড়পুরের বাসিন্দা তৃণমূল থেকে আগত নেতা হারাধন সরকারের নাম রয়েছে। ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি আসনে বিজেপির রাজ্য সাধারণ সম্পাদক রথীন বসু, আইনজীবী পিয়াসী পাল এবং বিজেপির জেলা সহ সভাপতি শিখা চট্টোপাধ্যায়ের নাম সুপারিশ করা হয়েছে। মেখলিগঞ্জ বিধানসভা আসনের জন্য কৃষিজীবী শ্যামল ডাকুয়া, মেখলিগঞ্জের নেতা দধিমোহন রায় ও দলের জেলা সহ সভাপতি বঙ্কিম রায়ের নাম সুপারিশ করা হয়েছে।
জলপাইগুড়ির বৈঠকে মেনন বলেন, পিসি-ভাইপোর সরকার আর নেই দরকার। এই স্লোগান দিয়ে গ্রামেগঞ্জে প্রচার চালাতে হবে। প্রচারেও তৃণমূল থেকে আসা নেতা-কর্মীদের অগ্রাধিকার দিতে হবে। বৈঠকে অন্যদের মধ্যে বাপি গোস্বামী, জলপাইগুড়ির পর্যবেক্ষক নীলাঞ্জন রায় বক্তব্য রাখেন।