ঘর ছাড়া বিজেপি কর্মীদের ফেরাল তৃণমূল, খোলা হচ্ছে দোকান

88

বর্ধমান: প্রতি মুহুর্তে ভোট পরবর্তী রাজনৈতিক হিংসার অভিযোগ তুলছেন বিজেপি নেতৃত্বরা। কিন্তু সেসবে কান না দিয়ে আতঙ্কে ঘর ছাড়া বিজেপি কর্মীদের ঘরে ফেরানোর কাজ অব্যাহত রাখল তৃণমূল কংগ্রেসের পূর্ব বর্ধমান জেলার কর্মীরা। তাঁরা দায়িত্ব নিয়ে বিজেপি কর্মী ও সমর্থকদের দোকান খোলাচ্ছেন। তৃণমূলের নেতা, কর্মী ও বিধায়করা মহানুভবতা দেখানোয় আপাতত স্বস্তিতে বিজেপি কর্মীরা। সোমবার পূর্ব বর্ধমানের তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীরা একদল ঘর ছাড়া বিজেপি কর্মীদের ঘরে ফেরাল। ২ মে ভোটের ফল ঘোষণার পরই আতঙ্কে ওই বিজেপি কর্মী ঘর ছেড়েছিল। এদিন ফের বর্ধমান-১ নম্বর ব্লকের হটুদেওয়ান এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীরা এলাকার ২০ জন বিজেপি কর্মীকে ঘরে ফেরাল।

বিজেপি কর্মী শেখ সাগর বলেন, ‘ভোটের ফল বের হওয়ার পর তৃণমূল নেতাদের হুমকির ভয়ে তাঁরা ঘরছেড়ে পালিয়ে গিয়েছিলেন। কারণ এলাকার কয়েকজন তৃণমূল নেতা হুমকি দিয়ে বলেছিল, ঘরে থাকলে ঘরে ভাঙচুর করা হবে। সেই ভয়ে তাঁরা এলাকার বেশ কয়েকজন বিজেপি কর্মী সমর্থক বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছিলেন। কিন্তু রবিবার রাতে এলাকার তৃণমূল নেতা শেখ কাজল, শেখ জামালরা তাদের ফোন করে নির্ভয়ে বাড়ি ফিরে আসতে বলেন। সেই আশ্বাসে তাঁরা এদিন বাড়িতে ফিরেছেন।

- Advertisement -

শেখ সাগর জানান, সামনেই ইদ। তার আগে বাড়ি ফিরতে পেরে তাঁরা খুশি। বর্ধমান উত্তরের তৃণমূল বিধায়ক নিশীথ মালিক বলেন, ‘আমাদের নেত্রী নির্দেশ দিয়েছেন কোনও রকম অশান্তি বা হিংসা বরদাস্ত করা হবে না। তাই যারা ভোটের পর নিজেরা ভয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায় তাদের ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা আমাদের দলের কর্মীরাই করছেন। তৃণমূল যে রাজ্যে অশান্তি চায় না এই ঘটনা তারই প্রমাণ।’ বর্ধমান উত্তরের বিজেপি প্রার্থী রাধাকান্ত রায় বলেন, ‘জেলায় হিংসার ঘটনায় বিরাম এখনও পড়ে নি। প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও তাঁদের দলের কর্মী সমর্থকরা আক্রান্ত হচ্ছেন। তাঁদের বাড়িতেও হামলা হচ্ছে। তৃণমূল কংগ্রেস যেহেতু এখন শাসক দল তাই তাঁদের উচিত এসব বন্ধ করা।’

একইভাবে কালনা বিধানসভার তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্বও বিজেপি কর্মীদের দিকে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। ভোটের ফল ঘোষণার পর তৃণমূল কর্মীদের রোষের মুখে পড়েন কালনার কল্যানপুর অঞ্চলের জিউধারা মোড় এলাকার সবজি ব্যবসায়ী সজল দাস। তিনি বিজেপির সক্রীয় কর্মী ছিলেন। তার জন্যে তৃণমূলের কিছু কর্মী সজল বাবুর সবজি বিক্রির দোকানের দখল নিয়ে নেয় বলে অভিযোগ ওঠে। সজল বাবুর দোকানের ভেতর থেকে সমস্ত জিনিসপত্র বাইরে বের করে দিয়ে দোকান ঘরটিতে তৃণমূলের পতাকায় মুড়িয়ে দেওয়া হয়। এরফলে বিজেপি কর্মী সজল বাবুর রুটি রুজি যোগাড়ের পথ বন্ধ হয়ে যায়। তবুও ভয়ে তিনি দোকানে আসতে পারছিলেন না।

একথা জানার পর কালনা বিধানসভার নবনিযুক্ত তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক দেবপ্রসাদ বাগ এদিন দুপুরে সজল বাবুর সবজি দোকানে পৌঁছান। তিনি ওই দোকান ঘরে লাগানো থাকা তৃণমূলের সমস্ত পতাকা খুলে দিয়ে বিজেপি কর্মী সজল দাসকে তাঁর দোকান ফিরিয়ে দেন। দোকান ফিরে পেয়ে তৃণমূল বিধায়ককে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন বিজেপি কর্মী সজল দাস। বিধায়ক দেবপ্রসাদ বাগ বলেন, ‘কালনার মানুষ তাঁর উপরে ভরসা রেখেছেন। মানুষের সুবিধা অসুবিধায় পাশে দাঁড়ানই তাঁর কাজ। সেকাজই তিনি এদিন করেছেন। তবে সজল দাসের দোকান ঘরটি তৃণমূলের কর্মীরা দখল করেছিল এই অভিযোগ সত্যি নয়। ওই বিজেপি কর্মী ভয় পেয়ে দোকান খুলতে আসছিলেন না।’