ফালাকাটা দখলে ভিন্ন ছক বিজেপির 

817
ফালাকাটার একটি মন্ডলে বিজেপির সাংগঠনিক বৈঠক।

ফালাকাটা: ফালাকাটা দখলে ছক কষে ময়দানে নেমেছে বিজেপি। উপনির্বাচনকে টার্গেট করে দলের এই রণকৌশলে সাংগঠনিকভাবে কিছু দুর্বলতাও প্রকাশ্যে এসেছে। সেজন্য ফালাকাটার প্রতিটি অঞ্চলে দলীয় পর্যবেক্ষক নিয়োগের পর এবার ২৬৬টি বুথকে চারটি গ্রেডেশন বা ক্যাটাগরিতে ভাগ করে বৈঠক শুরু করেছে গেরুয়া শিবির। দলীয় সূত্রের খবর, অধিকাংশ বুথে বিজেপির পঞ্চায়েত সদস্য বা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি নেই।  কিন্তু সংগঠন মজবুত রয়েছে। আবার দলের পঞ্চায়েত সদস্য থাকা সত্ত্বেও কিছু বুথে সাংগঠনিক দুর্বলতা রয়েছে। মূলত এসবের ভিত্তিতে বুথগুলিকে ক্যাটাগরিতে ভাগ করে সংগঠনকে চাঙা করার পাশাপাশি ভোটারদের কাছে পৌঁছাতে চাইছে বিজেপি। যদিও পদ্মশিবিরের দাবি, ফালাকাটায় এখন সংগঠনের কোনও দুর্বলতা নেই। এদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের পালটা দাবি, বিজেপির কোনও সংগঠনই নেই। ওরা হাওয়ায় মেতেছে।

নির্বাচন কমিশনের নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, আগামী নভেম্বর মাসে ফালাকাটা আসনে উপনির্বাচনের সম্ভাবনা থাকায় এই কেন্দ্রকে পাখির চোখ করে ময়দানে নেমেছে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্রে তৃণমূলের থেকে ২৭ হাজার ভোট বেশি পাওয়ায় বিজেপি এই উপনির্বাচনকে মর্যাদার লড়াই হিসেবে দেখছে। কিছুদিন আগে এই বিধানসভা কেন্দ্রের ১৩টি গ্রাম পঞ্চায়েতের জন্য ১৩ জন নির্বাচনী পর্যবেক্ষক নিয়োগ করে বিজেপি। বুথে বুথে ভোটারদের মন বোঝার জন্য ভোটার তালিকা ধরে দলের পাতা প্রমুখরা কাজ করছেন। সম্প্রতি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষও এখানে এসে সাংগঠনিক বৈঠক করেন। এখন চলছে মন্ডল ভিত্তিক বৈঠক। এইসব বৈঠকে দলের রণকৌশল নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। বৈঠকগুলিতে উপস্থিত থাকছেন মন্ডল সভাপতি, মোর্চা সভাপতি, প্রাক্তন মন্ডল সভাপতি, জেলার পদাধিকারী, জেলা সদস্য, রাজ্য কমিটির সদস্য থেকে শুরু করে বুথ সভাপতি, শক্তিকেন্দ্রের প্রমুখ, সহ প্রমুখ, অঞ্চল প্রমুখরা। বৈঠকগুলি পরিচালনা করছেন সংশ্লিষ্ট মন্ডলের দলীয় পর্যবেক্ষকরা।

- Advertisement -

বিজেপি সূত্রের খবর, বৈঠকের মূল কার্যাবলী হল বুথগুলিকে গ্রেডেশন অনুযায়ী ভাগ করা। গত পঞ্চায়েত ভোটে যেখানে বিজেপির প্রার্থী জিতেছেন এবং সংগঠন মজবুত রয়েছে সেইসব বুথকে প্রথম ক্যাটাগরিতে রাখা হচ্ছে। আবার দ্বিতীয় ক্যাটাগরিতে থাকছে ওইসব বুথ, যেখানে বিজেপির পঞ্চায়েত সদস্য থাকলেও তৃণমূল শক্তিশালী। বিজেপির প্রার্থী জিতেছেন কিন্তু দলের সংগঠন ততটা মজবুত নেই, এরকম বুথকে রাখা হচ্ছে তৃতীয় ক্যাটাগরিতে। শেষ ক্যাটাগরিতে রাখা হচ্ছে ওইসব বুথকে যেখানে বিজেপি প্রার্থী হেরেছেন এবং দলের সংগঠন নেই। এছাড়াও ভোটের জন্য বুথভিত্তিক স্থানীয় ইশ্যু, উত্তেজনাপ্রবণ বুথের তালিকা তৈরি, অন্য দল থেকে আসা নেতাকর্মীদের নামের তালিকা তৈরি সহ একাধিক বিষয়ে আলোচনা করছে গেরুয়া শিবির।

প্রকাশ্যে কোনও বুথে সাংগঠনিক দুর্বলতার কথা মানতে চায়নি বিজেপি। দলের জেলা সভাপতি গঙ্গাপ্রসাদ শর্মা বলেন, ‘ফালাকাটায় কোনও বুথে আমাদের সংগঠন এখন দুর্বল নেই। উপনির্বাচনকে টার্গেট করে মন্ডল বৈঠকের মাধ্যমে দলের রণকৌশল ঠিক করা হচ্ছে। এরপর শক্তিকেন্দ্র ধরে বৈঠক হবে। এসব দলের অভ্যন্তরীণ বিষয়। প্রকাশ্যে সব বলব না।’

তবে তৃণমূল কংগ্রেস বিজেপির এই তৎপরতায় গুরুত্ব দিতে নারাজ। দলের ফালাকাটা ব্লক সভাপতি সন্তোষ বর্মন বলেন, ‘আমাদের বুথে বুথে সংগঠন রয়েছে। বিজেপির নেই। গত লোকসভায় সিপিএমের ভোট পাওয়ায় বিজেপি এখন হাওয়ায় মেতেছে। এজন্য প্রায়দিনই বিজেপির লোকজন তৃণমূলে যোগ দিচ্ছেন।’