তৃণমূলকে ঠেকাতে বিজেপির বুথ সুরক্ষা বাহিনী

গৌরহরি দাস, কোচবিহার : নির্বাচনে তৃণমূলকে ঠেকাতে বুথ সুরক্ষা বাহিনী তৈরি করছে বিজেপি। বাহিনীতে জেলার প্রায় প্রতিটি বুথে ২০ জনের দল থাকবে। যুব মোর্চার বিশেষ সদস্যদের মধ্যে থেকে এই সুরক্ষা বাহিনী তৈরি করা হবে।  বিশেষ সূত্রে খবর, ভোটে তৃণমূল কোথাও কোনওরকম গণ্ডগোল বা সন্ত্রাস করার চেষ্টা করলে এই বাহিনী সেখানে গিয়ে তা প্রতিরোধ করার পাশাপাশি হামলাকারীদের উপযুক্ত জবাব দেবে। এছাড়া নির্বাচন সংক্রান্ত বিভিন্ন কাজকর্মে বুথ লেভেল এজেন্ট ১ ও ২-দের যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছে বিজেপি। ভোট পরিচালনা করার জন্য বিশেষ নির্বাচন পরিচালন সমিতিও তৈরি করছে তারা।

লোকসভা নির্বাচনে ভালো ফল করার পর বিধানসভা নির্বাচনে কোচবিহারকে এবার পাখির চোখ করেছেন বিজেপি নেতৃত্ব। যে কোনও মূল্যে কোচবিহারের বিধানসভা আসনগুলি থেকে ঘাসফুলের ঝান্ডা সরিয়ে সেখানে পদ্মফুল ফোটাতে চান তাঁরা। এই লক্ষ্যে লোকসভা নির্বাচনের পর থেকেই কোচবিহারে সংগঠন মজবুত করার জন্য বিশেষ করে বুথগুলি শক্তিশালী করার জন্য আদাজল খেয়ে নেমেছেন বিজেপি নেতারা। বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে ভোটার তালিকায় সংযোজন, বিয়োজন, সংশোধন ইত্যাদি কাজ শুরু হয়েছে। সাংগঠনিকভাবে কোচবিহার জেলায় বিজেপির ২,২৬২টি বুথ রয়েছে। প্রতিটি বুথে একজন করে বিএলএ-২ রাখছে তারা। এঁদের কাজ হল বুথে বুথে ভোটার লিস্টের সংযোজন, বিয়োজন ও সংশোধনের যে কাজ চলছে, তাতে তৃণমূল যাতে কোনওভাবেই বিজেপির কর্মী-সমর্থকদের নাম বাদ দিতে না পারে সেদিকে নজর রাখা।

- Advertisement -

এই কাজগুলি করতে বিএলএ-২-কে সহযোগিতা করবেন বিজেপির বুথ সভাপতি। এরপরেও কোথাও কোনও সমস্যা হলে তাঁদের সহযোগিতা করার জন্য রয়েছে মণ্ডল ও জেলা কমিটি। এই বিএলএ-২-দের পরবর্তীতে নির্বাচনে পোলিং এজেন্ট করার চিন্তাভাবনা রয়েছে বিজেপির। দলীয় সূত্রে আরও খবর, একটি বিধানসভায় ছয়জন করে বিএলএ-১ থাকবেন। তাঁদের নির্দিষ্ট বুথ ভাগ করা থাকবে। এছাড়া নির্বাচন পরিচালনা করার জন্য বিজেপি জেলায় মূলত তিনটি কমিটি তৈরি করবে। এগুলি হল অফিস ম্যানেজমেন্ট কমিটি, অর্গানাইজেশনাল কমিটি ও পলিটিকাল ম্যানেজমেন্ট কমিটি। এই কমিটি তিনটির অধীনে ২৩টি (৭+৭+৯) বিভাগ থাকবে। প্রতিটি ডিপার্টমেন্টে একজন করে হেড থাকবেন। সব কমিটির মাথায় থাকবেন দলের বিধানসভার কনভেনার ও কোকনভেনার।

বুথ সুরক্ষা বাহিনী প্রসঙ্গে বিজেপির কোচবিহার জেলা সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় চক্রবর্তী বলেন, গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে তৃণমূল যেভাবে সন্ত্রাস চালিয়েছে, তাতে সাধারণ মানুষ তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি। তৃণমূল বুঝে গিয়েছে এবারে তাদের পরাজয় নিশ্চিত। সে কারণে ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য তৃণমূল যে সন্ত্রাসের আশ্রয় নেবে এ ব্যাপারে আমরা পুরোপুরি নিশ্চিত। সেইজন্য আমরা প্রতিটি বুথে সুরক্ষা বাহিনী তৈরি করছি। তৃণমূল কোথাও সন্ত্রাস করার চেষ্টা করলে এই বাহিনী তা প্রতিরোধ করার পাশাপাশি উপযুক্ত জবাব দেবে।

তৃণমূল কংগ্রেসের কোচবিহারের জেলা সভাপতি পার্থপ্রতিম রায় বলেন, বেশ কিছু বুথে বিজেপি ওদের এজেন্ট দেওয়ার লোক পাবে না। সুরক্ষা বাহিনী তো পরের কথা। আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি। মানুষ আমাদের পাশে রয়েছেন। নির্বাচনে জয় আমাদের নিশ্চিত।