উত্তরবঙ্গের জন্য বিজেপির পৃথক ইস্তাহার কমিটি

137
প্রতীকী ছবি

গৌরহরি দাস, কোচবিহার : লোকসভা ভোটে ভালো ফলাফলের পর আগামী বিধানসভা নির্বাচনে উত্তরবঙ্গে জোড়াফুলকে একেবারে উপড়ে ফেলতে চাইছে বিজেপি। উত্তরবঙ্গের ৫৪টি আসনের প্রত্যেকটি এবার তাদের টার্গেট। লক্ষ্যপূরণে আটঘাট বেঁধে নেমেছেন দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। তাঁদের নির্দেশমতোই উত্তরবঙ্গের জন্য নির্বাচনি ইস্তাহার কমিটি তৈরি করা হয়েছে। নির্বাচনে তৃণমূলকে হারাতে গেলে মানুষের কোন কোন জায়গায় ক্ষোভ রয়েছে, তাঁদের প্রত্যাশাই বা কী, সেসব বুঝে সঠিক নির্বাচনি ইস্যু ঠিক করবে এই কমিটি।  এছাড়া কোন জেলার জন্য কী কী প্রস্তাব নেওয়া দরকার, সেটাও সঠিকভাবে তুলে ধরতে হবে তাদের।

নির্বাচনি ইস্তাহারে কী কী বিষয় থাকবে, তা ঠিক করার জন্য শুধুমাত্র দলের জেলা কমিটিগুলির প্রস্তাবে তারা ভরসা করছে না। যে কারণে তারা অত্যন্ত গোপনে উত্তরবঙ্গের দলের বিচক্ষণ নেতাদের নিয়ে মাসখানেক আগে ইলেকশন ম্যানিফেস্টো কমিটি গঠন করেছে। দলীয় সূত্রে খবর, ১৩ জনের বিশেষ এই কমিটিতে দলের জলপাইগুড়ির সাংসদ জয়ন্ত রায়কে কনভেনার ও কোচবিহারের দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক মিহির গোস্বামীকে এই কমিটির কো-কনভেনার করা হয়েছে। এছাড়াও বিশিষ্ট এই কমিটিতে দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্ট, বালুরঘাটের সাংসদ সুকান্ত মজুমদার প্রমুখ রয়েছেন। ইতিমধ্যেই শিলিগুড়িতে অত্যন্ত গোপনে কমিটির বেশ কয়েকটি বৈঠকও হয়েছে।

- Advertisement -

কোচবিহার জেলায় নয়টি সহ উত্তরবঙ্গে মোট ৫৪টি বিধানসভা কেন্দ্র রয়েছে। ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এর মধ্যে শুধুমাত্র আলিপুরদুয়ারের মাদারিহাট ও মালদায় সব মিলিয়ে দুটি বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপি জয় পেলেও গত লোকসভা নির্বাচনে উত্তরবঙ্গে একতরফা জেতে তারা। উত্তরবঙ্গে একটি লোকসভা আসনেও জয় পায়নি তৃণমূল। এমনকি লোকসভা নির্বাচনের নিরিখে উত্তরবঙ্গের ৫৪টি বিধানসভা আসনের মধ্যে ৪৪টিতেই এগিয়ে ছিল বিজেপি। লোকসভা নির্বাচনের ফলাফলে উদ্বুদ্ধ হয়ে আগামী বিধানসভা নির্বাচনে এবার উত্তরবঙ্গকে পাখির চোখ করেছে বিজেপি। সেই লক্ষ্যেই তারা এবার ইলেকশন ম্যানিফেস্টো কমিটি গঠন করেছে। ইলেকশন ম্যানিফেস্টো কমিটির কনভেনার তথা বিজেপির জলপাইগুড়ির সাংসদ জয়ন্ত রায় বলেন, মাসখানেক আগেই কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে ১৩ জন সদস্য রয়েছেন। ইতিমধ্যেই আমরা তিন-চারটে মিটিং করেছি। মূলত শিলিগুড়িতেই মিটিংগুলি হয়েছে। আমরা ঠিক করেছি, কারও উপর কিছু চাপিয়ে দেব না। মানুষ কী বলছেন, তাঁরা কী চাইছেন, তার উপর ভিত্তি করে সবকিছু করব। মানুষের কাছে পৌঁছানোর জন্য বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলব। তাঁরা যদি কোনও পরামর্শ দেন সেগুলি আমরা শুনব।

ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকজনের সঙ্গে কমিটির সদস্যরা কথা বলেছেন। এছাড়া ইচ্ছা করলে তাঁদের ফোন করেও কেউ সাজেশান দিতে পারেন। কমিটির সদস্যরা যদি মনে করেন সেগুলি মানুষের কাজে লাগবে এবং তাঁরা তা বাস্তবায়িত করতে পারবেন তাহলে তাঁরা সেগুলি প্রস্তাব করবেন। নির্বাচনি ইস্তাহারে বিভিন্ন ইস্যুর মধ্যে পাহাড় থেকে শুরু করে চা বাগান, যোগাযোগ ব্যবস্থা, শিক্ষা, স্থানীয় জনজাতির যে সমস্ত সমস্যা রয়েছে সেই সবই তুলে ধরা হবে। জয়ন্তবাবু বলেন, অসম ও বাংলার চা বাগানের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার এক হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। সেটি আমরা তুলে ধরব। পাহাড়ে বিমল গুরুং তাঁদের পাশ থেকে সরে যাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এখন বিমলের পাশে খুব বেশি লোক নেই। তাছাড়া পাহাড়ের মানুষ আমাদের সঙ্গে রয়েছেন। আমাদের দরকার মানুষকে, নেতাকে নয়। ফলে বিমল গুরুংয়ের চলে যাওয়া তেমন কোনও ক্ষতি হবে না। ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে সেকথা জানিয়ে দিয়েছি। অনন্ত মহারাজ প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, এঁরা সকলে আমাদের সঙ্গে রয়েছেন। এছাড়াও তৃণমূলের সঙ্গে যাঁরা রয়েছেন তাঁদেরও অনেকে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন।

জয়ন্তবাবু বলেন, এতদিন যে ম্যানিফেস্টো হত সেগুলি সবই কেন্দ্রীয়ভাবে করা হত। মানুষের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হত। কিন্তু আমরা এখন যেটা করছি তা মূলত এলাকার মানুষের সঙ্গে কথা বলে, তাঁদের পরামর্শ নিয়ে স্থানীয় বিষয় ও জায়গাকে গুরুত্ব দিয়ে যারা রাজ্যে সরকার গড়েছে, তাদের এটা ছিল না। কিন্তু আমরা এবার সরকার গড়তে যাচ্ছি। তাই এটা করছি। সাধারণ মানুষের যেটা চাহিদা অর্থাৎ মানুষ কী চান, না চান তা বুঝে আমরা এটা করছি। তৃণমূলের জেলা সভাপতি পার্থপ্রতিম রায় বলেন, ভোটের আগে উত্তরবঙ্গের জন্য ওদের দরদ উথলে উঠেছে। রাজ্যে ১৮ জন সাংসদ থাকলেও উত্তরবঙ্গ থেকে দেবশ্রী চৌধুরীকে হাফ মন্ত্রী করা ছাড়া আর কাউকে ওরা মন্ত্রী করেনি। এতেই বোঝা যায় ওদের কতটা দরদ। ওরা রাজ্য বা দেশ কোথাওই কিছু করেনি। শুধু ভোট বৈতরণি পার হওয়ার চেষ্টায় এসব চমক দিচ্ছে।