একুশের বিধানসভা ভোটে বিজেপির টার্গেট তপশিলি ভোটব্যাংক

 

ভাস্কর শর্মা, আলিপুরদুয়ার : পাখির চোখ একুশ সালের বিধানসভা ভোট। সেই লক্ষ্যেই এবার তপশিলি জাতির ভোটব্যাংক নিজেদের দিকে টানতে উদ্যোগী হলেন বিজেপির তপশিলি জাতি মোর্চা নেতৃত্ব।

- Advertisement -

আলিপুরদুয়ার জেলায় ১৫ দিনের মধ্যে বড়সড়ো বৈঠক করবে তারা। ফালাকাটা উপনির্বাচন উপলক্ষ্যে সেখানেই ওই বৈঠক হবে। পাশাপাশি জেলায় তপশিলি জাতি মোর্চার জেলা কমিটি পুনর্গঠন সহ একেবারে মণ্ডলস্তরে নেতারা কী করে কাজ করবেন তার রূপরেখাও তৈরি করছেন বিজেপি তপশিলি জাতি মোর্চার নেতারা। সংগঠনের রাজ্য সভাপতি দুলাল বর বলেন, আলিপুরদুয়ার জেলায় দ্বিতীয় বৃহত্তম ভোটব্যাংক তপশিলি জাতির ভোটাররা। তৃণমূল সরকার এতদিন তাঁদের থেকে শুধু ভোট নিয়েছে। কিন্তু ভূমিপুত্র এইসব মানুষের উন্নয়নে তেমন ব্যবস্থা নেয়নি। আমরা জেলার সমস্ত তপশিলি ভোটারকে আমাদের সঙ্গে থাকার আবেদন করেছি। আমরা ক্ষমতায় এলে ভূমিপুত্রদের যোগ্য মর্যাদা দিয়ে তাঁদের উন্নয়নে কাজ করা হবে।

আলিপুরদুয়ার জেলায় পাঁচটি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে কালচিনি, মাদারিহাট বাদে বাকি তিনটিতে সবচেয়ে বেশি ভোট আছে তপশিলি জাতি সম্প্রদায়ের। ফালাকাটা, আলিপুরদুয়ার এবং কুমারগ্রাম ব্লকে তপশিলি জাতির ভোটাররাই নির্ণায়ক শক্তি। কালচিনি এবং মাদারিহাট ব্লকেও ভালো সংখ্যায় তপশিলি ভোটার আছেন। জেলায় তপশিলি উপজাতি সম্প্রদায়ে ভোটারদের পরেই তপশিলি জাতির ভোটার সংখ্যা। স্বাভাবিকভাবেই গোটা জেলার সবকটি বিধানসভা এলাকাতেই ভোটে নির্ণায়ক ভূমিকা নেন তপশিলি ভোটাররা। আগামী ২১ সালের বিধানসভা ভোটে এঁরাই অন্যতম ভূমিকা পালন করতে চলছেন। তাই ভূমিপুত্রদের এই ভোটকেই এখন টার্গেট করে ময়দানে নামছে সব রাজনৈতিক দল। বিশেষ করে বিজেপি গত লোকসভা নির্বাচনের সাফল্যকে ধরে রাখতেই তপশিলি ভোটব্যাংকে আলাদা গুরুত্ব দিচ্ছে।

বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, গত লোকসভা নির্বাচনে জেলায় রাজবংশীদের একটা বিশাল অংশ বিজেপির দিকে ঝুঁকেছিল। কিন্তু ভোটের পরে এনআরসি-সিএএ নিয়ে জেলায় অনেকটাই ব্যাকফুটে চলে যায় বিজেপি। জনসংযোগ অভিযানে গিয়ে বিষয়টি হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছেন বিজেপি নেতারা। তাই ভূমিপুত্রদের ভোট যাতে হাতছাড়া না হয় তার জন্য এখন থেকেই পরিকল্পনা করে এগোতে চাইছে বিজেপি। কীভাবে জেলার তপশিলি ভোটারদের কাছে যেতে হবে, তাঁদের বিজেপির সদস্য করাতে হবে, তা নিয়ে দিকনির্দেশ দিয়েছেন বিজেপির তপশিলি জাতি মোর্চার রাজ্য সভাপতি দুলাল বর। সোমবার তিনি আলিপুরদুয়ারে এসে জেলার তপশিলি নেতাদের সঙ্গে বৈঠকও করেন।

বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক সুমন কাঞ্জিলাল বলেন, জেলায় তপশিলি জাতির মানুষ আমাদের সঙ্গেই আছেন। তাই তৃণমূল কংগ্রেস বিভিন্ন সময় প্রশাসনকে কাজে লাগিয়ে ভূমিপুত্রদের হয়রানি করছে। সম্প্রতি এমন কিছু ঘটনাও সামনে এসেছে। আমরা ঠিক করেছি এই সম্প্রদায়ে মানুষকে সচেতন করতে আমরা তাঁদের বাড়ি বাড়ি যাব। ১৫ দিনের মধ্যেই ফালাকাটা দিয়ে ওই অভিয়ান শুরু হবে। বিজেপির এই উদ্যোগকে কটাক্ষ করেছেন তৃণমূলের এসসি, এসটি, ওবিসি সেলের জেলা সভাপতি পীযূষকান্তি রায়। তিনি বলেন, জেলার এমন কোনও পরিবার নেই যারা রাজ্য সরকারের কোনও সুযোগ-সুবিধা পায়নি। বিজেপি নেতারা সাধারণ মানুষের পাশে না থেকে অয়থা অশান্তি তৈরি করছেন। এর উত্তর দেওয়ার জন্য সাধারণ মানুষ মুখিয়ে আছেন।