লকডাউনের সুযোগ নিয়ে কালোবাজারির অভিযোগ, অর্ধেক মজুরিতেই বিড়ি বাঁধছেন শ্রমিকরা

323

তনয় মিশ্র, মোথাবাড়ি: বিড়ি শিল্পের সংকট মুহূর্তে মালদা জেলায় শুরু হয়েছে কালোবাজারি। আর্থিক সংকটের সুযোগ নিয়ে কিছু অসাধু বিড়ি ব্যাবসায়ী বিড়ি তৈরির জন্য অর্ধেক মজুরি প্রদান করছে বিড়ি শ্রমিকদের। বাধ্য হয়ে মাত্র ৬০ থেকে ৮০ টাকা প্রতি হাজারে বিড়ি বাঁধছে বহু বিড়ি শ্রমিক। এই ঘটনায় বিড়ি শ্রমিকদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন বিভিন্ন সংগঠন। লকডাউনের ফলে মালদা জেলার হাজার হাজার বিড়ি শ্রমিক অসহায় হতদরিদ্র। ভিন রাজ্যে আটকে পড়া পুরুষেরা না থাকায় অনন্তহীন এক সমস্যা নিয়ে বেঁচে আছে ওরা। কোটি কোটি বিড়ি ফ্যাক্টরিতে মজুর হয়ে নষ্ট হওয়ার পথে। বিড়ি কোম্পানিগুলো বন্ধ করেছে বিড়ি উৎপাদন। জেলার কালিয়াচক এলাকার বিভিন্ন গ্রামে বিড়ি শ্রমিকদের পরিবারে গেলে দেখতে পাওয়া যাবে সমস্যার অন্ধকারে তলিয়ে যাওয়া জীবনগুলি। এক একটা পরিবার যেন একটি করুণ উপন্যাসের এক একটি পাতা হয়ে বেঁচে রয়েছে।

মোথাবাড়ি বিধানসভার আলিনগর পঞ্চনন্দপুর মোথাবাড়ি এলাকার কৃষকরা জানিয়েছেন তারা বাধ্য হয়ে মাত্র ৭০ টাকা হাজার দরে বিড়ি বাঁধছে। আলীনগর গ্রামের গৃহবধূ সেলিনা খাতুন সালমা বিবি আনোয়ারা বিবি জানিয়েছেন, তাদের স্বামীরা এই মুহূর্তে ভিন রাজ্যে। সংসারের সমস্ত রোজগার বন্ধ হয়ে গেছে তাই বাধ্য হয়ে ৭০ থেকে ৮০ টাকা দরে বিড়ি বাঁধতে হচ্ছে। যদিও এই ঘটনার বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন কিছু বিড়ি শ্রমিক সংগঠন। সংগঠনের নেতৃত্বে অভিযোগ বড় বিড়ি ফ্যাক্টরি তাদের উৎপাদন বন্ধ করলেও বেশ কিছু ছোট ছোট বেনামী ফ্যাক্টরির মালিক ও গিরি দালালরা বেআইনিভাবে অর্ধেক মজুরিতে বিড়ি বানিয়ে মজুদ করছে। এরা ওই মজুদ বিড়ি ভবিষ্যতে চড়া দামে আবার কোম্পানির কাছে বিক্রি করে দেবে।

- Advertisement -

পশ্চিমবঙ্গ সংগ্রামী বিড়ি মজদুর ইউনিয়নের জেলা সভাপতি ইব্রাহিম শেখ জানিয়েছেন, ‘এই মুহূর্তে শ্রমিকরা চরম সমস্যায় রয়েছেন। অনেকের বাড়িতে উনুনে হাড়ি জুটছে না। এই অসহায়ত্বের মধ্যে দিয়ে কিছু ছোট বিড়ির মালিক কালোবাজারি শুরু করেছেন। বাধ্য হয়ে গ্রামের মহিলারা অর্ধেক মজুরিতে কাজ করছে। খোঁজ নিয়ে দেখেছি বিড়ির বারসেদ শেখ ও জুলা শেখ সহ একাধিক বিড়ি মালিক এইভাবে কালো বাজারিদের নেমেছে। এর পেছনে হাত রয়েছে এলাকার একাধিক বিড়ি কন্ট্রাকটারদের। আমরা চাই বিড়ি উৎপাদন শুরু হোক আর বিড়ি উৎপাদনের নামে এই কালোবাজারি বন্ধ হোক।’

পশ্চিমবঙ্গ বিড়ি শ্রমিক ইউনিয়নের সম্পাদক স্বপন চন্দ্র জানিয়েছেন, ‘জেলার সমস্ত বিড়ি শ্রমিকের পরিবার সংকটের মধ্যে রয়েছে। ছোট ছোট গ্রামের বিড়ি ফ্যাক্টরিগুলিই এভাবে বিড়ি শ্রমিকদের প্রতারিত করছে। এর ফলে অবৈধ হবে পয়সা রোজগার করছে কিছু কন্ট্রাক্টর।’ জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের শ্রমিক ইউনিয়ন আইএনটিটিইউ জেলা সভাপতি ড: মানব ব্যানার্জি বলেন, ‘একশ্রেণীর বিড়ি ব্যবসায়ীরা বিড়ির কালোবাজারিতে নেমেছেন। এই মুহূর্তে জেলাব্যাপী অর্ধেক মজুরিতে বিড়ি তৈরি করে মজুদ করবে। পরে সেগুলো বিড়ি কোম্পানির কাছে দ্বিগুণ মূল্যে বিক্রি করে অবৈধভাবে রোজগার করার পরিকল্পনা রয়েছে।’ ‌কালিয়াচকের বালিয়াডাঙ্গা মোড়ে অবস্থিত মহামায়া ভান্ডার বিড়ি ফ্যাক্টরির মালিক সুব্রত পাল জানিয়েছেন, ‘কোনও বৈধ বিড়ি ফ্যাক্টরি এই ধরনের অবৈধ কাজ করছে না। কিছু দালাল রয়েছে যাদের কাছে পূর্বের মসলা ও পাতা মজুদ ছিল তারাই মানুষের অসহায় পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে এই ধরনের কাজ করছে।’ বিষয়টি নিয়ে কালিয়াচক-২ নম্বর ব্লকের বিডিও সঞ্জয় সিং জানিয়েছেন, তার কাছে এ ধরনের কোনও অভিযোগ আসেনি। যদি আসে তাহলে তিনি বিষয়টি শ্রমদপ্তরকে খতিয়ে দেখতে বলবেন।’