উত্তর দিনাজপুরে নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পের কালোবাজারি

বিশ্বজিৎ সরকার, রায়গঞ্জ : লকডাউন পরবর্তী সময়ে ১০ টাকার নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প পেপার মিলছে না উত্তর দিনাজপুর জেলা আদালতে। রায়গঞ্জ মহকুমা আদালতেও ১০ টাকার স্ট্যাম্প পেপার অমিল। এমনকি ৫০ টাকা এবং ১০০ টাকার স্ট্যাম্প পেপারও বাড়ন্ত উত্তর দিনাজপুরের আদালতগুলিতে। তবে ২০ টাকার স্ট্যাম্প পাওয়া যাচ্ছে। ফলে বাধ্য হয়ে ১০ টাকার স্ট্যাম্পের বদলে ২০ টাকার কিনছেন গ্রাহকরা। কিন্তু সোমবার ২০ টাকার স্ট্যাম্পেও আকাল দেখা দিয়েছে।

একদিকে করোনা আবহ অন্যদিকে কোর্ট স্ট্যাম্পের আকাল, এই দুইয়ের ফাঁসে প্রায় প্রতিদিনই চরম জেরবার হচ্ছেন গ্রাহকরা। স্ট্যাম্প নিয়ে চলছে কালোবাজারি। সুযোগ বুঝে দশ টাকার স্ট্যাম্প বাইরে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। স্ট্যাম্পের অভাবে নানা ধরনের আইনি কাজ কার্যত থমকে পড়েছে। প্রয়োজনীয় স্ট্যাম্প পেপারের খোঁজে হন্যে হয়ে রায়গঞ্জ আদালত চত্বর ঘুরছেন গ্রাহকরা। স্ট্যাম্প পেপার না মেলায় ফের বাড়ি ফিরতে কার্যত বাধ্য হচ্ছেন বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা।

- Advertisement -

উত্তর দিনাজপুর জেলা আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, কর্মদিবসগুলিতে গড়ে প্রায় এক হাজার মানুষ বিভিন্ন আইনি সংক্রান্ত কাজে রায়গঞ্জ আদালত থেকে বিভিন্ন অঙ্কের নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প সংগ্রহ করেন। সেইক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয় দশ টাকার নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প। বর্তমানে চিকিৎসক ও মেডিকেল পড়ুয়াদের নাম অথবা ঠিকানা ভুল থাকলে ১০ টাকার স্ট্যাম্পে এফিডেভিট করতে হয়। ফলে ১০ টাকার স্ট্যাম্প না পাওয়ায় রীতিমতো হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। অথচ দীর্ঘ লকডাউন কাটিয়ে আনলকে আদালতে মিলছে না জরুরি স্ট্যাম্প পেপার। স্বাভাবিকভাবে, লকডাউনে প্রায় ছয় মাস স্বাভাবিক কাজ স্তব্ধ থাকায় অনেক বাসিন্দা জরুরি কাজ করতে পারেননি। কিন্তু এখন আদালত খুললেও নির্দিষ্ট কোর্ট পেপারের অভাবে প্রয়োজনীয় কাজ থমকে পড়েছে। একই অবস্থা ইসলামপুর মহকুমা আদালতেও।

জেলা বার অ্যসোসিয়েশনের সম্পাদক সুব্রত বসাক অবশ্য বলেন, লকডাউনের পরবর্তীতে ট্রেজারি থেকে কোর্টে স্ট্যাম্প পেপার সরবরাহ বন্ধ হয়ে পড়েছে। নির্দিষ্ট অঙ্কের নন জুডিশিয়াল স্টাম্প পেপারের অভাবে রায়গঞ্জ জেলা আদালতে বহু গ্রাহকের জরুরি নথিপত্র আদান প্রদানের কাজ থমকে পড়েছে। জেলার ট্রেজারির কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় স্ট্যাম্প পেপার না মেলায় প্রকৃত নাম ঠিকানার প্রমাণের অথেনটিকেশনের জন্য কোর্টে এফিডেভিড এবং জায়গা জমি বা দোকান বাড়ির আইনি এগ্রিমেন্টের শংসপত্রের নথিপত্র সহ বিভিন্ন ব্যাংকের ঋণের আবেদনের জন্য জরুরি নথিপত্র দাখিলের প্রমাণের জন্য নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প পেপার অপরিহার্য। কিন্তু যে কাজের জন্য দশ টাকার স্ট্যাম্প পেপার যথেষ্ট, সেই আইনি কাজ সম্পাদনের জন্য অতিরিক্ত টাকা খরচ করে আদালত থেকে কুড়ি টাকার স্ট্যাম্প কিনতে বাধ্য হচ্ছেন গ্রাহকরা।

তাও সেটা সবসময় মিলছে বলে গ্রাহক তথা মক্কেলদের তরফে অভিযোগ। তবে কর্ণজোড়ার জেলা ট্রেজারি দপ্তর সূত্রে জানানো হয়েছে, মার্চের শেষ সপ্তাহ থেকে আচমকা লকডাউন জারি হওয়ায় সমস্ত দপ্তর বন্ধ হয়ে যায়। তারপর তিন চার মাস পর লকডাউন শিথিল হলেও আতঙ্কে অনেকেই কলকাতায় যেতে পারেনি। ফলে নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পের মজুত শেষ হওয়ার পরবর্তী নতুন করে স্ট্যাম্প সংগ্রহ করতে কলকাতা যাওয়ার সম্ভব হয়নি। এ ব্যাপারে অতিরিক্ত জেলা শাসক (সাধারণ) অলঙ্কৃতা পান্ডে অবশ্য বলেন, আসলে লকডাউনের জন্য দশ টাকার স্ট্যাম্প পেপার কলকাতায় প্রিন্টিং কম হয়েছে। তবে পরবর্তী তিন মাসের বরাদ্দ বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। রায়গঞ্জ আদালতের আইনজীবী আশিস সরকার বলেন, ১০ টাকার স্ট্যাম্প দীর্ঘদিন ধরে অমিল। ফলে আমাদেরও সমস্যা হচ্ছে।

রায়গঞ্জ আদালতের প্রাক্তন (জিপি) গভর্নমেন্ট প্লিডার তথা আইনজীবী দেবব্রত সরকার বলেন, বিষয়টি বার অ্যাসোসিয়েশন সহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব ১০ টাকার স্ট্যাম্প উত্তর দিনাজপুর জেলায় চলে আসবে।