মালদায় দূরপাল্লার বাসের টিকিটের দেদার কালোবাজারি

744
প্রতীকী ছবি।

হরষিত সিংহ, মালদা: ট্রেন পরিষেবা স্বাভাবিক না থাকায় যাত্রীর চাপ বেড়েছে দূরপাল্লার বেসরকারি বাসগুলিতে। যাত্রীদের অসহায়তার সুযোগ নিয়ে মালদায় শুরু হয়েছে দূরপাল্লার বাসের টিকিটের কালোবাজারি। বিশেষ করে মালদা থেকে কলকাতা রুটের বাসগুলিতে ব্যাপক কালোবাজারি শুরু হয়েছে। হঠাত্ করে বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে সাধারণ ও এসি বাসের টিকিটের দাম। যদিও বাস মালিকদের দাবি, ভাড়া বৃদ্ধি করা হয়নি। যদিও অভিযোগ উঠেছে, সন্ধ্যার পরেই মালদা শহরের রথবাড়ি মোড়ে টেবিল-চেয়ার পেতে ফাঁত পেতে বসছেন কিছু দালাল। যাত্রীদের ভালো বাসে সিট পাইয়ে দেওয়ার নাম করে নিচ্ছে মোটা অঙ্কের টাকা। জরুরি দরকার থাকায় যাত্রীরা বাধ্য হচ্ছেন চড়া দামে বাসের টিকিট কাটতে।

সাধারণ থেকে এসি বাস, সবেতেই টিকিটের কালোবাজারি করছেন কিছু অসাধু বুকি। দীর্ঘদিন ধরে মালদা থেকে দূরপাল্লার বাসের টিকিটে কালোবাজারি চলতে থাকলেও প্রশাসনের পক্ষে কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এমনকি বেসরকারি বাস পরিষেবায় প্রশাসনের কোনও নজরদারি নেই। যার জেরে মাঝেমধ্যে দূরপাল্লার বাসেও মেঝেতে বসিয়ে গাদাগাদি করে যাত্রীদের নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। বিষয়টি এদিন প্রশাসনের নজরে নিয়ে আসলে প্রযোজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস নিয়েছেন জেলা প্রশাসনের কর্তারা।

- Advertisement -

অতিরিক্ত জেলা শাসক (ভূমি ও ভূমি সংস্কার) পালদেন শেরপা জানান, বিষয়টি আমরা প্রশাসনের পক্ষে পরিদর্শন করব। সমস্যা তৈরি হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। লকডাউনে এখনও বন্ধ রয়েছে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল। একটি মাত্র ট্রেন বর্তমানে উত্তরবঙ্গ থেকে কলকাতা পর্যন্ত চালু রয়েছে। ওই ট্রেনে টিকিটের চাহিদা বেশি। ফলে চেয়ে টিকিট না মেলায় মালদা জেলা সহ উত্তরবঙ্গের বাসিন্দাদের এখন একমাত্র ভরসা সরকারি ও বেসরকারি বাস। করোনা পরিস্থিতিতে সরকারি বাস পরিষেবাও পুরোপুরি চালু হয়নি। কিন্তু বেসরকারি বাস পরিষেবা কিছুটা হলেও স্বাভাবিক হয়েছে। বর্তমানে বহু মানুষ বিভিন্ন কাজে কলকাতা যাচ্ছেন। তাই কলকাতা যাওয়ার জন্য বেসরকারি বাস এখন একমাত্র ভরসা উত্তরবঙ্গ তথা মালদা জেলার বাসিন্দাদের। প্রতিদিন মালদা থেকে ১০টি বেসরকারি বাস কলকাতা পর্যন্ত চলে। এছাড়াও উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বাসগুলিও মালদা হয়ে কলকাতা যায়।

প্রতিদিন মালদা থেকে ২০টি বেশি বেসরকারি বাস কলকাতা যায়। এছাড়াও উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ সংস্থার মালদা ডিপো থেকে ৪টি বাস কলকাতা রুটে চলছে। উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলার কলকাতাগামী সরকারি ও বেসরকারি বাসগুলিও মালদা শহরে স্টপেজ দেয়। কিন্তু সেই বাসগুলিতে সিট না থাকায় মালদার যাত্রীরা উঠতে পারেন না অনেক সময়। পর্যাপ্ত পরিমাণে সরকারি বাস পরিষেবা চালু না হওয়ায় এখন একমাত্র ভরসা বেসরকারি বাস। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে রথবাড়িতে মাথা চাড়া দিয়েছে এক শ্রেণির দালাল চক্র। চড়া দামে যাত্রীদের কাছে বিক্রি করছে টিকিট।

বাসের মাঝামাঝিতে সিট নিলে টিকিটের দাম সব থেকে বেশি। বর্তমানে মালদা থেকে কলকাতার সরকারি সাধারণ বাসের ভাড়া ২৬০ টাকা। বেসরকারি বাসে সেই ভাড়া নেওয়া হত ৩০০ টাকা। অনেক সময় ৩২০ টাকা পর্যন্ত নিতেন টিকিট বুকিরা। করোনা পরিস্থিতিতে সেই ভাড়া গিয়ে দাঁড়িয়েছে ৫০০ টাকায়। তবে পেছনের দিকে সিট নিলে তার দাম ৪০০ টাকা। এসি বাসের ভাড়াও ব্যাপক হারে কালোবাজারি হচ্ছে। আগে সাধারণ এসি বাসের ভাড়া ছিল ৫০০ টাকা। এসি ভলভো বাসের ভাড়া ছিল ৭০০ টাকা। এখন সাধারণ এসি বাসের ভাড়া নিচ্ছে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা। এসি ভলভো বাসের ভাড়া ১০০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। তবে সমস্ত যাত্রীদের কাছে একই ভাড়া নেওয়া হচ্ছে না। যার কাছে যেমন পারছেন, টিকিটের তেমন দাম হাঁকছে দালালচক্র।

দুর্গা চৌধুরী নামে এক যাত্রী অভিযোগ করে বলেন, আমি সন্ধ্যা ৭টায় বাস ধরার জন্য রথবাড়ি আসি। এখানে কোনও কলকাতাগামী বাসের টিকিট পাচ্ছিলাম না। শেষে একটি এসি বাসে টিকিট করলাম। আমার কাছে ১০০০ টাকা নিয়েছে। বুকি জানিয়েছে বালুরঘাট থেকে বাস আসছে। ১০টায় রথবাড়ি পৌঁছাবে। আমার য়াওয়া জরুরি, তাই টিকিট কাটতে বাধ্য হলাম। রথবাড়িতে কলকাতা সহ অন্যান্য রুটের দূরপাল্লার বাসের টিকিট কাউন্টার রয়েছে। প্রায় ১২টি বুকিং কাউন্টার রয়েছে। সেই কাউন্টারগুলিতে মালদা, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর থেকে আসা বাসের টিকিট পাওয়া যায়। দুপুর ও বিকেলের দিকে টিকিটের দাম কম নেওয়া হয়। সন্ধ্যা হলে য়াত্রীদের সংখ্যার ওপর বাড়ছে টিকিটের দাম। যাত্রীর সংখ্যা বেশি হলে আকাশছোঁয়া হচ্ছে টিকিটের দাম। ভিড় তুলনায় কম হলে ৫০ থেকে ১০০ টাকা বেশি দামেই বিক্রি হচ্ছে টিকিট।