সৌদি আরবে পাড়ি দিতে পারে আলিপুরদুয়ারের ব্ল্যাক রাইস

312

মণীন্দ্রনারায়ণ সিংহ, আলিপুরদুয়ার : দেখতে কালো হলেও দামে ভালো। আলিপুরদুয়ারের গ্রামে চাষ হওয়া মণিপুর জাতের ব্ল্যাক রাইস বা কালো চাল ইতিমধ্যেই দেশের বড় বড় শহরে ভালো বাজার ধরে ফেলেছে। দেশীয় জাতের এই চাল নানা ওষধিগুণসম্পন্ন বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন। এর জেরে জেলার বৃত্ত ছাড়িয়ে কলকাতা তো বটেই, দিল্লি বা বেঙ্গালুরুর অনেকেও এই চাল খাওয়া শুরু করেছেন। কম খরচে বেশি লাভ হওয়ায় কৃষি দপ্তর এই ধানের চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করে। বাজারের চাহিদা বুঝে কৃষি দপ্তর এই চাষের এলাকা বৃদ্ধিতে উদ্যোগী হয়েছে। বৃহত্তর বাজার ধরতে এবারে এই চাল সৌদি আরবে পাড়ি দিতে পারে। সূত্রের খবর, কলকাতার এক রপ্তানিকারক সৌদি আরবে এই চাল রপ্তানির বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। লাভের পরিমাণ বাড়তে পারে বুঝে আলিপুরদুয়ারের কৃষকদের মধ্যে খুশির হাওয়া ছড়িয়েছে।

কৃষি দপ্তরের আলিপুরদুয়ারের উপ কৃষি অধিকর্তা হরিশ্চন্দ্র রায় বলেন, চলতি বছরে দপ্তরের উদ্যোগে মণিপুর থেকে বীজ এনে কুমারগ্রাম ব্লকের তেলিপাড়া গুয়াবাড়ি গ্রামে চার একর জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে ব্ল্যাক রাইস চাষ করা হয়। এই চাষে সাফল্য মেলার পাশাপাশি বাজারে এর চাহিদা বাড়তে থাকায় আমরা চাষের এলাকা আরও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আগামী বছর প্রায় ৫০ একর জমিতে এই চাষের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।আলিপুরদুয়ারে বহু কৃষক কালো নুনিয়া, গোবিন্দভোগের মতো সুগন্ধি ধানের চাষ করেন। বাজারে এই চালগুলির ভালো চাহিদা রয়েছে। ব্ল্যাক রাইস চাষে সাফল্য কৃষি দপ্তরের মনোবল বাড়িয়েছে। দপ্তর আলিপুরদুয়ারে আরও বেশি পরিমাণ জমিতে এই চালের ফলন ফলাতে উদ্যোগী হয়েছে। আরও বেশি সংখ্যক কৃষক যাতে এই চাষে উদ্যোগী হন তাই কৃষি দপ্তর কৃষকদের বিনামূল্যে এই ধানের বীজ দিতে উদ্যোগী হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা জানান, এই জাতের চাল উৎপাদনের জন্য উঁচু ও মাঝারি উঁচু জমি উপযুক্ত। পুরোপুরি জৈব পদ্ধতিতে চাষ করা এই চালে নানা ওষধিগুণ রয়েছে। তেলিপাড়া গুয়াবাড়ি গ্রামের চাষি মুকুন্দ রায় বলেন, পুরোপুরি জৈব পদ্ধতিতে মণিপুর জাতের ব্ল্যাক রাইস চাষ করেছি। এই ধানের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক বেশি। চাষের খরচ খুবই কম। তিন বিঘা জমিতে এই ধান চাষ করে প্রতি বিঘায় ১২ মন করে ধান উৎপাদন করেছি। এই চাষে আপাতত প্রতি বিঘায় ১০ হাজার টাকারও বেশি লাভ থাকছে। অন্যান্য উচ্চফলনশীল ধান চাষে সাধারণত এতটা লাভ থাকে না। পাইকারি বাজারে এই চাল প্রতি কেজিতে ১০০ টাকা দরে বিক্রি করেছি। কৃষকরা জানান, সারাদেশের মধ্যে বেঙ্গালুরুতে এই চালের খুবই চাহিদা রয়েছে। বিদেশে রপ্তানি করলে আরও লাভ হতে পেরে অনুমান করে কলকাতার এক রপ্তানিকারক এই চাল সৌদি আরবে রপ্তানিতে উদ্যোগী হয়েছেন। মুকুন্দবাবু বলেন, আপাতত কলকাতা, দিল্লি, বেঙ্গালুরুতে এই চাল যাচ্ছে। বিদেশে রপ্তানির জন্য এখনও পর্যাপ্ত উৎপাদন শুরু হয়নি। তবে আমাদের গ্রামের অনেকেই উৎসাহিত হয়ে কমবেশি এই ধানের চাষ করেছিলেন। সম্ভাবনা বুঝে আমাদের এলাকার কৃষকরা আগামী বছর চাষের এলাকা বাড়াতে চান।

- Advertisement -