স্থানীয়দের সমস্যা খতিয়ে দেখতে পাহাড়ে ব্লক প্রশাসন

331

সমীর দাস, কালচিনি: দুর্গম বক্সা পাহাড়ের বাসিন্দাদের সমস্যা খতিয়ে দেখতে ও সেখানকার বাসিন্দাদের কাছে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প পৌঁছে দিতে বক্সা পাহাড়ে গেলেন কালচিনির নবনিযুক্ত বিডিও প্রশান্ত বর্মন। বৃহস্পতিবার বিডিওর সঙ্গে ব্লকের বিভিন্ন দপ্তরের নোডাল অফিসার সেখানে গিয়ে পাহাড়বাসীর সমস্যার তথ্য সংগ্রহ করেছেন।

বিডিও প্রশান্ত বর্মন জানিয়েছেন, ‘দুয়ারে দুয়ারে প্রশাসন’ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের কাছে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। এদিন বক্সা ফোর্ট এলাকায় শিবির করে সেখানে দুস্থদের হাতে শীতবস্ত্র তুলে দেন বিডিও। এছাড়াও ব্লক স্বাস্থ্য দপ্তরের চিকিৎসকরা সেখানে পৌঁছে বাসিন্দাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন। ব্লক প্রশাসনের এমন উদ্যোগে খুশি বক্সা পাহাড়ের বাসিন্দারা।

- Advertisement -

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে রাজ্যজুড়ে এই কর্মসূচি শুরু হচ্ছে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাধারণ মানুষের কাছে সহজেই বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রশাসনিক কর্তাদের কাছে। বিডিও জানান, বক্সা পাহাড় অত্যন্ত দুর্গম। সেখানকার বাসিন্দাদের যে কোনও শংসাপত্র পেতে এতদিন ব্লক সদর কালচিনিতে আসতে হত। এলাকাবাসীর জাতিগত শংসাপত্র থেকে শুরু করে রেসিডেনসিয়াল শংসাপত্র সংগ্ৰহের জন্য এখন থেকে তাঁদের ব্লক অফিসে যাতে আসতে না হয় সেজন্য এদিন এলাকাবাসীকে তাঁদের প্রয়োজন অনুসারে বিভিন্ন শংসাপত্র দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও জাতিগত শংসাপত্রের আবেদনপত্র সেখানে গিয়ে সংগ্ৰহের জন্য মাঝে মধ্যেই শিবির করা হবে। পাহাড়বাসীর যে কোনও সমস্যার দ্রুত সমাধানের জন্য সেখানকার সরকারি কর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিডিও। এককথায় ঘরে বসেই এখন থেকে সবরকম সরকারি প্রকল্পের সুবিধা এলাকাবাসী যাতে পান তার জন্য সবরকম পরিকল্পনা ব্লক প্রশাসনের তরফে নেওয়া হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, এতদিন ছোট কাজের জন্য তাঁদের ব্লক অফিসে ছুটতে হত। সকালে বাড়ি থেকে বের হলে কাজ শেষ করে মাঝে মধ্যে বাড়ি ফেরা সম্ভব হত না। ব্লক প্রশাসনের এমন ব্যবস্থায় তাঁরা উপকৃত হবেন বলে জানিয়েছেন সেখানকার ডুকপা জনজাতির মানুষ।
অন্যদিকে, রাজ্য সরকারের রূপশ্রী প্রকল্পের সঠিক বাস্তবায়ন হচ্ছে কিনা তা খতিয়ে দেখছেন বিডিও প্রশান্ত বর্মন। ব্লকের কোন বাসিন্দা এই প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন, এই প্রকল্পে কোনও কারচুপি হচ্ছে কিনা তা জানতে প্রায় দিন তালিকা দেখে বিয়ের আসরে গিয়ে তিনি সবকিছু খতিয়ে দেখছেন। বিডিওর সরকারি প্রকল্পের রূপায়নে এমন অভিনব পদ্ধতি দেখে অনেকেই তাঁর উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন। এই বিষয়ে বিডিও জানান, রাজ্য সরকার দুস্থ মেয়েদের বিয়ের খরচ বাবদ এককালীন ২৫ হাজার টাকা অনুদান দিচ্ছে। সেই টাকার যাতে কোনওভাবে অপব্যবহার না করা হয় তার জানতেই ওই প্রকল্প প্রাপকদের বাড়ি গিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এছাড়াও অন্য সরকারি প্রকল্প যাতে ব্লকবাসী সহজেই পান সেই চেষ্টা ব্লক প্রশাসনের তরফে করা হচ্ছে।