তৃণমূলের দলবদল অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পেলেন না ব্লক সভাপতি

463

হেমতাবাদ: হেমতাবাদের চৈনগর অঞ্চলে বিজেপির বড়সড় ভাঙ্গন ঘটালেন যুব তৃণমূলের জেলা সভাপতি গৌতম পাল। মঙ্গলবার চৈনগরে একটি দলবদল অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রায় হাজার খানেক বিজেপি সমর্থকের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দিলেন রাজ্যের মন্ত্রী গোলাম রব্বানী, জেলা সভাপতি কানাইয়া লাল আগরওয়ালা, হেমতাবাদ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি শেখর রায়, কর্মাধ্যক্ষ পম্পা পাল। যদিও এদিনের দলবদল অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পাননি জেলা পরিষদের সভাধিপতি কবিতা বর্মন, হেমতাবাদ ব্লক সভাপতি প্রফুল্ল বর্মন, তৃণমূলের জেলা সম্পাদক মৃত্যুঞ্জয় দত্ত সহ অন্যান্যরা। হেমতাবাদে দলবদল অনুষ্ঠানেও দেখা গেল গোষ্ঠীকোন্দল। হেমতাবাদ ব্লক তৃণমূল সভাপতি প্রফুল্ল বর্মনের দাবি, আজকের দলবদল অনুষ্ঠানে আমাকে এবং জেলা পরিষদের সভাধিপতি কবিতা বর্মন সহ অনেককেই জানানো হয়নি। না জানালে তো যেতে পারি না। জেলা সম্পাদক মৃত্যুঞ্জয় দত্ত জানান, আমাকেও আমন্ত্রিত করা হয়নি।

এদিন বিজেপির সাধারন সমর্থকেরা দলত্যাগ করে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন। নেতাদের অভিযোগ, বিজেপি যা বলেছিল কার্যক্ষেত্রে তার সম্পূর্ণ উল্টো। চৈনগর অঞ্চলের যে সমস্ত সংসদ তাদের দখলে সেখান থেকে টাকা নয়ছয়, স্বজনপোষণ থেকে শুরু করে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। সাধারণ মানুষ গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য ও নেতাদের উপর ক্ষিপ্ত। তাই কোনো বিজেপির গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য ও নেতাদের নেওয়া হয়নি বলে জানান, যুব তৃণমূল সভাপতি গৌতম পাল।

- Advertisement -

দলত্যাগীদের দাবি, বিজেপি নেতৃত্বকে বারবার জানিয়েও কোনও সুরাহা পাওয়া যায়নি। আর সে কারণেই মানুষের কাছে নিজেদের ভাবমূর্তি সঠিক রাখার জন্য তারাই বিজেপি পার্টি ছাড়া সিদ্ধান্ত নেন। পাশাপাশি তাদের এও বক্তব্য শুধু স্থানীয় সমস্যা নয়, লোকসভা এবং পঞ্চায়েত ভোটের আগে বিজেপির যা ঘোষণা ছিল রাজ্যস্তর এবং কেন্দ্রস্তরে বর্তমানে তার কোনটাই চোখে পড়ছে না। কমল বর্মন, চেতু বর্মন, কানাই রায়, গোপাল রায় সহ অনেকেই এদিন স্থানীয় বিজেপি গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্যদের ওপর ক্ষোভ উগরে দেন।

এদিন রাজ্যের মন্ত্রী গোলাম রব্বানী ও জেলা সভাপতি কানাইয়া লাল আগরওয়ালের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া না গেলেও হেমতাবাদ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি শেখর চন্দ্র রায় বলেন, আজকের অনুষ্ঠানে ব্লক সভাপতিকে দেখিনি, তেমনি গত মঙ্গলবার বাঙ্গালবাড়িতে দলের কর্মসূচিতে যুব সভাপতি গৌতম পালকে দেখা যায়নি।দু’জন আলাদা আলাদা কর্মসূচি নিচ্ছে,এরমধ্যে কোনো গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নেই। আজ ব্লক সভাপতিকে আমন্ত্রণ করেছে কিনা জানা নেই।

এ বিষয়ে বিজেপির জেলা সভাপতি বিশ্বজিৎ লাহিড়ী বলেন, আমাদের কোনো কার্যকর্তা এবং কর্মীসমর্থক তৃণমূলে যায়নি। যারা আগে তৃণমূল করত কিন্ত নানা কারণে বসে গিয়েছিল তাদের হাতে আবার ঝান্ডা তুলে দিল। এখন তৃণমূল থেকে দলে দলে বিজেপিতে আসছে মানুষ। যদিও স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, ১৫ টি বুথ থেকে প্রায় ২০০০ বিজেপি সমর্থক আজ তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন।