রক্তসংকটে কোচবিহার জেলা, পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা

53

শিবশংকর সূত্রধর, কোচবিহার : অক্সিজেনের পাশাপাশি কি এবার রক্তের চরম সংকট দেখা দেবে? এখন এই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে চিকিৎসকদের মাথায়। নির্বাচন ও করোনা পরিস্থিতিতে এমনিতেই গোটা জেলায় রক্তের সংকট চলছে। পয়লা মে-র পর থেকে ১৮-৪৫ বছরের সাধারণ মানুষদের টিকাকরণ শুরুর পর সেই সংকট চরম আকার নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছে স্বাস্থ্য দপ্তর। কারণ টিকা নেওয়ার পর ৩০ দিন পর্যন্ত রক্তদান করা যাবে না। ফলে রক্তদাতা না পেয়ে রক্তের হাহাকার দেখা দিতে পারে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে টিকা নেওয়ার অন্তত ২-৩ দিন আগে রক্তদান করার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। ইতিমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে প্রচার শুরু হয়েছে। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলিকেও সচেতন করা হচ্ছে।

এমজেএন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের এমএসভিপি ডাঃ রাজীব প্রসাদ বলেন, ভ্যাকসিন নেওয়ার পর ৩০ দিন পর্যন্ত কেউ রক্তদান করতে পারবেন না। ফলে একসঙ্গে প্রচুর মানুষ যখন ভ্যাকসিন নেবেন তখন রক্তদাতার অভাব দেখা দেবে। তাই সকলের উচিত ভ্যাকসিন নেওয়ার আগেই রক্তদান করা। আমাদের ব্লাড ব্যাংকে কয়েক হাজার ইউনিট রক্ত মজুত করে রাখার ব্যবস্থা রয়েছে। সকলে যদি এখনই সচেতন না হন তাহলে পরবর্তীতে রক্তের অভাব ভয়াবহ আকার নিতে পারে।

- Advertisement -

এমজেএন মেডিকেলের ব্লাড ব্যাংকে প্রতিদিনই ৩০-৪০ ইউনিট রক্ত সরবরাহ করা হয়। গোটা জেলায় ১০০-১২০ ইউনিট রক্তের প্রয়োজন হয়। কিন্তু বর্তমানে রক্তদান শিবিরের সংখ্যা একেবারেই কমে যাওয়ায় রক্তের সংকট চলছে। মঙ্গলবার সকালে এমজেএন মেডিকেলে এক ইউনিট রক্তও মজুত ছিল না। দিনহাটা মহকুমা হাসপাতালে ২ ও মাথাভাঙ্গা মহকুমা হাসপাতালে ১০ ইউনিট রক্ত ছিল, যা প্রয়োজনের তুলনায় অনেকটাই কম। ফলে রক্তের প্রয়োজনে রোগীর পরিজনদের রক্তদাতা জোগাড় করে নিয়ে আসতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে, যাঁরা রক্ত দিতে যাচ্ছেন তাঁরা সম্প্রতি করোনার ভ্যাকসিন নিয়েছেন। ফলে তাঁদের রক্ত নেওয়া হচ্ছে না। নিয়ম অনুযায়ী ভ্যাকসিন নেওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে তাঁরা রক্ত দিতে পারবেন না। ফলে হন্যে হয়ে অন্য রক্তদাতা খুঁজতে হচ্ছে রোগীর পরিজনদের। ইতিমধ্যেই চিকিৎসক, নার্স, সাফাইকর্মী, করোনা য়োদ্ধা, ভোটকর্মী, ষাটোর্ধ্বদের টিকা দেওয়া হয়েছে। তাই তাঁদের রক্ত নেওয়া হচ্ছে না।

কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশিকা অনুযায়ী, ১ মে থেকে ১৮-৪৫ বছর বয়স্ক প্রত্যেককেই করোনার ভ্যাকসিন দেওয়া হবে। এদিকে, রক্তদাতাদের মধ্যে এই বয়সের মানুষই সবচেয়ে বেশি রয়েছেন। তাই তাঁদের টিকাকরণ শুরু হলেই রক্তদাতার সংখ্যা একলাফে অনেকটাই কমে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। রাজ্যব্যাপী রক্তদান নিয়ে কাজ করা স্বেচ্ছেসেবী সংগঠন ব্লাডমেটস-র সদস্য সাগ্নিক চক্রবর্তী বলেন, ইতিমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে আমরা সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার চালাচ্ছি। ভ্যাকসিন নেওয়ার আগে সবাই যদি রক্তদান করেন, তাহলে রক্তের সংকট থাকবে না। প্রচারে সাড়া দিয়ে অনেকেই রক্তদান করছেন।