ব্লাড ব্যাংকের ভাঁড়ার শূন্য, চিন্তায় রায়গঞ্জ মেডিকেল কর্তৃপক্ষ

236
ফাইল ছবি

রায়গঞ্জ: করোনা আবহে রক্তের ভাঁড়ার কার্যত শূন্য রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজে। রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজের ব্লাড ব্যাংকে এক ইউনিটও রক্ত নেই। সেখানকার শনিবার সকালের পরিসংখ্যানের দিকে চোখ বোলালেই বিষয়টি স্পষ্ট হবে। ব্যাংকে ‘এ’ পজেটিভ, ‘বি’ পজেটিভ, ‘ও’ পজেটিভ, ‘ও’ নেগেটিভ, ‘এবি’ পজেটিভ, ‘এ’ নেগেটিভ, ‘বি’ নেগেটিভ ও ‘এবি’ নেগেটিভের এক ইউনিটও রক্ত নেই।

করোনা পরিস্থিতির কারণে জেলা একের পর এক রক্তদান শিবির বাতিল হয়ে যাওয়ায় যাবতীয় সমস্যার সূত্রপাত। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে গিয়েছে যে, বড় কোনও অঘটন ঘটে গেলে রক্ত সরবরাহ করা মুশকিল হয়ে উঠবে রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে। মেডিকেল কলেজ সূত্রে জানা গিয়েছে, যেখানে ব্লাড ব্যাংকে দেড় হাজার ইউনিট রক্ত থাকার পরিকাঠামো রয়েছে, সেখানে বর্তমানে এক ইউনিটও রক্ত নেই।

- Advertisement -

একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা রক্তদান শিবিরের আয়োজন করলেও মাত্র ২০ ইউনিট রক্ত জোগাড় হয়েছে। যদিও খবর লেখা পর্যন্ত ব্লাড ব্যাংকে রক্ত ঢোকেনি। এহেন সংকট কাটাতে আগামী কয়েকদিনের মধ্যে বিভিন্ন সংগঠন, স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা, ক্লাবগুলির কাছে রক্তদান শিবিরের আয়োজন করার অনুরোধ করেছে মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ।

রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজের নোডাল অফিসার বিপ্লব হালদার বলেন, রক্ত যে পরিমাণ মজুত থাকার কথা, তা নেই। তবে দিন ২০ ইউনিট রক্ত একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার মাধ্যমে ব্লাড ব্যাংকে আসার কথা রয়েছে। তবে একাধিক রক্তদান শিবির না হলে পরিস্থিতি ক্রমশ ঘোরালো হয়ে উঠবে। রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওপর বেসরকারি নার্সিংহোম ছাড়াও উত্তর দিনাজপুর জেলার কয়েকটি হাসপাতাল নির্ভর করে থাকে।

বর্তমানে এক ইউনিটও রক্ত না থাকা যে রীতিমতো উদ্বেগের, তা স্বীকার করে নিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। রক্তের এই বোর্ড দেখেই এদিন রীতিমত আতঙ্কিত রোগী ও রোগীর পরিজনেরা। অপারেশন টেবিলে তোলার আগে চিকিৎসকের নির্দেশমতো রক্ত জোগাড় করতে গিয়ে কালঘাম ছুটছে রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজের ভর্তি থাকা রোগীর পরিজনদের।

তাঁদের অভিযোগ, রক্ত জোগাড় না হওয়ায় অপারেশন না করে ফেলে রাখা হচ্ছে রোগীকে। মুমূর্ষ রোগীর জন্য রক্ত জোগাড় করতে শহরের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে ছুটে বেড়াতে হচ্ছে পরিবারের সদস্যদের। রায়গঞ্জের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার কর্ণধার কৌশিক ভট্টাচার্য বলেন, গতকাল একটি রক্তদান শিবির হয়েছে। ২০ পাউচ রক্ত সংগ্রহ করা হয়েছে। রক্ত সংকট মেটানোর জন্য পরবর্তীতে একাধিক শিবির করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সহকারী অধ্যক্ষ প্রিয়ঙ্কর রায় বলেন, করোনা আবহে রক্তের সংকট চলছে। বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা আমাদের সাহায্যের জন্য এগিয়ে এসেছে। অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাকে রক্তদান শিবির করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।