রায়গঞ্জ মেডিকেলে রক্তসংকট, ব্যাপক দুর্ভোগে মুমূর্ষু রোগীরা

267

রায়গঞ্জ: করোনার আতঙ্ক রক্তদাতাদের মধ্যেও। যার ফলে লকডাউনে রক্তদান শিবির কমে যাওয়ায় রক্তের হাহাকার দেখা গিয়েছে রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। গত কয়েকদিন ধরে রায়গঞ্জ হাসপাতালের ব্লাড ব্যাংক কার্যত শূন্য। এদিন ‘এ’ পজিটিভ ০ ইউনিট, ‘ও’ পজিটিভ ০ ইউনিট, ‘এবি’ পজিটিভ ০ ইউনিট, ‘এ’ নেগেটিভ ০ ইউনিট, ‘বি’ নেগেটিভ ০ ইউনিট, ‘ও’ নেগেটিভ ০ ইউনিট, ‘এবি’ নেগেটিভ ১ ইউনিট রক্তে রয়েছে। মুমূর্ষ রোগীরাও রক্ত পাচ্ছেন না। হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীদের রক্ত দেওয়ার প্রয়োজন হলেও তা মিলছে না বলে অভিযোগ।

লকডাউনে কমে গিয়েছে রক্তদান শিবির। বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা বা রাজনৈতিক দলগুলির যুব সংগঠন রক্তদান শিবির আয়োজনে আর আগের মত উদ্যোগী নয়। কিছু স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা শিবির আয়োজনে উদ্যোগী হলেও রক্তদাতার সংখ্যা খুবই কম হচ্ছে। রায়গঞ্জের এমনই এক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার কর্ণধার কৌশিক ভট্টাচার্য্য বলেন, রক্তদাতাদের মধ্যে করোনার আতঙ্ক তাড়া করে বেড়াচ্ছে। রক্ত দিলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন অনেকে। তাছাড়া ভিড়ের মধ্যে আসতে চাইছেন না কেউ কেউ। ফলে রক্তদান শিবির আয়োজন করলেও রক্ত দিতে নামমাত্র কয়েকজন আসছেন। সামান্য জ্বর-সর্দি হলেও কেউ আর রক্তদানে আগ্রহী হচ্ছেন না।

- Advertisement -

রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শুধুমাত্র উত্তর দিনাজপুর জেলা নয়, প্রতিবেশী রাজ্য বিহার থেকেও রোগী আসেন। গুরুত্বপূর্ণ এই হাসপাতালে রক্তের প্রচুর চাহিদা। মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধ্যক্ষ ডাঃ দিলীপ পাল বলেন, আগে গোটা মাসে ৫০-৬০টি রক্তদান শিবির হত। রক্তদাতার সংখ্যাও বেশি থাকত। লকডাউনে শিবিরের সংখ্যা অনেকটাই কমে গিয়েছে। রক্তদাতার সংখ্যাও কম। ফলে ব্লাড ব্যাংকে সংকট দেখা দিয়েছে। হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীদেরই রক্ত দেওয়া যাচ্ছে না। বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাকে রক্তদান শিবির করার আবেদন করা হয়েছে। হাসপাতালেও প্রতিদিন ৫-৭ জন এসে রক্ত দিতে পারবেন, সেই পরিকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, রক্তের যে পরিমাণ চাহিদা, সেই তুলনায় যোগান নেই। ফলে অনেক সময় থ্যালাসেমিয়া রোগীদেরও ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ব্লাড ব্যাংকের এক কর্তা বলেন, রক্তদাতাদের মধ্যে সচেতনতামূলক প্রচার চালাতে হবে। করোনার আতঙ্ক যাতে না থাকে, তার জন্য সাহস যোগাতে হবে রক্তদাতাদের। এদিকে, রক্তের এই সংকটকালে হাসপাতালে ব্লাড সেপারেশন ইউনিট দ্রুত চালুর দাবি উঠেছে। লকডাউনের আগেই ব্লাড সেপারেশন ইউনিটের জন্য মেশিনপত্র চলে এসেছে। কিন্তু অদৃশ্য কারণে এখনও তা চালু হয়নি।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্লাড সেপারেশন ইউনিটে এক ইউনিট ব্লাড থেকে একাধিক রোগী উপকৃত হতে পারেন। সেপারেশন ইউনিটে রক্তের প্লাজমা, আরবিসি ও প্লেটলেট আলাদা করা যায়। এক ইউনিট ব্লাড থেকেই তিনজন রোগীকে বাঁচানো সম্ভব।