জেলার তিনটি বড় হাসপাতালেই রক্তের তীব্র সংকট

324

আলিপুরদুয়ার : উৎসবের মরশুম শেষ হতেই আলিপুরদুয়ার জেলার তিনটি বড় হাসপাতালে রক্তের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতাল, ফালাকাটা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল এবং বীরপাড়া স্টেট জেলারেল হাসপাতালে ব্লাড ব্যাংক রয়েছে। এই তিনটি হাসপাতালের ব্লাড ব্যাংকেই পজিটিভ ও নেগেটিভ গ্রুপের রক্তের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। সোমবার পর্যন্ত ব্লাড ব্যাংকে রক্ত সংরক্ষণের তালিকা অনুযায়ী সবচেয়ে করুণ অবস্থা ফালাকাটা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের ব্লাড ব্যাংকের।এ ই ব্লাড ব্যাংকে ও পজিটিভ রক্ত আছে মাত্র ১২ ইউনিট। বীরপাড়া স্টেট জেনারেল হাসপাতালে ও পজিটিভ রক্ত আছে ১৩ ইউনিট। অন্য গ্রুপের রক্ত নেই বললেই চলে। জেলা হাসপাতালের ব্লাড ব্যাংকের অবস্থাও তেমন একটা ভালো নয়। জেলার সরকারি হাসপাতালগুলিতে রক্ত সংকট দেখা দেওয়ায় সমস্যায় পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
আলিপুরদুয়ার জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতাল, বীরপাড়া স্টেট জেনারেল হাসপাতাল এবং ফালাকাটা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ব্লাড ব্যাংক আছে। এর মধ্যে আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতালের ব্লাড ব্যাংকের উপর কয়েক হাজার বাসিন্দা নির্ভরশীল। এই হাসপাতালে ভরতি থাকা প্রায় ৪৫০-৫০০ রোগীর জরুরি ভিত্তিতে রক্তের দরকার হলে সাধারণ মানুষ ব্লাড ব্যাংকের উপর নির্ভর করে থাকেন। আপৎকালীনের পাশাপাশি প্রয়োজনে ভরতি থাকা রোগীরাও ব্লাড ব্যাংকের সুবিধা নিয়ে থাকেন। জেলা হাসপাতালের জন্য বছরে প্রায় ১৩ হাজার রক্তের প্যাকেট প্রয়োজন হয়। কিন্তু প্রায় ১২ হাজার প্যাকেট সংগ্রহ করা গেলেও হাজার প্যাকেট ঘাটতি থেকেই যায়। এই অবস্থায় ভরতি থাকা রোগীদের অনেক সময় হাসপাতালের কর্মীরাই রক্ত দিতে এগিয়ে আসেন। সম্প্রতি হাসপাতালে এই রক্ত সংকটের সময়ে এক মুমূর্ষু রোগীকে ব্লাড ব্যাংকেরি একজন স্টাফ রক্ত দিয়ে সাহায্য করেন।জেলা হাসপাতাল সহ অন্য দুটি হাসপাতালে যে রক্ত সংকট দেখা দিয়েছে তা দুর্গাপুজার সময় থেকেই শুরু হয়েছে।
রক্ত নিয়ে কাজ করা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্য অরিন্দম বিশ্বাস বলেন, উৎসবের মরশুমে সবাই ব্যস্ত থাকেন। তাই কেউ আর রক্তদান শিবিরের আয়োজন করে না। প্রায় আড়াই মাস উৎসবে সাধারণ মানুষ শামিল থাকার জন্যই এ সময় জেলাজুড়ে রক্ত সংকট দেখা দেয়। তবে এই রক্ত সংকট দূর করতে দ্রুত আমরা রক্তদান শিবিরের আয়োজন করব।
জেলা হাসপাতালে ভর্তি থাকা এক প্রসূতির আত্মীয় দেবকান্ত রায় বলেন,  ‘ভাইয়ের স্ত্রী প্রসব যন্ত্রনা নিয়ে জেলা হাসপাতালে ভরতি। তার সিজার করতে হবে। ডাক্তাররা জানিয়েছিলেন এবি নেগেটিভ গ্রুপের রক্ত জোগাড় করে রাখতে। কিন্তু জেলা হাসপাতালের ব্লাড ব্যাংকে গিয়ে দেখি ওই রক্ত নেই। মহা বিপদে পড়ে যাই। শেষে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্য এগিয়ে এসে রক্তদান করেছেন। জেলা হাসপাতালে রক্ত সংকট দূর করতে স্বাস্থ্য দপ্তরের উদ্যোগ নেওয়া দরকার।’
সোমবার পর্যন্ত আলিপুরদুয়ার জেলার তিনটি হাসপাতালের ব্লাড ব্যাংকের ডিসপ্লে বোর্ড থেকে মজুত রক্তের ইউনিটঃ
গ্রুপ            আলিপুরদুয়ার      ফালাকাটা      বীরপাড়া
এ পজিটিভ          ১১                ০০            ০০
এ নেগেটিভ         ০১                ০০             ০০
বি পজিটিভ         ১৮               ০০             ০৩
বি নেগেটিভ        ০১                ০০             ০০
এবি পজিটিভ       ০৭                ০২             ০১
এবি নেগেটিভ      ০০                ০০             ০০
ও পজিটিভ         ৬২                ০২             ১৩
ও নেগেটিভ        ০০                ০০              ০০
আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতালের সুপার চিন্ময় বর্মন বলেন, ‘উৎসবের মরশুমে প্রতি বছরই ব্লাড ব্যাংকে রক্ত সংকট দেখা দেয়। এই সময় বিভিন্ন ক্লাব,সংগঠন এমনকি রাজনৈতিক দলগুলিও উৎসবে ব্যস্ত থাকে। সারা বছর এরাই মূলত ব্লাড ব্যাংকে রক্তের জোগান দেয়। তবে আমাদের পক্ষ থেকে সারা বছরই রক্তদান শিবির আয়োজন করার জন্য উৎসাহ দেওয়া হয়। এমনকি রক্তের সংকট মেটাতে হাসপাতালের ডাক্তাররাও রক্তদান করেন।দ্রুত যাতে হাসপাতালের ব্লাড ব্যাংকের রক্তের সংকট মেটানো যায় তার জন্য রক্তদান শিবিরের উপর জোড় দিতে বিভিন্ন সংগঠন ও রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে বৈঠক করা হবে।’
জেলার তিনটি বড় হাসপাতালে রক্ত সংকটের বিষয়ে জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের ব্লাড সেফটি’র নোডাল অফিসার তথা ডেপুটি সিএমওএইচ –২ সুবর্ণ গোস্বামী বলেন, ‘উৎসবের এই সময় প্রতিবারই ব্লাড ব্যাংকগুলিতে রক্ত সংকট দেখা দেয়। সমস্যা দূর করতে জেলা হাসপাতালের ব্লাড ব্যাংকের ভবনটিতেই ব্লাড কম্পোনেট সেপারেশন ইউনিট চালু করার শেষ প্রস্তুতি চলছে। এর জন্য কিছু যন্ত্রপাতিও কেনা হয়েছে।এই ইউনিট চালু হয়ে গেলে রোগ বিশেষে রোগীকে রক্ত দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় রক্তের উপাদান যেমন– প্লেটলেট, সিরাম, প্রোটিন, হিমোগ্লোবিন পৃথকভাবে একাধিক রোগীকে দেওয়া যাবে। তখন একটি গ্রুপের এক ইউনিট রক্ত থেকে একাধিক রোগীকে প্রয়োজন বুঝে রক্তের উপাদান দেওয়া যাবে।’

ছবি- আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতাল।

- Advertisement -

তথ্য ভাস্কর শর্মা

ছবি- আয়ুস্মান চক্রবর্তী