লকডাউনে মিলছে না রক্ত, সমস্যায় থ্যালাসেমিয়ার রোগীরা

378

বিশ্বজিৎ সরকার, রায়গঞ্জঃ করোনার জেরে বিপর্যস্ত জনজীবন। লকডাউনে বন্ধ যাতায়াত। তার ওপর রক্তসংকটের জেরে থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত রোগীরা চরম বিপাকে পড়েছেন। বৃহস্পতিবার ছিল বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবস। এদিনও থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত শিশুদের জন্য রক্ত মেলেনি। রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজের ব্লাড ব্যাংকে রক্ত নেই। থ্যালাসেমিয়া সহ রক্তাল্পতায় আক্রান্ত রোগীরা চরম বিপর্যস্ত। রক্তের জন্য গত দুদিন ধরে হন্যে হয়ে হাসপাতালে দরজায় দরজায় ঘুরেও রক্ত মিলছে না। রক্ত না পেলে শিশুকেও রক্ত দেওয়া যাচ্ছে না।

কালিয়াগঞ্জের বাসিন্দা সঞ্জয় বিশ্বাস বলেন, ‘কি করবো কিছুই বুঝে উঠতে পারছিনা। আমার বোন থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত। বি পজিটিভ রক্ত লাগবে। ব্লাড ব্যাংকের তরফ থেকে রক্ত নেই বলে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাই বাধ্য হয়ে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে একজন সদস্য বি পজিটিভ রক্ত এদিন ব্লাড ব্যাংকে দেওয়া হয়েছে। সেই রক্তই কিছুক্ষণ বাদে আমাদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।’ হেমতাবাদের বাসিন্দা পেশায় সংবাদপত্র বিক্রেতা রেজাউল হক বলেন, ‘আমার ৮ বছরের মেয়ে থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত। ও পজেটিভ রক্ত একান্তই জরুরী। ব্লাড ব্যাংকে এসে দেখি রক্ত নেই। তাই বাধ্য হয়ে পরিবার-পরিজনদের ফোন করে হাসপাতালে ডেকে আনি। ব্লাড ব্যাংক কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, ‘এক ইউনিট রক্তও মজুত নেই। সেই কারণে রোগীর পরিবার পরিজনদের রক্ত দেওয়া ছাড়া আর কোনও রাস্তা খোলা নেই।’ পরিবারের কাউকেই সঙ্গে আনতে পেরে সমস্যায় পড়েন আরও অনেকে।  বাধ্য হয়ে শিশুকে বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে জেতে হয়েছে তাঁদের।

- Advertisement -

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সূত্রে সাফ জানানো হয়েছে, ‘স্বেচ্ছায় রক্তদান করলে তবে রক্ত মিলবে। তাছাড়া আর অন্য কোনও উপায় নেই।’ এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সহকারী অধ্যক্ষ প্রিয়ঙ্কর রায় বলেন, ‘লকডাউনে কেউ রক্তদান শিবির করছে না। যেটুকু রক্ত ছিল সেটাও শেষের পথে। লকডাউনের মাঝে থ্যালাসেমিয়া দিবসে রক্তশূন্য হয়ে কাটাতে হচ্ছে থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের। বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাকে রক্তদান শিবির করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার কর্ণধার কৌশিক ভট্টাচার্য বলেন, ‘হাসপাতলে ছোটখাটো রক্তদান শিবির করছি তবে তা যথেষ্ট নয়। সবাই এগিয়ে আসলে রক্তসংকট কাটানো যাবে।’