রক্তের কালোবাজারি চলছে ইসলামপুর শহরের একাধিক নার্সিংহোমে

243

অরুণ ঝা, ইসলামপুর : ইসলামপুর শহরের একাধিক নার্সিংহোমে চলছে রক্তের কালা কারবার। নজিরবিহীনভাবে এই কারবার রমরমিয়ে চললেও উত্তর দিনাজপুর জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর স্পষ্টতই নিজেদের দায় এড়িয়েছে। কিন্তু উত্তরবঙ্গ সংবাদের স্টিংয়ে এই চক্র নিয়ে ওয়াকিবহালদের বক্তব্য, সারা বছরে রক্ত বেচাকেনা নিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকার কারবার চলছে। বিশেষ করে ইসলামপুর শহরের এক রাজনৈতিক নেতার নার্সিংহোমেও এই কারবার চলার অভিযোগ স্টিংয়ে উঠেছে। গোটা ঘটনায় ইন্ডিয়ান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। উত্তর দিনাজপুর জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ কার্তিকচন্দ্র মণ্ডল প্রথমে সাফ জানান, এই নিয়ে তাঁদের কিছু করার নেই। পরে প্রশ্নের মুখে পড়ে তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন। অন্যদিকে ইসলামপুর পুরসভার প্রশাসক কানাইয়ালাল আগরওয়াল অভিযুক্ত নার্সিংহোমগুলির প্রয়োজনে ট্রেড লাইসেন্স বাতিল করার  হুমকি দিয়েছেন। একটা সময় ছিল যখন ইসলামপুর মহকুমা হাসপাতালে রক্ত কেনাবেচার বিস্তর অভিযোগ উঠত। কিন্তু বর্তমানে ইসলামপুর হাসপাতালে রক্তের দালালদের কার্যত কোমর ভেঙে গিয়েছে। কিন্তু এই সুযোগে শহরের একাধিক নার্সিংহোমে চলছে রক্তের কালা কারবার। এক ইউনিট রক্তের দাম ৩০০০ টাকা থেকে শুরু করে ৬০০০ টাকা পর্যন্ত। নার্সিংহোমগুলির একাংশ রোগীর পরিজনদের কাছ থেকে নিচ্ছে বলে অন্তর্তদন্তে জানা গিয়েছে। এই কারবারের জড়িত নার্সিংহোমগুলির কাছে রক্ত খরিদ-বিক্রি চক্রের পান্ডাদের ফোন নম্বর রয়েছে। রক্তের প্রয়োজন হলেই তাদের কাছে সরাসরি ফোন চলে যায়। সেই পান্ডারাই পরিস্থিতি অনুসারে নার্সিংহোমগুলিতে রক্ত দেওয়ার লোক পাঠায়। ২০০০ থেকে ২৫০০ টাকা পর্যন্ত রক্ত বিক্রেতাদের দেওয়া হয়। পান্ডাদের কমিশন আলাদা। সেই রক্ত আবার রোগীর পরিজনদের কাছে সুযোগ বুঝে চড়া দামে বিক্রি করা হয়।

আরও জানা গিয়েছে, রক্তের কেনাবেচা এই চক্রের একটি দিক। কিন্তু সব চাইতে বিপজ্জনক দিক হল, যে নার্সিংহোমগুলি এই কারবারে যুক্ত তাদের রক্ত নেওয়ার বৈধ অনুমতি নেই। একজন রোগীকে রক্ত দিতে গেলে যে সমস্ত বৈধ পরীক্ষার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়, তার কোনও বালাই থাকে না। স্টিংয়ে জানা গিয়েছে, শুধুমাত্র ক্রশ ম্যাচ এবং গ্রুপ দেখে নিয়ে রক্ত দেওয়া হচ্ছে। এইচআইভি, হেপাটাইটিস সহ অন্য রোগ রক্তদাতার রয়েছে কিনা তার ধারপাশ দিয়ে যাওয়া হয় না বলে অভিযোগ, যা অত্যন্ত বিপজ্জনক। ইন্ডিয়ান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের ইসলামপুর জোনের সম্পাদক ডাঃ সায়ন্তন কুণ্ডু বলেন, সঠিক পরীক্ষা ছাড়া রোগীকে রক্ত দেওয়া অবশ্যই বিপজ্জনক। ফলে নার্সিংহোমগুলির এই মর্মে বৈধ নির্দেশিকা মেনেই কাজ করা উচিত। প্রয়োজনে আমরা সাংগঠনিকস্তরেও বিষয়টি নিয়ে পদক্ষেপ নেব।

- Advertisement -

জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক এই মর্মে প্রথমে সাফ জানিয়ে দেন এই বিষয়ে আমার কিছু করার নেই। তাহলে কি স্বাস্থ্য দপ্তর কোনও পদক্ষেপ করবে না? এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। উল্লেখ্য, নার্সিংহোমগুলির লাইসেন্সিং অথরিটি জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর। অভিযোগ, সারা বছর স্বাস্থ্য দপ্তরের নজরদারির অভাবেই নার্সিংহোমগুলির একাংশ রক্ত থেকে শুরু করে চিকিৎসা পরিষেবা সংক্রান্ত বিভিন্ন অনিয়ম করে থাকে। এই কারবার নিয়ে পুর প্রশাসক কানাইয়ালাল আগরওয়াল বলেন, নার্সিংহোমগুলিতে এমনটা ঘটলে তা কাম্য নয়। বিষয়টি আমরাও খতিয়ে দেখছি। প্রয়োজনে অভিযুক্ত নার্সিংহোমের ট্রেড লাইসেন্স বাতিল করে দেওয়া হবে।