বিপ্লব দাস, মাদারিহাট : তিনবছর পেরিয়ে গেলেও আশামতো পর্যটকরা আসেননি টোটোপাড়ার বিভিন্ন ব্লু হোমস্টেতে। ফলে রাজ্য সরকারের সহায়তায় তৈরি ব্লু হোমস্টে প্রকল্প কার্যত মুখ থুবড়ে পড়েছে এখানে। ডিসেম্বরে পর্যটনের ভরা  মরশুমেও টোটোপাড়ায় সেভাবে পর্যটকের দেখা নেই। ফলে টোটোপাড়ার হোমস্টে মালিকরা হতাশ। আলিপুরদুয়ার জেলার মাদারিহাট-বীরপাড়া ব্লকের প্রত্যন্ত এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরা ভুটান সীমান্তের টোটোপাড়া। পৃথিবীর অন্যতম আদিম উপজাতি টোটো সম্প্রদায়ে বসবাস এখানে। সরকারি হিসাবে তাঁদের সংখ্যা ১৫৮৫। পর্যটনের বিপুল সম্ভাবনা থাকলেও টোটোপাড়ায় পর্যটনের পরিকাঠামো সেভাবে গড়ে ওঠেনি। এমনকি এখানে যাতায়াতের রাস্তার অবস্থাও ভয়াবহ। যার ফলে পর্যটকরাও এখানে আসার বা রাত কাটানোর আগ্রহ দেখান না। ফলে হতাশ টোটো সম্প্রদায়।

পুজোর সময় থেকেই ডুয়ার্সে পর্যটনের মরশুম শুরু হয়। পুরো শীতকাল দক্ষিণবঙ্গ তো বটেই, ভিনরাজ্য, ভিনদেশ থেকেও পর্যটকরা আসেন এখানে। ডুয়ার্সের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে চার-পাঁচ মাস ধরে ভিড় করেন পর্যটকরা। কিন্তু পর্যটনের ভরা মরশুমেও টোটোপাড়া পর্যটকশূন্য। হোমস্টে মালিক ভবেশ টোটো বলেন, মাদারিহাট থেকে পর্যটকরা এসে দিনে ঘুরে চলে যান। বিভিন্ন কারণে তাঁরা এখানে রাত কাটাতে চাইছেন না। ফলে হোমস্টেগুলি আশানুরূপ সাফল্য পায়নি। অপর এক হোমস্টে মালিক বুদ্ধিমান টোটো বলেন, এখন প্রায় ১৫টি হোমস্টে রয়েছে। কিন্তু একজনও পর্যটক নেই রাত কাটানোর জন্য।

ব্লু হোমস্টে মালিকদের কাছে জানা য়ায়, প্রায় তিনবছর আগে টোটোপাড়ায় সাতজন ব্লু হোমস্টে তৈরি করেছিলেন। বর্তমানে সংখ্যাটা অন্তত ১৫।  অনগ্রসর শ্রেণিকল্যাণ দপ্তর থেকে বলা হয়েছিল, রাজ্য সরকারের তরফ থেকে এগুলির প্রচার করা হবে এবং বুকিং হবে। আশায় বুক বেঁধেছিলেন টোটোবাসী কিন্তু বাস্তবে সেভাবে কিছুই হয়নি। টোটোপাড়া থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরেই জলদাপাড়া। সারাবছর সেখানে পর্যটক এলেও টোটোপাড়ায় কেউ আসতে চান না। এর কারণ সম্পর্কে এলাকার বাসিন্দারা বলেন, যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না থাকার জন্যেই টোটোপাড়া থেকে মুখ ফেরাচ্ছেন পর্যটকরা। টোটোপাড়ায় আসতে হলে তিতি, হাউড়ি, বাংরির মতো নদী পেরিয়ে আসতে হয়। বর্ষায় এই নদীগুলি ভয়ংকর হয়ে ওঠে। টোটোপাড়ায় যাতায়াতের মূল রাস্তা প্রতি বছরই এগুলির জলে ভেঙে য়ায়। অপরদিকে, মাদারিহাটের পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়ীরা নিজেদের স্বার্থে পর্যটকদের ভুল বুঝিয়ে মাদারিহাটে থাকতে বাধ্য করছেন বলে তাঁদের দাবি। তাঁরা টোটোপাড়ায় পর্যটনকেন্দ্র তৈরি করার দাবি জানিয়েছেন।

অনগ্রসর সম্প্রদায় কল্যাণ বিভাগের জেলা আধিকারিক নির্মাল্য ঘরামি বলেন, আমরা শুধু হোমস্টে বানিয়ে দিয়েছি। এখন তাঁদের নিজেদের উদ্যোগে একটু স্বাবলম্বী হওয়ার চেষ্টা করতে হবে। প্রয়োজনে তাঁরা পর্যটন দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করতে পারেন। পর্যটন দপ্তরের জেলা আধিকারিক কমলিকা মুখোপাধ্যায় বলেন, হোমস্টেগুলি টোটোদের স্বনির্ভর করার উদ্দেশ্যেই করা হয়েছিল। ব্যবসার বিষয়টি মালিকদের দেখতে হবে। অলিপুরদুয়ারে ব্লু হোমস্টে বিষয়টি নতুন। প্রচার পেতে তাই একটু সময় লাগবে। বর্তমানে রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে হোমস্টে করে সাইট তৈরি সহ অন্যান্য কাজকর্ম প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।