ভাস্কর শর্মা, আলিপুরদুয়ার : নিরিবিলি জায়গায় প্রকৃতির শোভা উপভোগ করার জন্য আলিপুরদুয়ার জেলাজুড়ে ব্লু হোমস্টে গড়া হয়েছে। সেখানে আয়োজনের কোনো খামতি নেই। ঝাঁ চকচকে থাকার ঘর, বাথরুম, স্নানাগার, এলাহি খাবারের ব্যবস্থা রয়েছে। পাশাপাশি সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত পর্যটকদের মনোরঞ্জনের জন্য স্থানীয় সংস্কৃতিকে তুলে ধরা হয়।

কিন্তু এতসব থাকা সত্ত্বেও প্রচার পাচ্ছে না জেলার বেশিরভাগ ব্লু হোমস্টে। তাই ভরা পর্যটনের মরশুমেও ফাঁকাই থাকছে বেশিরভাগ ব্লু হোমস্টে। সরকারি সাহায্যের পাশাপাশি নিজেদের গাঁটের টাকা খরচ করে ব্লু হোমস্টের ভোল পালটে দিলেও পর্যটক টানতে পারছেন না বনবস্তির বাসিন্দারা। হোমস্টের মালিকরা অভিযোগ তুলেছেন, প্রচারের বিষয়ে পর্যটন দপ্তর তেমন সহযোগিতা করছে না। তাই তাঁরা দাবি জানিয়েছেন, পর্যটন দপ্তরের তরফে ব্লু হোমস্টেগুলির প্রচারের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি তার মান উন্নয়নে নজর দিক সরকার। তাহলে বনবস্তিবাসীরা আর্থিকভাবে ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন।

- Advertisement -

আলিপুরদুয়ার জেলা অনগ্রসর শ্রেণিকল্যাণ দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, জেলার বনবস্তির বাসিন্দাদের আর্থিকভাবে স্বনির্ভর করতে ২০১৭ সালে প্রথম দফায় ১২টি হোমস্টে তৈরি করে দেওয়া হয়। ২০১৮ সালে মার্চ মাসের মধ্যে দ্বিতীয় দফায় আরও ৫৪টি ব্লু হোমস্টে তৈরি করে দেয় বিসিডব্লিউ দপ্তর। দুই দফায় এই ৬৬টি ব্লু হোমস্টে তৈরি করতে প্রায় ১ কোটি ৫৬ লক্ষ টাকা খরচ হয়। জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান, বক্সার জঙ্গল, মাদারিহাট, কুমারগ্রাম, কালচিনি সহ ফালাকাটার ছোটশালকুমার, রায়মাটাং, তুরতুরি, নিউল্যান্ডস প্রভৃতি জায়গায় ব্লু হোমস্টেগুলি তৈরি করে দিয়েছে অনগ্রসর শ্রেণিকল্যাণ দপ্তর। তবে সরকারি সাহায্য ছাড়াও বনবস্তির অনেক বাসিন্দাই ব্লু হোমস্টের ভোল পালটাতে প্রচুর টাকা খরচ করেছেন। কিন্তু সরকারি সাহায্যের য়ে আশা নিয়ে বনবস্তিবাসীরা এই হোমস্টে চালু করেছিলেন, আজ সেগুলির তেমন প্রচার না হওয়ায় তাঁরা এখন হতাশ।

রাজাভাতখাওয়া এলাকার একটি ব্লু হোমস্টের মালিক লাল সিং ভুজেল বলেন, সরকারি সাহায্যে অনেক আশা নিয়ে পাঁচটি ব্লু হোমস্টে বানিয়েছি। হোমস্টেগুলি বানানোর সময় পর্যটন দপ্তর বিভিন্ন ধরনের সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছিল। কিন্তু এখন পর্যটনের ভরা মরশুম শুরু হলেও আমাদের হোমস্টেগুলিতে পর্যটক নেই। প্রচারের অভাবে এবার বেশিরভাগ ব্লু হোমস্টেই পর্যটকশূন্য থাকছে। আলিপুরদুয়ার জেলা টুরিজম অ্যাসোসিয়েশনের জেলা কোঅর্ডিনেটর তমাল গোস্বামী বলেন, ব্লু হোমস্টেগুলিতে পর্যটক টানতে আমাদের সংগঠনের থেকে সাহায্য করা হয়। হোমস্টের মালিকদের এর জন্য আমাদের সংগঠনে রেজিস্ট্রেশন করাতে অনুরোধও করা হয়েছে। পাশাপাশি ডুয়ার্সকন্যায় টুরিজম ডেস্ক থেকেও সরাসরি পর্যটকরা এসে ব্লু হোমস্টের সন্ধান পেতে পারেন।

পর‌্যটন দপ্তরের আলিপুরদুয়ার জেলা আধিকারিক কমলিকা মুখোপাধ্যায় বলেন, ব্লু হোমস্টেগুলির প্রচারের বিষয়ে মালিকদেরই উদ্যোগী হতে হলেও এবার দপ্তরের তরফে কিছু সাহায্য করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাই জেলার প্রতিটি ব্লু হোমস্টেকে লাইসেন্স দিতে একটি সার্ভেও করা হয়েছে। কালীপুজোর পরেই তাদের লাইসেন্স দেওয়া শুরু হবে।