গ্রাম থেকে অন্য জায়গায় যেতে নৌকাই ভরসা কুটিশাকদলের

330

কৌশিক সরকার  দিনহাটা : স্বাধীনতার পর পেরিয়ে গিয় সাত দশক। কিন্তু সাহেবগঞ্জ গ্রাম পঞ্চায়র কুটিশাকদল গ্রামের বাসিন্দাদের ভোগান্তি আজও মেটেনি। গ্রামের যোগাযোগের মূল ভরসা নৌকা। ফলে গ্রাম ছেড়ে বেরোতে গেলেই চাই পারাপারের কড়িও। সেকেলে এই যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে তাই সাহেবগঞ্জ গ্রাম পঞ্চায়েতের কুটিশাকদল গ্রামের বাসিন্দাদের ভোগান্তির শেষ নেই। অভিযোগ, গ্রামের এই  ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ছেলেমেয়েদের বিয়ে দেওয়া নিয়ে এলাকাবাসীদের সমস্যায় পড়তে হয়। কারণ যোগাযোগের এমন হাল দেখে শেষপর্যন্ত অনেকেই ছেলেমেয়েদের এই গ্রামে বিয়ে দিতে রাজি হন না। যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে বাসিন্দাদের ভোগান্তির বিষয়টি মেনে নিয়েছেন প্রশাসনের কর্তারাও। দিনহাটা-২ পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি অতুলচন্দ্র সরকার বলেন, ওই গ্রামের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য একটা সেতু তৈরির বিষয়ে এর আগেও জেলা পরিষদ থেকে শুরু করে উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।

নয়ারছড়া বিল দিয়ে ঘেরা এই কুটিশাকদল গ্রাম। বিলটি যেন বাসিন্দাদের যাতায়াতের গণ্ডি এঁকে দিয়েছে। তাই নৌকাই ভরসা। বিলের নির্দিষ্ট একটি ঘাটে এপার থেকে ওপার পর্যন্ত একটি মোটা দড়ি বাঁধা থাকে। দাঁড়ের বদলে সেই দড়ি ধরেই নৌকায় চলে পারাপার। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সে নৌকা যাতায়াত করলেও রাতে বন্ধ থাকে। গ্রামের বাসিন্দা বিশ্বজিৎ বর্মন বলেন, রাতবিরেতে গ্রামের কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে খুবই চিন্তায় পড়তে হয়। তখন অনেকটা ঘুরপথে যেতে হয়। তাঁর কথায়, শিমুলবাড়ি হয়ে সেই রাস্তা ধরে যাতায়াতে অনেক সময় ব্যয় হয়। তাই খুব প্রয়োজন ছাড়া কেউ ওই রাস্তায় পা বাড়ান না। গৃহবধূ যমুনা বর্মন বলেন, এই গ্রাম থেকে সাহেবগঞ্জ খুবই কাছে। সাহেবগঞ্জে দিনহাটা-২ ব্লক আধিকারিকের অফিস রয়েছে। কিন্তু বিলের কারণে আমরা এখনও অনেক দূরে রয়ে গিয়েছি। গ্রামের আরেক বাসিন্দা দ্বিজেন্দ্র বর্মন বলেন, বর্ষায় জীবন হাতে নিয়ে পারাপার করতে হয়। এর আগে বেশ কয়েকবার দুর্ঘটনাও ঘটেছে। তাই এখানে একটা সেতুর খুবই দরকার। কুটিশাকদলের বাসিন্দারা আরও  জানান, গ্রামের অনেক ছাত্রছাত্রী সাহেবগঞ্জ হাইস্কুলে পড়তে যায়। তাদেরও রোজ নৌকায় যাতায়াত করতে হয়। তাই ছোটদের নিয়ে চিন্তায় থাকতে হয় বলে জানান গ্রামের অপর বাসিন্দা শান্তি বর্মন। সাহেবগঞ্জ হাইস্কুলের পড়ুয়া শংকর বর্মন, সুপ্রিয়া বর্মন জানায়, নয়ারছড়ার কারণে স্কুলে যাওয়ার জন্য অনেকটা আগে বাড়ি থেকে বের হতে হয়। আবার ফিরতেও দেরি হয়ে যায়। নৌকার দায়িত্বে থাকা মহেন্দ্র বিশ্বাস বলেন, প্রায় কুড়ি বছর ধরে এই পারাপারের কাজ করছি। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে এই কাজ। তিনি জানান, বর্ষায় এই বিলের চেহারা বদলে যায়। তখন আর দড়ি ধরে টান মেরে পারাপার করা যায় না। সেতুর প্রয়োজনীয়তার কথা স্বীকার করে নিয়েছেন স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য লাভলি মোদক। তিনি বলেন, বিষয়টি আগেই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হয়েছে।

- Advertisement -