তিস্তায় নৌকাডুবি, নিখোঁজ ৭

লাটাগুড়ি: ভরা তিস্তায় নৌকাডুবির ঘটনায় নিখোঁজ হলেন ৭ জন। সোমবার সন্ধ্যায় মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে মালবাজার ব্লকের চ্যাংমাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়।

নিখোঁজদের প্রত্যেকের বাড়ি চ্যাংমারি গ্রাম পঞ্চায়েতের শান্তির মোড় এলাকার৷ ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় সিভিল ডিফেন্স, পুলিশ, ব্লক প্রশাসনের কর্মী ও আধিকারিকরা। তিস্তায় স্পিড বোট নামিয়ে তল্লাশি শুরুর চেষ্টা করা হলেও অন্ধকার হয়ে যাওয়ার কারণে তল্লাশি অভিযানে শুরু করা যায়নি। স্থানীয় সূত্রে ৭ জনের ডুবে যাবার খবর পাওয়া গেলেও সরকারিভাবে ৫ জনের ডুবে যাবার খবর স্বীকার করা হয়। পাহাড়ে লাগাতার বৃষ্টি এবং গজলডোবা তিস্তা ব্যারেজ থেকে জল ছাড়ার ফলে এখন ফুলে-ফেঁপে রয়েছে তিস্তা।

- Advertisement -

মাল পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি মহুয়া গোপ বলেন, এদিন বিকেলে চ্যাংমারি গ্রাম পঞ্চায়েতের শান্তির মোড় এলাকার বাসিন্দা সোনু মিস্ত্রির নৌকা করে এলাকার মোট ৭ জন গোরু দেখাশোনার জন্য তিস্তা নদীর ভক্তের চড় এলাকায় গিয়েছিলেন। ফেরার পথে তিস্তার প্রবল জলের স্রোতে নৌকাটি ডুবে যায়। তখনই নৌকায় থাকা ৭ জন যাত্রী নদীতে তলিয়ে যান৷ সেসময় তিস্তা নদীতে থাকা অন্য নৌকার যাত্রীরা প্রথম এই নৌকাডুবির ঘটনাটি দেখতে পান।

এরপর প্রাথমিকভাবে অন্য নৌকার যাত্রীরাই নিখোঁজদের খোজ শুরু করেন। কিন্তু তিস্তা নদীর জলের তোড় এতটাই বেশি ছিল প্রাথমিক খোঁজাখুজির পর কাউকেই উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। নিখোঁজরা হলেন- সুনীল মিস্ত্রি, দীপক দাস, হরলাল দাস, দীপক দাস, কানন দাস, অধীর দাস, সূর্য মন্ডল। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, যেভাবে তিস্তাতে এদিন নৌকাডুবির ঘটনা ঘটেছে, তাতে নিখোঁজদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা কম।

মালবাজারের মহকুমা শাসক শান্তনু বালা জানান, ঘটনাস্থলে সিভিল ডিফেন্স পৌঁছেছে। নিখোঁজদের উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিনের ঘটনার পর ময়নাগুড়ি, জলপাইগুড়ি সদর ব্লক প্রশাসনকে নিখোঁজদের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে৷ এদিকে ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই ওই এলাকাতে শয়ে শয়ে মানুষ ভিড় জমান। এলাকায় জেলা প্রশাসনের উচ্চপদস্ত কর্তা ও জনপ্রতিনিধিরা পৌঁছেছেন।