সুচন্দন কর্মকার, কালিয়াগঞ্জ : কালিয়াগঞ্জের রাধিকাপুর টাঙন নদীপাড়ে পর্যটনকেন্দ্রের ময়দানে পিকনিক করতে আসা মানুষের মনোরঞ্জনের জন্য নৌকোবিহার ঘিরে প্রশ্নের মুখে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। টাঙন নদীর বুকে স্থানীয় বাসিন্দার উদ্যোগে এই নৌকাবিহারের ব্যবস্থা চলছে। আশ্চর্যের বিষয়, দীর্ঘদিন ধরে এমন ব্যবস্থা চলে এলেও বিষয়টি নাকি জানা নেই জেলাপরিষদ বা পঞ্চায়েত সমিতির কর্মকর্তাদের। তাঁদের এই শীতঘুম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই। তবে যাত্রী নিরাপত্তা সুনিশ্চিত না করেই টাঙননদীর বুকে নৌকোবিহার বন্ধ করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।

প্রতিবছর শীতের মরশুমে রাধিকাপুর রেল সেতুর পূর্বদিকের ময়দানে পিকনিক করতে ভিড় জমান অনেকে। কালিয়াগঞ্জ ছাড়াও আশপাশের এলাকা থেকে বহু মানুষ আসেন এখানে পিকনিক করতে। টাঙনের পাড়ে এই ময়দানকে সরকারি উদ্যোগে পর্যটনকেন্দ্র হিসাবে গড়ে তোলা হচ্ছে। কালিয়াগঞ্জের প্রয়াত বিধায়ক প্রমথনাথ রায় মন্ত্রীসভার সদস্য থাকার সময়ে রাধিকাপুর পিকনিক ময়দানকে পর্।টনকেন্দ্র রূপে গড়ে তুলতে উদ্যোগী হন। এই পর্যটনকেন্দ্রের জন্য বিএডিপি তহবিল থেকে ৮৪ লক্ষ টাকা অনুমোদন দেওয়া হয়। সেই তহবিলের প্রথম পর্যায়ে ২৩.৫ লক্ষ টাকায় আংশিক পরিকাঠামো নির্মাণ করা হয়। ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে উদ্বোধন হয় এই পর্যটনকেন্দ্রের।

জেলাপরিষদের মাধ্যমে দ্বিতীয় পর্যায়ে এই পর্যটনকেন্দ্রের কিছু অংশে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ হয়েছে। এখনও বহু কাজ বাকি। এই অবস্থায় পিকনিক করতে আসা মানুষের কাছে মনোরঞ্জনের জন্য নৌকোবিহার বেশ জনপ্রিয়। ১০ টাকা মাথাপিছু নিয়ে নৌকোয় চাপিয়ে মিনিট ১৫ নদীর বুকে ঘোরানো হয়। এই ব্যবস্থা নিয়ে এমনিতে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু প্রশ্ন নিরাপত্তা নিয়ে। জলে টইটুম্বুর নদীতে নৌকো উলটোলে প্রাণহানি নিশ্চিত। সরকারি নিয়মে যে কোনো জলযানে লাইফ জ্যাকেট থাকে যাত্রীদের। এখানে তার বালাই নেই। শীতের মরশুমে প্রতিদিন রাধিকাপুরে পিকনিক করতে আসছে মানুষ।

রবিবার সহ ছুটির দিনগুলিতে প্রচুর সংখ্যায় আসে পিকনিক দল। এই পিকনিক পার্টির একাংশ নৌকোবিহারে মেতে উঠছেন। বিপদের কথা মাথায় রেখে অনেকেই এড়িয়ে যাচ্ছেন এই নৌকোবিহার। সচেতন এই মানুষেরাই আশঙ্কা প্রকাশ করছেন, শখের নৌকোবিহার বিপদের কারণ হতে পারে। কালিয়াগঞ্জ শহর থেকে আসা সত্যেন কুণ্ডু নামে এক ব্যক্তি বলেন, পরিকাঠামোগত অনেক সমস্যা হচ্ছে রাধিকাপুরে পিকনিকে এসে। কিন্তু চিন্তার কারণ এই নৌকোবিহার। বহু মানুষ শখের বশে সপরিবারে নৌকোয় চাপছেন। যদি নৌকো মাঝনদীতে উলটে যায়, তাহলে প্রাণহানি নিশ্চিত।

অনুপ মহন্ত নামে এক ব্যক্তি বলেন, নিরাপত্তার স্বার্থে এই নৌকোবিহার বন্ধ হওয়া দরকার। নৌকো চালিয়ে যে ব্যক্তি দুপয়সা রোজগার করছেন, তাঁর আয়ের পথ বন্ধ হবে। এটা কষ্টের হলেও মানুষের প্রাণের নিরাপত্তার স্বার্থ সবার আগে। তাই প্রশাসনের উচিত নৌকোবিহার বন্ধে পদক্ষেপ করা। রাধিকাপুর পর্যটনকেন্দ্রের পরিকাঠামো গড়েছে জেলাপরিষদ। দেখভালের দায়িত্বে কালিয়াগঞ্জ পঞ্চায়েত সমিতি। জেলাপরিষদের কো-মেন্টর অসীম ঘোষ বলেন, বিষয়টি জানা ছিল না। মানুষের নিরাপত্তা অবশ্যই আগে। ব্লক প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে এনিয়ে পদক্ষেপ করা হবে। এ প্রসঙ্গে পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি দীপা সরকার বলেন, পিকনিকে আসা মানুষদের নিরাপত্তার কথা সবার আগে। নৌকোটি কার, সেটা খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনে তাঁকে বেআইনিভাবে নৌকোয় যাত্রী তুলতে নিষেধ করা হবে।