ল্যাপটপ চুরির ‘অপবাদ’, ছাত্রের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারে রহস্য

240

রায়গঞ্জ: দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রকে ল্যাপটপ চুরির অপবাদ দিয়েছিলেন স্কুলের শিক্ষক। অভিযোগ, তাকে হুমকিও দেওয়া হয়। এরপর থেকেই নিখোঁজ ছিল ১৭ বছরের পড়ুয়া নিলয় বসু। মঙ্গলবার তার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে রায়গঞ্জের মারাইকুরা গ্রাম পঞ্চায়েতের দক্ষিণ কসবা এলাকায়। এদিন সকালে বাড়ির অদূরে কসবা পুলিশ ব্যারাক সংলগ্ন মাঠে একটি গাছ থেকে ওই ছাত্রের ঝুলন্ত দেহ মেলে। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রায়গঞ্জ মেডিকেল ও হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

দেবীনগর কৈলাশচন্দ্র রাধারাণী বিদ্যাপীঠের পড়ুয়া ছিল নিলয়। ওই স্কুলেরই বিজ্ঞান শাখার শিক্ষক কৌশিক ঘোষের ভাড়া বাড়ি থেকে তাঁর ল্যাপটপটি চুরি হয়। ওই শিক্ষক স্কুলের কাছেই চন্দন রায় নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে ভাড়া থাকেন। বাড়ির মালিকের ভাই অলোক রায় রায়গঞ্জ থানার প্রাক্তন পুলিশ অফিসার। মৃত ওই ছাত্রের বাবা মানিক বসুর অভিযোগ, তাঁর ছেলেকে খুন করা হয়েছে। কিন্তু রায়গঞ্জ থানার পুলিশ খুনের অভিযোগ নেয়নি। তাই রায়গঞ্জ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি। থানায় অভিযোগ না নেওয়া পর্যন্ত ছেলের দেহের ময়নাতদন্ত করতে দেওয়া হবে না বলেও জানিয়েছেন তিনি। মানিকবাবুর দাবি, ছেলের স্কুলের রসায়নের শিক্ষক কৌশিক ঘোষ তাঁর ছেলেকে ল্যাপটপ চুরির অপবাদ দিয়েছিলেন। এমনকি ওই শিক্ষক এবং এক প্রাক্তন পুলিশ অফিসার অলোক রায় সহ কয়েকজন যুবক তাঁর বাড়িতে গিয়ে ছেলেকে হুমকি দিয়ে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান। তারপরই ছেলের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

- Advertisement -

অভিযুক্ত শিক্ষক কৌশিক ঘোষ জানান, তাঁর ল্যাপটপ চুরি হয়েছে। রায়গঞ্জ থানায় জানিয়েছেন। কিন্তু চুরির ব্যাপারে তিনি কোনও ছাত্রের নামে অভিযোগ করেননি। তাছাড়াও মৃত ছাত্রের বাড়িতে যাওয়ার কথা অস্বীকার করেছেন তিনি। তাঁকে ফাঁসানোর চেষ্টা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। অভিযুক্ত পুলিশ অফিসারের স্ত্রী ললিতা রায় জানিয়েছেন, ল্যাপটপটি ওই ছাত্রটিই চুরি করেছিল। ওরা যে খুনের অভিযোগ করছে তা ঠিক নয়।

রায়গঞ্জ থানার আইসি সুরজ থাপা জানান, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে না আসা পর্যন্ত কোনও মন্তব্য করা সম্ভব নয়। জেলা পুলিশ সুপার সুমিত কুমার জানিয়েছেন, ঘটনার তদন্ত চলছে।