কোচবিহারে তৃণমূল কর্মীর দেহ উদ্ধার

238

তুফানগঞ্জ: কোচবিহারের তুফানগঞ্জ ২ নম্বর ব্লকের সিংগীমারি এলাকা থেকে উদ্ধার এক তৃণমূল কর্মীরা রক্তাক্ত মৃতদেহ। বৃহস্পতিবার সকালে রাস্তার পাশের একটি জমি থেকে তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার হয়। মৃতদেহের পাশে পড়ে ছিল ছুরি ও বিজেপির পতাকা। মৃত ব্যাক্তির নাম খালেদ মিয়াঁ (৭০)। মৃত ব্যক্তি তৃণমূলের কর্মী বলে দাবি তৃণমূলের।

মৃতের পরিবারের অভিযোগ, বিজেপির সভায় যেতে চাননি বলে ৭০ বছরের খালেক মিঞাঁকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে খুন করে বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা। অভিযোগ অস্বীকার করে বিজেপির দাবি, তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কারণেই ওই ঘটনা ঘটেছে।

- Advertisement -

এদিন মৃতের পুত্রবধু হানুফা বিবি জানান, বুধবার রাত সাড়ে সাতটার দিকে তাঁর শ্বশুর পান সুপারী কিনতে বাড়ি থেকে বের হন। কিন্তু তারপর দীর্ঘক্ষণ বাড়ি না ফেরায় তার ফোনে ফোন করা হলে ফোনের সুইচ অফ বলে। বৃহস্পতিবার সকালে এক প্রতিবেশির কাছে বাড়ি থেকে কিছু দূরে মৃতদেহ পরে থাকার খবর পেয়ে তাঁরা ছুটে যান ও মৃত অবস্থায় পরে থাকতে দেখেন। মৃতের পাশে বিজেপি দলের পতাকা ও একটি ছুড়িও তাঁরা দেখেন। পরে পুলিশ এসে মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে যায়।

মৃত খালেদ মিয়া তাদের সংখ্যালঘু সেলের রামপুর অঞ্চল কোর কমিটির সদস্য বলে দাবি করেন তৃণমূল নেতা ও মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। এদিন খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান। সেখান থেকে মৃতের বাড়িতেও যান। সেখানে কথা বলেন মৃতের পরিবারের সাথে।

অন্যদিকে, খবর পেয়েই সকাল থেকে দলে দলে তৃণমূলের কর্মী সমর্থকরা সেখানে হাজির হন। ঘটনাস্থললে আসেন তৃণমূল নেতা তথা বিধায়ক ফজল করিম মিয়াঁ, তৃণমূলের জেলা কমিটির সহ সভাপতি মানিক দে, দলের তুফানগঞ্জ ২ ব্লক সভাপতি ধনেশ্বর বর্মা প্রমুখ।

এদিন মন্ত্রী মৃত খালেদ মিয়াঁর পরিবারের সঙ্গে কথা বলে বলেন, ‘এই ঘটনার সুবিচার যাতে হয় সেজন্য তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে রিপোর্ট পাঠাবেন।’

অপরদিকে, বিজেপির তুফানগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রীক সংযোজক উৎপল দাস জানান, জালধোয়াতে তাদের একটি সভা হওয়ার কথা ছিল। তা বানচাল করতে মানুষকে বিভ্রান্ত করতে ও বিজেপি কর্মীদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসাতেই তৃণমূলীরা ঐ ব্যক্তিকে মেরে তার মৃত দেহের পাশে বিজেপির পতাকা ফেলে রেখেছে। তারা এই ঘটনার সঠিক তদন্ত চান ও প্রকৃত দোষীদের খুজে বের করে উপযুক্ত শাস্তি চান।

পাশাপাশি, বক্সিরহাট থানার ওসি অ্যান্থনী হোড়া জানান, মৃতদেহের বাঁদিকে ও পেটের নিচে ছোট দুটি কাটা দাগ রয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে খুনের ঘটনা বলেই মনে হয়। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। এলাকায় কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।