তুফানগঞ্জে তৃণমূলকর্মীর দেহ উদ্ধার, জখম এক

241

তুফানগঞ্জ: এক তৃণমূলকর্মী খুনের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়াল চিলাখানা ১ গ্রাম পঞ্চায়েতের চিলাখানায়। মৃত ওই তৃণমূলকর্মীর নাম শাহিনুর রহমান(৩২)। বুধবার সকালে তাঁর দেহ চিলাখানা বাজার থেকে কিছুটা দূরে এক ভূট্টা খেত উদ্ধার করা হয়। ঘটনায় আহত হয় প্রসেনজিৎ সাহা নামে আরও এক তৃণমূলকর্মী। বর্তমানে কোচবিহারের এক বেসরকারি নার্সিংহোমে তিনি চিকিৎসাধীন। উত্তেজিত জনতা ঘটনাস্থলে ভাঙচুর চালিয়ে একটি বাইকে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরবর্তীতে তুফানগঞ্জ থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। অন্যদিকে, এলাকায় পৌঁছন তৃণমূল কংগ্রেস নেতা রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। তিনি মৃতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন। এই ঘটনায় দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে তুফানগঞ্জ থানার পুলিশ।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত কয়েকদিন ধরেই এলাকায় তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে গন্ডগোল চলছিল। এর জেরে এলাকা অশান্ত হয়ে পড়ে। মঙ্গলবার সন্ধ্যার সময় এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়ায়। এরপর থেকেই তৃণমূলের দুই কর্মীকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। পুলিশ ও স্থানীয়দের তৎপরতায় রাতেই প্রসেনজিৎকে উদ্ধার করে কোচবিহারের এক বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।পরে এদিন সকালে শাহিনুরের দেহ উদ্ধার হয়। মৃতদেহে একাধিক ধারালো অস্ত্রের কোপানোর দাগ রয়েছে। পাশাপাশি তাঁর হাতও বাঁধা ছিল।

- Advertisement -

চিলাখানা ১ অঞ্চল তৃণমূল কংগ্রেসের কার্যকরি সভাপতি ইন্দাদুল হক বলেন, ‘বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা কয়েকদিন থেকেই এলাকায় সন্ত্রাস চালাচ্ছে। গত রাতেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। বিজেপির লোকজন চিলাখানায় আমাদের কর্মীকে খুন করেছে। আমরা এই ঘটনার তদন্ত চাইছি। পাশাপাশি দোষীদের গ্রেপ্তার করে কঠোর সাজার ব্যবস্থা করুক প্রশাসন।’ যদিও বিজেপি এই ঘটনা অস্বীকার করেছে। নাটাবাড়ি বিধানসভায় বিজেপির কো-কনভেনার চিরঞ্জিৎ দাস বলেন, ‘এইরকম কোনও ঘটনা জানা নেই। বিষয়টি খোঁজ খবর নিয়ে দেখছি।‘

তুফানগঞ্জের এসডিপিও জ্যাম ইয়াং জিম্বা বলেন, ‘একটি খুনের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার তদন্ত চলছে। এই ঘটনায় দুই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরিস্থিতি আপাতত নিয়ন্ত্রনেই রয়েছে।‘

ভোট গণনা মিটে যাওয়ার পর থেকে রাজনৈতিক হিংসার ঘটনার খবর মিলছে তুফানগঞ্জ মহকুমাজুড়ে।  এই পরিস্থিতিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নিয়ে সর্বদলীয় বৈঠক ডাকল প্রশাসন। তুফানগঞ্জ থানা সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজনৈতিক হিংসা থামাতে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী এসেছে।

তুফানগঞ্জের মহকুমা শাসক কৌশিক সিনহা বলেন, ‘জনগণকে কোভিড পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক হিংসা থামাতে এদিনের সর্বদলীয় বৈঠক ডাকা হয়েছে।‘ তৃণমূলের কোচবিহার জেলা সহ সভাপতি প্রণব কুমার দে বলেন, ‘আমরা আমাদের দলের কর্মীদের ঘরে থাকার জন্য বলেছি। আমরা চাই এলাকায় শান্তি থাকুক। বিজেপি কর্মীরাও যেন বাড়িতে থাকেন।‘ বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় চক্রবর্তী বলেন, ‘আমরা শান্তির পক্ষে। এই পরিস্থিতির মধ্যে সবাই যেন স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে।‘ সিপিএমের রাজ্য কমিটির সদস্য তমসের আলী বলেন, ‘কেউ রাজনৈতিক হিংসার বলি হোক, এই নীতিতে আমরা বিশ্বাসী নই।‘