গৃহবধূর গলার নলিকাটা দেহ উদ্ধার, চাঞ্চল্য

438

বর্ধমান: স্বামীর অসৎ কাজকর্মের প্রতিবাদ করতেন স্ত্রী। এর জেরে গলার নলি কেটে স্ত্রীকে খুনের অভিযোগ উঠল স্বামীর বিরুদ্ধে।

সোমবার সকালে পূর্ব বর্ধমানের খণ্ডঘোষ থানার সুলতানপুর গ্রামের একটি জমি থেকে উদ্ধার হয় ৩৩ বছর বয়সী বধূ কানন বাগদির গলাকাটা মৃতদেহ। বধূর বাবার বাড়ির লোকজনের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তাঁর স্বামী শ্রীমন্ত বাগদিকে আটক করেছে। পৈশাচিক এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনার প্রকৃত কারন কী এবং ঘটনার সঙ্গে অন্য আরও কেউ জড়িত রয়েছে কিনা তার তদন্ত শুরু করেছে খণ্ডঘোষ থানার পুলিশ।

- Advertisement -

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গৃহবধূর বাবার বাড়ি খণ্ডঘোষের গুইড় গ্রামে। বছর ১৩ আগে খণ্ডঘোষেরই সুলতানপুর গ্রামের যুবক শ্রীমন্ত বাগদির সঙ্গে কাননের বিয়ে হয়। দম্পতি নিঃসন্তান। এদিন সকালে শ্বশুরবাড়ির অদূরের একটি জমিতে গলার নলিকাটা অবস্থায় তাঁর দেহ পড়ে থাকে দেখা যায়। কিছুটা দূরে তিল জমিতে কাজ করার সময়ে বধূর শ্বশুরবাড়ির আত্মীয় গঙ্গাধর হাজরা প্রথম ওই মৃতদেহটি দেখতে পান।

তিনি কাছে গিয়ে তিনি নিশ্চিত হন মৃত মহিলা তাঁদের পরিবারেরই বৌমা। তিনি দ্রুত বাড়িতে খবর দেন। ঘটনা জানাজানি হতেই সুলতানপুর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কল্যাণ সিংহরায়, এসডিপিও আমিনুল ইসলাম খান, সিআই সঞ্জয় কুণ্ড, ওসি প্রসেনজিৎ দত্ত সহ অন্য পুলিশ কর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। একই সময়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান বধূর বাবার বাড়ির লোকজন।

মৃতদেহ খতিয়ে দেখে পুলিশ কর্তারা নিশ্চিত হন, কোনও আক্রোশে ধারালো কিছু দিয়ে গলার নলি কেটে বধৃকে নৃশংশভাবে খুন করা হয়েছে। এদিনই মৃতদেহ বর্ধমান হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্তের পাঠিয়ে পুলিশ এই রহস্যজনক খুনের ঘটনার তদন্তে নামে।মেয়েকে নৃশংস ভাবে হত্যা করা করা হয়েছে জানতে পেরে বেলায় খণ্ডঘোষ থানায় পৌঁছান বধূর বাবা দেবু মাঝি।

তিনি পুলিশকে অভিযোগে জানিয়েছেন, তাঁর জামাই শ্রীমন্ত বাগদি বিভিন্ন রকম অসৎ এবং অন্যায় কাজকর্ম করত। স্বামীর অসৎ কাজকর্ম মেনে নিতে না পেরে তাঁর মেয়ে কানন প্রতিবাদ করত। এই কারণে জামাই ও মেয়ের শ্বশুর বাড়ির লোকজন কাননকে সহ্য করতে পারত না। জামাই সহ শ্বশুরবাড়ির সবাই মেয়ের ওপর নির্যাতন চালাত।

দেবু মাঝি পুলিশ কর্তাদের জানান, জামাই শ্রীমন্তর অসৎ কাজের প্রতিবাদ করার জন্য তাঁর মেয়েকে খুন করা হয়েছে। এই খুনের ঘটনা তাঁর জামাই ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ তাঁর। আর সেই কাজে শ্বশুরবাড়ির লোকজনেরও মদত রয়েছে। মেয়ের মৃত্যুর জন্য দেবু মাঝি এদিনই তাঁর জামাই শ্রীমন্ত বাগদি সহ শ্বশুর বাড়ির ১০ সদস্যের নামে খণ্ডঘোষ থানায় অভিযোগ দায়ের করে দৃষ্টান্তমূলক সাজার দাবি করেছেন।

যদিও পুলিশ কর্তাদের আশঙ্কা, খুনের ঘটনার নেপথ্যে অন্য কোন কারণও থাকতে পারে। তবে বধূর বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ শ্রীমন্তকে আটক করে থানায় নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। খুনের কাজে ব্যবহৃত অস্ত্রের কোনও হদিস পাওয়া হয়নি। পুলিশ সেই অস্ত্রেরও খোঁজ চালাচ্ছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কল্যাণ সিংহরায় জানিয়েছেন, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। কী কারণে খুন তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ চলানো হচ্ছে।